1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

ভারতে সন্ত্রাসীদের নিশানা এবার বৌদ্ধ মন্দির

ভারতের বিহার রাজ্যের বুদ্ধগয়ার মহাবোধি মন্দিরে সন্ত্রাসীদের ধারাবাহিক বিস্ফোরণের পর সেই একই চিত্রনাট্যের পুনরাবৃত্তি৷

ইন্ডিয়ান মুজাহিদিনের ধৃত এক জঙ্গির স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে গোয়েন্দা বিভাগ বারংবার আগাম সতর্কতা জারি করা সত্ত্বেও মন্দিরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কেন গুরুতর ত্রুটি ছিল?

একেই হয়ত বলে চোর পালালে বুদ্ধি বাড়ে৷ গোয়েন্দা-পুলিশ, অ্যান্টি-টেররিস্ট স্কোয়াড, নজরদার বাহিনীর চোখে ধুলো দিয়ে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে জঙ্গিরা কীভাবে একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, তা নিয়ে ধন্দ দূর হচ্ছে না৷ তা না হলে বুদ্ধগয়ায় এই ধরণের ধারাবাহিক বিস্ফোরণ হতে পারে, কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা বিভাগের আগাম সতর্কতা জারি করা সত্ত্বেও কেন উপযুক্ত নিরাপত্তা ছিল না – তা বোধগম্য নয়৷

পুনে শহরের জার্মান বেকারি বিস্ফোরণকাণ্ডে ধৃত ইন্ডিয়ান মুজাহিদিনের একজন জঙ্গি গত জানুয়ারী মাসে দিল্লি পুলিশের কাছে প্রকাশ্যে স্বীকার করেছিল যে, তাদের পরবর্তী হামলার নিশানা বৌদ্ধ মন্দির৷

প্রায় বছর খানেক ধরেই বৌদ্ধ মন্দিরে হামলার হুমকি দিয়ে আসছে জেহাদি গোষ্ঠীগুলি৷ মাত্র সপ্তাহ খানেক আগে পুলিশের ডেপুটি ইন্সপেক্টর বিহারের বিখ্যাত বুদ্ধমন্দিরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড়সড় ফাঁক আছে বলে মন্দির পরিচালন কর্তৃপক্ষকে হুঁশিয়ারও করে দিয়েছিলেন৷

এই যেমন, নিরাপত্তা কর্মীরা জানেন না মন্দিরের প্রধান প্রধান ফটকে মেটাল ডিটেক্টর কীভাবে ব্যবহার করতে হয়৷ ক্লোজ-সার্কিট ক্যামেরা মনিটর ঠিকমতো মনিটর করা হয় না৷ হামলার পর দেখা গেছে ১৬টি সিসিটিভি ক্যামেরার মধ্যে মাত্র একটি ক্যামেরা সচল ছিল৷ ঠিকমতো রাখা হয় না সিসিটিভি ফুটেজও৷ অ্যান্টি-টেররিস্ট স্কোয়াডের ১৩ জন নিরাপত্তা কর্মী ২৪ ঘণ্টা থাকে মহাবোধি মন্দিরের বাইরে এবং ভেতরে থাকে বেসরকারি নিরাপত্তা কর্মী৷

প্রায় বছর খানেক ধরে ভারতের বৌদ্ধ মন্দিরগুলির হামলার হুমকি দিয়ে আসছিল জেহাদি গোষ্ঠীগুলি৷ ২০১২ সালের জুলাই মাসে আল-কায়েদার সঙ্গে যুক্ত পাকিস্তানের তেহরিক-ই-তালিবান মিয়ানমারে মুসলিম সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচেরের বদলা নেবার কথা বলে৷ পাকিস্তান-ভিত্তিক লস্কর-ই-তৈয়বার প্রধান হাফিজ মহম্মদ সাঈদ প্রকাশ্যে ভারতের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে মিয়ানমারে মুসলিম নিধনে ভারতের হাত আছে৷ ভারতীয় গোয়েন্দাদের ধারণা, গোটা বিশ্বের দৃষ্টি টানতেই বৌদ্ধ তীর্থস্থানগুলিকে হামলার জন্য বেছে নিয়েছে জেহাদিরা৷

ভগবান বুদ্ধের বুদ্ধত্ব অর্জনের তীর্থভূমি এই মহাবোধি মন্দির৷ দেশ-বিদেশ থেকে বিশেষ করে চীন, জাপান, শ্রীলঙ্কাসহ সমগ্র দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া থেকে হাজার হাজার বৌদ্ধ সারা বছর বুদ্ধগয়ায় যান৷ ইউনেস্কোর হেরিটেজ হিসেবে চিহ্নিত শান্তির মন্দিরে জঙ্গি হামলায় সকলে বিস্মিত৷ কারো কারো মতে, এটা বিহারের মাওবাদী হামলাও হতে পারে৷

অন্যদিকে, মহাবোধি মন্দিরে জঙ্গি হামলা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনীতি৷ বিজেপি এ জন্য আগাগোড়া অভিযোগের আঙুল তুলেছে রাজ্যের শাসকদল সংযুক্ত জনতা দলের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের দিকে৷ নীতীশ বিরোধী আরজেডি নেতা লালু প্রসাদ নীতীশের কথিত ব্যর্থতায় মগধ বনধের ডাক দিয়েছেন৷ কংগ্রেস নেতা দিগ্বিজয় সিং-এর সঙ্গে বিজেপি নেতা অমিত শাহের অযোধ্যায় রাম মন্দির পরিদর্শনের যোগসূত্র খোঁজার চেষ্টা করেন৷ এই ধরণের রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার চোরাবালিতে ডুবে যায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা৷ হামলার পর যথারীতি তদন্ত হয়, কিন্তু তদন্ত রিপোর্টের সুপারিশ পুরোপুরি কার্যকর হয় না কেন – তার কোনো সদুত্তর নেই৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়