1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

ভারতে মহিলা সংরক্ষণ বিলে বাধা অব্যাহত

আন্তর্জাতিক নারী দিবসকে সামনে রেখে আইনসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ বিলটি সোমবার সংসদে পেশ করা হয়৷ আর তা নিয়েই উত্তাল হয়ে ওঠে অধিবেশন৷ বিরোধি দলগুলির দাবি, অনগ্রসর শ্রেণীর জন্য চাই পৃথক সংরক্ষণ৷

default

নতুন বোঝাপড়ায় আসতে বিলের ওপর ভোটাভুটি মঙ্গলবারের জন্য পিছিয়ে দেওয়া হয়৷

সংসদে ও রাজ্য বিধানসভাগুলিতে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ বিলটি ১৪ বছর ধরে যেভাবে বাধা পেয়ে এসেছে, সোমবারেও তার ব্যতিক্রম হয়নি৷ বিলটি পেশ করামাত্র রাষ্ট্রীয় জনতা দল(আরজেডি), সমাজবাদি পার্টি এবং বহুজন সমাজ পার্টির সাংসদরা রাজ্যসভার উচ্চ কক্ষের অধ্যক্ষের মঞ্চে চড়াও হয়ে, বিলের কপি কেড়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলেন৷ ঐ ঘটনার নিন্দা করে কংগ্রেস মুখপাত্র মনু সিংভি সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, যে বিল ভারতের গণতন্ত্র ও ভারতীয় মহিলাদের গর্বের বিষয়, মুষ্টিমেয় দলের অপচেষ্টায় তা পরিণত হলো গণতন্ত্রের লজ্জায়৷

বিরোধী দলগুলির দাবি, সংরক্ষণের মধ্যেই রাখতে হবে দলিত, অনগ্রসর ও সংখ্যালঘুদের জন্য পৃথক সংরক্ষণ৷ না হলে এই সংরক্ষণের ফায়দা তুলবে শুধু সমাজের উচুঁ তলার মহিলারা৷ এই সোরগোলের প্রেক্ষিতে বিলের ওপর ভোটাভুটি মঙ্গলবারের জন্য পিছিয়ে দেওয়া হয়, সম্ভবত একটা বোঝাপড়ায় আসতে৷

তৃণমূল সাংসদ ড. কাকলী ঘোষ দস্তিদার ডয়চে ভেলেকে বলেন, সংরক্ষণের মধ্যে সংরক্ষণের দাবি কালক্ষেপের একটা ছুতোমাত্র৷ বর্তমান বিলটি পাশ করাতে ইতিমধ্যে ১৪-১৫ বছর কেটে গেছে৷ আবার আলোচনা, বিতর্ক, সংসদীয় কমিটি ইত্যাদি করতে গেলে বিল আবার বিশ বাঁও জলে৷ এই ফাঁকে ওরা নিজেদের আসন গোছাবে মাত্র৷ আসলে ওরা চাননা যে, মহিলাদের ক্ষমতায়ন৷

উল্লেখ্য, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে বিলটি পাশ করাতে গেলে দরকার হয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা৷ বলাবাহুল্য সরকারের সেটা আছে৷ কারণ বিলটি সমর্থন করছে বিজেপি, বামদলগুলি ও আরো কিছু দল৷ কিন্ত ভবিষ্যতে ফিনান্স বিল ও অন্য সব বিলের জন্য আরজেডি ও সমাজবাদি পার্টির সমর্থন মনমোহন সিং সরকারের দরকার হতে পারে৷ ঐ দুটি দল বর্তমানে সরকারকে সমর্থন দিচ্ছে বাইরে থেকে৷এখন তাদের মন রাখতে তাই একটা বোঝাপড়ায় আসতে ২৪ ঘন্টা সময় নেন প্রধানমন্ত্রী৷

মহিলা সংরক্ষণ বিলটি প্রথমে আনেন এইচ. ডি দেবেগৌড়ার নেতৃত্বাধীন সংযুক্ত ফ্রন্ট সরকার ১৯৯৬ সালে৷ তারপর সেটি যায় সংসদীয় কমিটিতে৷ এরপর বহুবার বিলটি আনে বিভিন্ন সরকার৷ প্রতিবারই তা বিরোধীতার জন্য আটকে যায়৷ শেষবার বিলটি সংসদে তোলার চেষ্টা হয় ২০০৮ সালে৷

প্রতিবেদক : অনিল চট্টোপাধ্যায়, নতুনদিল্লি

সম্পাদনা : দেবারতি গুহ

সংশ্লিষ্ট বিষয়