1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

ভারতে বৈবাহিক ধর্ষণ বন্ধে আইন করার চাপ বাড়ছে

ভারতে পারিবারিক সহিংসতা এবং বৈবাহিক ধর্ষণের ঘটনা দিন দিন বাড়ছে৷ নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রীর এমন এক মন্তব্যের পর প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছেন নারী অধিকার কর্মীরা৷

হিন্দু বিয়েতে নানা ধর্মীয় আচার-আচরণ এবং উপবাসের পর নারীরা স্বভাবতই কিছুটা ক্লান্ত হয়ে পড়ে৷ কিন্তু স্বামী কি নববধূর সেই ক্লান্তি বুঝতে পারেন? না তারা ইচ্ছের বিরুদ্ধেই স্ত্রীর ওপর প্রথম রাতেই শুরু করেন পাশবিক অত্যাচার, যাকে ঠিক মিলন বলা যায় না৷ সংবাদ সংস্থা এএফপিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী জানিয়েছেন তাঁর অভিজ্ঞতা৷ কেবল বিয়ের দিনে নয়, তিনি জানিয়েছেন, তার স্বামী এতটাই নৃশংস যে, যখন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ছিলন তখনও তাকে ‘ধর্ষণ' করেছে৷

তিন বছর হলো সেই নারী স্বামীর বাড়ি ছেড়েছেন এবং স্বামীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করেছেন৷ কিন্তু তাঁর আশঙ্কা, স্বামীর কোনো শাস্তি হবে না৷ তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, তার মতো ধর্ষণের শিকার নারীরা কি এ কারণে বিচার পাবে না যে, সেই ধর্ষক তার স্বামী?

ভারতে দীর্ঘদিন ধরেই এ ধরনের ঘটনা ঘটে চলেছে৷ শুধু স্বামী দ্বারা স্ত্রী নন, পরিবারে অন্যান্য আত্মীয়দের দ্বারাও নারীরা ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন৷ কিন্তু সরকার ‘বৈবাহিক ধর্ষণ'কে অপরাধ হিসেবে মানতে রাজি নয়৷

সম্প্রতি নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী মেনকা গান্ধী পার্লামেন্টে বলেছেন, ‘‘দারিদ্র্য, শিক্ষার অভাব, ধর্মান্ধতা এবং সামাজিক প্রথার কারণে এ ধরনের আইন করা সম্ভব হচ্ছে না৷'' নারী অধিকার কর্মীরা এ ধরনের মন্তব্যের পর প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছেন৷ মে মাসেই সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মেনকা বলেছেন, ‘‘এটা খুব স্পর্শকাতর বিষয়, কারণ আপনি মানুষের শোওয়ার ঘরে ডুকে পড়ছেন৷''

ভারতের আইন অনুযায়ী, স্ত্রী'র বয়স ১৫ বছরের কম না হলে স্ত্রীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে তার সাথে সহবাস করলেও সেটা ধর্ষণ নয়৷ এমনকি পারিবারিক নির্যাতনেরও খুব সামান্যই শাস্তি আছে পুরুষদের বিরুদ্ধে৷ সর্বোচ্চ দণ্ড মাত্র তিন বছরের কারাদণ্ড৷

নারী অধিকার কর্মীরা বলছেন, কঠোর শাস্তিসহ এর বিরুদ্ধে শক্ত আইন না হলে নারীরা নিজেদের বাড়িতে নিরাপদ থাকবেন না৷ তারা বলছেন, এ ধরনের আইন হলে স্বামীরা স্ত্রীদের ধর্ষণ করার আগে অন্তত একবার হলেও ভাববে৷

সাবেক একজন প্রধান বিচারপতি সরকারকে এ ধরনের আইন করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন ২০১৩ সালে৷ কিন্তু তাঁর প্রস্তাব মেনে নেয়নি সরকার৷ দুই বছর আগে ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর রিসার্চ অন উইমেন এবং জাতিসংঘের পপুলেশন ফান্ড ভারতে একটি জরিপ করেছিল যেখানে প্রায় অর্ধেক নারী বলেছেন তারা তাদের স্বামীদের দ্বারা যৌন সহিংসতার শিকার৷ ৬০ ভাগ পুরুষও স্বীকার করেছেন যে তারা স্ত্রীর ইচ্ছের বিরুদ্ধে যৌনমিলন করে তাদের নির্যাতন করেছেন৷

বৈবাহিক ধর্ষণ কাউন্সেলর এবং আইনজীবী মনিকা ভারতের সংস্কৃতিকে এ ধরনের আইন না হওয়ার জন্য দায়ী করেছেন৷ তার মতে, পুরুষরা মনে করে, ‘‘বিয়ে মানেই সহবাসের বৈধতা৷ তাদের এটা মনেই হয় না যে এ বিষয়ে স্ত্রীর অনুমোদন জরুরি৷''

এমনকি কিছু নারী যখন পুলিশের কাছে এ বিষয়ে রিপোর্ট করতে গেছে তখন তাদের বলা হয়েছে বাসায় ফিরে যেতে৷ আর স্ত্রী তার বাপের বাড়ি ফিরে গেলে তাকে স্বামীর বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে এই বলে যে, স্বামী যা বলছে তাই করা উচিত৷

এপিবি/এসিবি (এপি, এএফপি, রয়টার্স)

নির্বাচিত প্রতিবেদন