1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

ভারতে বাড়ছে আত্মহত্যার হার

সম্প্রতি ভারতের মহারাষ্ট্রে তরুণদের মধ্যে আত্মহত্যার হার অতি মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে৷ ইতোমধ্যে চলতি বছরেই ৩০ জন আত্মহত্যা করেছে, আর এদের মধ্যে একজনের বয়স মাত্র ১১ বছর৷

default

ভারতে প্রতিবছর প্রায় এক লাখ বিশ হাজার মানুষ আত্মহননের পথ বেছে নিচ্ছে

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও) জানিয়েছে, বর্তমানে বিশ্বে আত্মহননের হার ভারতে সর্বোচ্চ৷ দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হিসাব করে দেখেছে যে, প্রতিবছর প্রায় এক লাখ বিশ হাজার মানুষ আত্মহননের পথ বেছে নিচ্ছে৷ এবং এদের মধ্যে ৪০ শতাংশের বয়স ৩০ এর নিচে৷

মহারাষ্ট্রে আত্মহত্যার হার বৃদ্ধির পেছনের কারণ হিসেবে কলেজের বয়োজ্যেষ্ঠদের দেখানো ভয়, পরীক্ষা পরবর্তী হতাশা বা নিকট আত্মীয়ের মৃত্যুকে চিহ্নিত করা হয়েছে৷

ফিজিওলোজিস্ট এবং বয়ঃসন্ধিকালে আত্মহত্যা প্রতিরোধ হেলপলাইনের প্রতিষ্ঠাতা স্যান্ডে ডিয়েস আন্দ্রাডী বলেন শুধু এই কারণেই নয় এছাড়াও আরও অনেক কারণ রয়েছে যা আত্মহত্যার হার বৃদ্ধি করে৷

তিনি বলেন, আত্মহত্যার ঘটনাটি একটি সাধারণ ঘটনার জন্য ঘটে না৷ এটি এমন একটি বিষয় যার ভাবনা অনেক দিন থেকেই আত্মহত্যাকারীর ভেতরে লালিত থাকে৷ আর এর সাথে আরও অনেক আবেগময় ঘটনাও জড়িত থাকে৷ ছোট্ট কোন ঘটনাই এই ঘটনাটি ঘটাতে প্রভাবিত করে৷

আন্দ্রাডী জানান, এই আত্মহননের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে বিশ্বায়ণ ও ভারতের শহরাঞ্চলে সামাজিক-সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের কারণে৷ সামাজিক আস্থার প্রক্রিয়া যেমন ভারতে যৌথ পরিবারের প্রবণতা দিন দিন কমে যাচ্ছে৷ বেশিরভাগ একক পরিবারগুলোয় বাবা-মা দুজনেই চাকরি করায় মানসিক আস্থা দেবার মত কেউ না থাকায় শিশু বা বয়ঃসন্ধিকালে ছেলেমেয়েরা হতাশায় ভোগে৷

Symbolbild Selbstmord bei Jungendlichen in Indien

বয়ঃসন্ধিকালে আত্মহত্যার হার বৃদ্ধি পেয়েছে ভারতে

মুম্বাই ভিত্তিক টাটা ইন্সটিটিউট অব সোসাল সায়েন্সের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও মানসিক স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান সুভদা মিত্র মনে করেন, একই বয়সিদের মধ্যে সামাজিক সম্পর্কেরও পরিবর্তন হচ্ছে৷ যে সময়টা প্রতিবেশি বন্ধুর সাথে খেলাধুলা করে কাটাবার কথা তা কাটছে কম্পিউটারে গেমস খেলে৷ আর এর মধ্য দিয়েই তারা একটি ভাল পারস্পরিক সম্পর্ক থেকে বঞ্চিত হচ্ছে৷

তিনি বলেন, এখনকার ছেলেমেয়েরা তাদের পড়ালেখা, শিক্ষক, সাংগঠনিক কর্মকান্ড, কম্পিউটার নির্ভর খেলাধুলায় বেশি ডুবে থাকছে৷ তাই তাদের গড়ে ওঠছে না কোন বন্ধুমহল৷ আর এ কারণে শিশুদের সমবয়সিদের সাথে সামাজিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে না৷

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বর্তমান পড়ালেখার প্রক্রিয়াও মানুষের ওপর প্রচন্ড চাপ সৃষ্টি করছে৷ স্কুলের ভর্তি পরীক্ষা থেকে শুরু করে চাকরির বাজার পর্যন্ত এই চাপের মাত্রা থাকে একই রকম৷ এছাড়া প্রকৌশল বা চিকিৎসাবিদ্যা মত পছন্দসই বিষয়টিতে পড়ার সুযোগ পাবার জন্য অনেকেই হতাশায় ভোগে৷

মহারাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগ বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে বলে জানান মহারাষ্ট্রের প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক এম.আর. কদম৷ তিনি আরও জানান, পুরো রাজ্যে বিভিন্ন জেলা ভিত্তিক শিক্ষা বোর্ড রয়েছে৷ ঐ শিক্ষা বোর্ডকে নির্দেশ দেয়া রয়েছে যে কোন আত্মহত্যার সংবাদ পাওয়া মাত্রই ২৪ ঘন্টার মধ্যে এর পেছনের কারণ বের করতে৷ তারা আত্মহত্যাকারীর পরিবারের সদস্য এবং বন্ধুবান্ধবদের কাছ থেকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানার চেষ্টা করেন যে পরীক্ষার চাপের কারণে এই ঘটনাটি ঘটেছে কিনা৷ তা না হলে এর পেছনে সঠিক কারণ বের করার চেষ্টা করেন তারা৷

তিনি আরও জানান, সরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নির্দেশ দেয়া রয়েছে তারা যেন শিক্ষার্থীদের আচরণ এবং চাহিদার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন৷ বর্তমানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থীদের উপদেশ দেবার জন্য স্থানীয় এনজিও এবং উপদেষ্টা নিয়োগ করছে৷

তবে, বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন স্কুলগুলোতে পরামর্শদান আরও বাড়ানো প্রয়োজন৷ আর এই প্রবণতা রোধ করতে বাবা-মা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সরকারকে একসাথে কাজ করতে হবে৷

প্রতিবেদক: আসফারা হক

সম্পাদনা: আবদুস সাত্তার

সংশ্লিষ্ট বিষয়