ভারতে ভোটের বাজারে পেঁয়াজ নিয়ে রাজনীতি | বিশ্ব | DW | 27.10.2013
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

ভারতে ভোটের বাজারে পেঁয়াজ নিয়ে রাজনীতি

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে পেঁয়াজের বাজারে যেন আগুন লেগেছে৷ এর নেপথ্য কারণ নিয়ে ভোটের বাজার সরগরম৷ বিরোধী পক্ষ এ জন্য দায়ী করেছে সরকারকে৷ সরকারের খাদ্য ও কৃষি মন্ত্রক দুষছে আবহাওয়াকে৷ মাঝখানে পড়ে মধ্যবিত্তরা নাজেহাল৷

সংসদ এবং পাঁচটি রাজ্যে বিধানসভা ভোটের মুখে পেঁয়াজ সংকটে কেন্দ্রীয় সরকারের নাভিশ্বাস৷ আর নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারে পেঁয়াজের ঝাঁজে চোখে জল৷ দিল্লির বাজারে পেঁয়াজের দাম প্রায় ১০০ টাকা ছুঁয়েছে৷ অন্যান্য রাজ্যে পেঁয়াজের দাম গড়ে ৮০ থেকে ১০০ টাকার মত৷ পেঁয়াজের দাম বাড়াটা নতুন নয়৷ আগেও হয়েছে মওকা বুঝে৷ ভোটের বাজারে তো কথাই নেই৷ কেন্দ্রীয় সরকারের খাদ্য ও কৃষি বিভাগ প্রথম কয়েক সপ্তাহ হাত গুটিয়ে বসে থাকে৷ সুযোগ পেয়ে যায় মজুতদার, দালালচক্র আর কালোবাজারিরা৷

কেন্দ্রের কৃষিমন্ত্রীর মতে, অতিবৃষ্টি ও সাইক্লোন এর অন্যতম কারণ৷ কোনো কোনো রাজ্য সরকারের মতে, অনাবৃষ্টি এর কারণ৷ সব মিলিয়ে পেঁয়াজের দাম কমার আশু সম্ভাবনা চোখে পড়ছে না৷ বিদেশ থেকে, মানে চীন, মিশর ও বাংলাদেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করতেও সময় লাগবে৷ পাকিস্তানে পেঁয়াজ রপ্তানি স্থগিত রাখার কথা বলা হয়েছে৷ কেন্দ্রীয় সরকার মুখে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন বলবৎ করার কথা বলছে বটে, কিন্তু তা এখনো পর্যন্ত কার্যকর হয়নি৷

পেঁয়াজের পাইকারি ব্যবসায়ীরা সরকারের ধারেকাছে ঘেঁষছে না৷ শুধু বলে যাচ্ছে পেঁয়াজ উৎপাদক রাজ্য মহারাষ্ট্র, গুজরাট ও কর্ণাটকের পেঁয়াজ বাজারে আসছে না, তাই এই আকাল৷ অতিরিক্ত বৃষ্টিতে পেঁয়াজে আর্দ্রতা বেশি থাকে বলে বেশিদিন মজুত করে রাখা যায়না, এমনটাই দাবি পাইকারি ব্যবসায়ীদের৷

hohe Preise für Zwiebeln in Indien

দিল্লির বাজারে পেঁয়াজের দাম প্রায় ১০০ টাকা ছুঁয়েছে!

কিন্তু সাধারণ মানুষ মনে করছে, এই আকাল কৃত্রিম৷ দিল্লির সব থেকে বড় পাইকারি বাজার আজাদপুরে লাইসেন্সপ্রাপ্ত পাইকারের সংখ্যা ২,৩০০৷ তাঁদের মধ্যে ১৪৩ জন পেঁয়াজের পাইকারি ব্যবসায়ী৷

দিল্লি বিধানসভার ভোট ৪ঠা ডিসেম্বর৷ শীলা দীক্ষিতের কংগ্রেস সরকারকে পেঁয়াজ ইস্যুতে কোণঠাসা করতে চাইছে বিজেপি৷ অভিযোগ, উৎসব মরসুমে সরকারের উচিত ছিল আগাম ব্যবস্থা নেয়া৷ মজুতদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে বরং সুযোগ করে দিয়েছে৷ কংগ্রেসের দিক থেকেও একই অভিযোগ মধ্যপ্রদেশের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে৷ বলছে এটা কংগ্রেস-বিরোধী শক্তির চক্রান্ত৷ উল্লেখ্য, এই পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধি ইস্যুকে হাতিয়ার করে ১৯৯৮ সালে দিল্লির বিজেপি সরকারকে গদিচ্যুত করেছিল কংগ্রেস৷ মাথা বাঁচাতে দিল্লি সরকার মোবাইল ভ্যানে করে পাড়া পাড়ায় ন্যায্য দামে সীমিত পরিমাণে পেঁয়াজ বিক্রি করতে শুরু করেছে৷ কংগ্রেসের অভিযোগ, এর পেছনে কংগ্রেস-বিরোধী শক্তিগুলি কাজ করছে৷

কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, পেঁয়াজের জোগান গত ১০ বছরে বেড়েছে ৩০০ শতাংশ, সেই অনুপাতে দেশের জনসংখ্যা বেড়েছে ১.৭ শতাংশ৷ কাজেই পেঁয়াজের আকাল পড়ার কথা নয়৷ দ্বিতীয়ত, সাইক্লোন হয়েছে ওড়িষা ও অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলবর্তী এলাকায়৷ অন্যত্র বর্ষাকালে যে পরিমাণ বৃষ্টি হবার কথা, মোটামুটি সেই রকমই হয়েছে৷ কাজেই অতিবৃষ্টির যুক্তি ধোপে টেকেনা৷

জনশ্রুতি, সরকারের সাময়িক নিয়ন্ত্রণমুক্ত বাজারে চুটিয়ে লাভ করে তার কিছুটা রাজনৈতিক পার্টি ফান্ডে যে যায়না তার গ্যারান্টি কোথায়? এইভাবে রাজনৈতিক দলগুলি অর্থ সংগ্রহ করার চেষ্টা করে থাকে বলে বিশ্বাস৷ তাই রাজনৈতিক দলগুলি তথ্য জানার অধিকার আইনের বাইরে থাকার দাবি তুলেছে৷ ঐ আইনে আমজনতা যদি রাজনৈতিক দলগুলির আয়-ব্যয়ের হিসেব চেয়ে বসে, তাহলে ঝুলি থেকে বিড়াল বের হয়ে পড়ার আশঙ্কা থেকে যায়৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়