1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

ভারতে যে কারণে অ্যাসিড হামলা বাড়ছে

কঠোর আইন এবং শাস্তি সত্ত্বেও ভারতে অ্যাসিড সন্ত্রাস বেড়েই চলেছে৷ দক্ষিণ এশিয়ার দেশটিতে অ্যাসিড সহিংসতার কারণ এবং প্রতিরোধের উপায় নিয়ে ডয়চে ভেলের বিশেষ প্রতিবেদন৷

বিয়ের কয়েকদিন পর এক রাতে প্রজ্ঞা প্রসুন ভারতের বেনারস থেকে ট্রেনে নতুন দিল্লিতে যাচ্ছিলেন৷ গভীর ঘুমে থাকা প্রজ্ঞার উপর সেরাতে অ্যাসিড ছুড়ে মারে তারই এক দূরসম্পর্কের পুরুষ আত্মীয়৷

‘‘আমি প্রথম বুঝতেই পারিনি কি হচ্ছিল৷ আমরা চামড়া পুড়ে যাচ্ছিল, শরীর থেকে ধোয়া বেরুচ্ছিল৷ গন্ধ থেকে মনে হচ্ছিল, আমার শরীরের উপর একটা টায়ার পোড়া হচ্ছে'', বলেন প্রসুন, তাঁর বয়স তখন সবে ২২ বছর৷

প্রসুন তাঁর আত্মীয়ের বিয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন৷ আর তাই প্রতিহংসার বশে তাঁর শরীরে অ্যাসিড ঢেলে দেন সেই আত্মীয়৷ অ্যাসিডে তাঁর শরীর তখন ৪৭ শতাংশ পুড়ে যায়৷

সেই ঘটনার পর দশবছর পেরিয়ে গেছে৷ প্রসুন এখনো এক চিকিৎসকের কাছে কৃতজ্ঞ যে কিনা সেরাতে ট্রেনে তার পাশের কামরায় ছিলেন৷ প্রসুন মনে করেন, সেই নারী চিকিৎসক তাঁর জীবন বাঁচিয়েছেন৷

‘‘তিনি সঙ্গে সঙ্গে বুঝেছিলেন আমার উপর অ্যাসিড ছোড়া হয়েছে৷ তাই ট্রেনে থাকা সবাইকে অনুরোধ করেন আমার শরীরে যতটা সম্ভব পানি ঢালতে, যাতে অ্যাসিড ধুয়ে যায়'', ডয়চে ভেলেকে বলেন প্রসুন, সঙ্গে যোগ করেন, ‘‘আমার শরীরের কাপড় অ্যাসিডে পুড়ে গিয়েছিল৷ তিনি তখন আমার শরীর ঢাকতে তাঁর স্কার্ফ খুলে দেন৷'’

অ্যাসিড হামলা বাড়ছে

প্রসুন ভারতে অ্যাসিড হামলার শিকার মেয়েদের কষ্ট বোঝেন, যেখানে হামলার পর উপযুক্ত চিকিৎসা পেতে ভুক্তভোগীদের অনেক ভোগান্তির শিকার হতে হয়৷ তিনি বলেন, ‘‘ভারতে বিশেষায়িত বার্ন হাসপাতালের সংখ্যা খুব কম এবং সেগুলো সবসময় পোড়া রোগীতে ভর্তি থাকে৷ আর তাই, সরকারি বার্ন হাসপাতালে ভর্তি হওয়া অ্যাসিড হামলার শিকারদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব৷''

‘‘একজন অ্যাসিড পোড়া রোগীর ক্ষত শুকাতে চার থেকে পাঁচ মাস সময় লাগে'', বলেন প্রসুন৷

পরিসংখ্যান পরিষ্কারভাবে জানাচ্ছে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশটিতে অ্যাসিড হামলা সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে৷ ২০১২ সালে এরকম হামলার আনুষ্ঠানিক সংখ্যা ছিল ১০৬টি, জানিয়েছে ভারতের অ্যাসিড সারভাইভর্স ফাউন্ডেশন (এএসএফআই)৷ ২০১৩ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১১২-এ, আর ২০১৪ সালে ৩৪৯৷ অ্যাক্টিভিস্টরা মনে করেন, গত বছর সেদেশে ৫০০-র বেশি অ্যাসিড হামলার ঘটনা ঘটেছে৷

তবে, প্রসুন মনে করেন এই সংখ্যা অনেক কম, কেননা অ্যাসিড হামলার অনেক ঘটনা আনুষ্ঠানিকভাবে রিপোর্ট করা হয় না৷ তাঁর মতে, ভারতে প্রতিবছর এক হাজারের মতো অ্যাসিড হামলার ঘটনা ঘটছে৷

অডিও শুনুন 11:36

‘অ্যাসিডের সহজলভ্যতা এই সন্ত্রাস বিস্তৃতির বড় কারণ’

‘‘অ্যাসিড হামলায় অনেক সময় ভুক্তভোগী মারা যান, বিশেষ করে প্রত্যন্তঅঞ্চলে, যেগুলো রিপোর্ট করা হয় না৷ স্বামী বা পরিবারের কেউ অ্যাসিড মারলে কখনো কখনো সেসব ঘটনা চেপে যাওয়া হয়'', বলেন প্রসুন, যিনি বাঙ্গালোরে অ্যাসিড হামলার শিকারদের পুর্নবাসনে কাজ করেন৷

ভারতে অ্যাসিড হামলার শিকারদের অধিকাংশই নারী, জানাচ্ছে অ্যাসিড সারভাইভর্স ট্রাস্ট ইন্টারন্যাশনালের এক রিপোর্ট৷ গত বছর প্রকাশিত রিপোর্টটিতে আরো জানানো হয়েছে, ‘‘পারিবারিক বিষয়াদি, জমি নিয়ে বিরোধ, বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান কিংবা যৌন আহ্বান অগ্রাহ্য করার মতো কারণে অ্যাসিড হামলার ঘটনা ঘটছে৷''

অ্যাসিড হামলার শিকারদের নেটওয়ার্ক

স্টপ অ্যাসিড অ্যাটাকস (এসএএ) ক্যাম্পেইন প্রতিষ্ঠাতা অলোক দিক্ষিত রিপোর্টে প্রকাশিত হামলার কারণগুলোর সঙ্গে একমত পোষণ করেন৷ ভারতের উত্তরের শহর আগ্রাতে তিনি একটি ক্যাফে প্রতিষ্ঠা করেছেন যেটি অ্যাসিড হামলার শিকাররা পরিচালনা করেন৷

‘‘আমরা অ্যাসিড হামলার শিকারদের একটি নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা করেছি৷ আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে তাদের নেতা হিসেবে তৈরি করা৷ বিষয়টা অনেকটা তারাই তাদের প্রতিনিধিত্ব করছেন, তারাই তাদের অধিকারের জন্য লড়ছেন'', ডয়চে ভেলেকে বলেন দিক্ষিত৷

Säureopfer in Bangladesch

বাংলাদেশে অ্যাসিড হামলা শিকার

এসএএ ক্যাম্পেইন ২০১৩ সাল থেকে অ্যাসিড সন্ত্রাস সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টিতে অনলাইন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছে৷ চলতি বছর ডয়চে ভেলের দ্য বব্স প্রতিযোগিতার একটি বিভাগে জুরি অ্যাওয়ার্ড জয় করেছে এই ক্যাম্পেইন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

‘‘আমরা সমাজের পরিবর্তনের দিকে গুরুত্ব দিচ্ছি কেননা আমরা মনে করি, শুধুমাত্র আইন দিয়ে এটা বন্ধ করা সম্ভব নয়৷ এ সব অপরাধ আবেগতাড়িত, এবং অধিকংশ ক্ষেত্রে দেখা যায় ভুক্তভোগীর পরিবারের কোনো সদস্য, সহকর্মী কিংবা বন্ধু এর সঙ্গে জড়িত৷ সমাজে সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে এটা বন্ধ করতে হবে'', বলেন দিক্ষিত৷

তাঁর অনলাইন প্রচারণা ভারতে সাড়া জাগিয়েছে৷ অ্যাসিড হামলার শিকারদের সহায়তায় কখনো কখনো অনলাইনে ‘ক্রাউডফান্ডিংয়ের' মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করেন তিনি৷ দিক্ষিত বলেন, ‘‘২০১৩ সালের দিকে মানুষ অ্যাসিড সন্ত্রাসের ভয়াবহতা নিয়ে আলোচনা শুরু করেন৷ এরপরই আমরা আরো ভালো আইন, নিয়মকানুন এবং হামলার শিকারদের জন্য আরো ভালো সুযোগসুবিধা পেয়েছি৷''

দিক্ষিত মনে করেন, অ্যাসিড হামলা সম্পর্কে ভারতের মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি হচ্ছে এবং একটি ইতিবাচক পরিবর্তনও ঘটছে৷ কিন্তু সেই পরিবর্তন অনুধাবন করতে সময় লাগবে কেননা ভারত অনেক বড় এক দেশ৷

বাকি আছে অনেক কাজ

তবে এএসএফআই-এর মেঘা মিশ্রা মনে করেন, অ্যাসিড সন্ত্রাস প্রতিরোধে সরকারের আরো অনেক কাজ করতে হবে৷ ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেন, ‘‘সবার প্রথমে যা করতে হবে, তাহচ্ছে খুচরা বাজারে অ্যাসিড বিক্রি বন্ধ করা৷ দ্বিতীয় কাজ হচ্ছে, অপরাধীদের বিচারে আরো বেশি সক্রিয় হতে পারে৷ তৃতীয়ত, অ্যাসিড হামলার শিকারদের উপযুক্ত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে কেননা এখনো অনেককে চিকিৎসা গ্রহণে সংগ্রাম করতে হচ্ছে৷''

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ২০১৩ সালে সরকারকে ব্যবস্থাপত্র ছাড়া খুচরা বাজারে ১৮ বছরের বেশি বয়সিদের কাছে অ্যাসিড বিক্রি সীমাবদ্ধ করার নির্দেশ দেন৷ তবে প্রসুন নিয়ন্ত্রকদের সমালোচনা করে জানান, অ্যাসিড বিক্রির ক্ষেত্রে আইনের প্রয়োগে ব্যর্থ হয়েছে তারা৷

ফলে ভারতের সর্বত্রই অ্যাসিড খুচরা বাজারে পাওয়া যায়, জানান তিনি, সঙ্গে যোগ করেন, ‘‘আমি অ্যাসিডের উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা দাবি করছি৷ এটা এমন কোনো দরকারি জিনিস নয়, যা খুচরা বাজারে বিক্রি করা প্রয়োজন৷ অ্যাসিড শুধু ক্ষতিই করে এবং ইতোমধ্যে অনেকের জীবন ধ্বংস করে দিয়েছে৷''

ভিডিও দেখুন 01:56

অ্যাসিড আক্রমণের অর্থ জীবন নেওয়া নয়, নষ্ট করা – আপনি কি এ কথা স্বীকার করেন? আপনার মতামত জানান নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়