1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

ভারতে বসেই করানো সম্ভব ‘রোবোটিক সার্জারি’

‘রোবোটিক সার্জারি’-রোবোটের সাহায্যে অস্ত্রোপচার৷ যে দেশে বুনিয়াদি স্বাস্থ্যব্যবস্থা বহুক্ষেত্রে অপর্যাপ্ত, সে দেশই কিন্তু রোবোটিক সার্জারির ক্ষেত্রে পথিকৃৎ৷ ভারতের ৩০টির বেশি হাসপাতালে রোবোটিক সার্জারি করানো সম্ভব৷

‘হেল্থকেয়ার' বা স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থান চীন কিংবা ব্রাজিলের মতো অপরাপর ‘ব্রিক' দেশগুলির তুলনায় অনেক নীচে, এমনকি প্রতিবেশী বাংলাদেশের চেয়েও নীচে৷ স্ত্রী-পুরুষদের সম্ভাব্য আয়ু কিংবা শিশুমৃত্যুর ক্ষেত্রেও ভারত চীন, ব্রাজিল ও বাংলাদেশের নীচে৷ ভারতের শহরগুলোতে যেটুকু বা হেল্থকেয়ার আছে, গ্রামাঞ্চলে সেটুকুও নেই৷ অথচ সেই ভারতেই রোবোটিক সার্জারি ক্রমেই আরো বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে৷

একটি বা দু'টো ছোট ফুটো

ঠিক সেভাবেই ডাক্তাররা রোগীদের বোঝান, রোবোটিক সার্জারি বলতে কি বোঝায়৷ যেমন ধরা যাক থাইমাস গ্ল্যান্ড, যার অবস্থান হৃৎপিণ্ডের কাছাকাছি৷ কাজেই থাইমাস অপসারণ করাটা শল্যচিকিৎসকদের পক্ষে একটা চ্যালেঞ্জ৷ অথচ রোবোটিক সার্জারির ক্ষেত্রে রোগীর শরীরে কোনো বড় কাটাছেঁড়া করার দরকার পড়ে না৷ শুধু একটা বা দু'টো ছোট ফুটো করলেই চলে৷ চিকিৎসক একটি বিশেষ কনসোলে পেশেন্টের থাইমাস গ্ল্যান্ডের একটি ত্রিমাত্রিক হাই রেজোলিউশন ইমেজ দেখতে পান এবং সেই কনসোল থেকেই লিভার, পেডাল ও বোতাম ঘুরিয়ে অস্ত্রোপচার করেন – যাকে বলে কিনা রোবোটিক সার্জারি৷

নতুন দিল্লির ‘ইনস্টিটিউট অফ রোবোটিক সার্জারি'-র ড. অর্ভিন্দ কুমার বলেন: ‘‘রোবোট থাকার ফলে আমরা শরীরের ভিতরে অন্য দিকটাও একই রকম খোলাখুলি ভাবে দেখতে পাই৷ বুকের খাঁচার এক দিকে মাত্র তিনটি ছোট ছোট গর্ত করে একটি গ্ল্যান্ডকে পুরোপুরি সরিয়ে ফেলতে পারা একটা দারুণ ব্যাপার – প্রায় একটা বিপ্লব বলা চলে৷'' ইউরোলজি, গায়নেকোলজি, কার্ডিওলজি, পেটের সার্জারি, মেদ অপসারণ ইত্যাদি নানা চিকিৎসায় রোবোটিক সার্জারি কাজে লাগানো যেতে পারে৷ ড. কুমার বলেন, তাঁদের ইনস্টিটিউট হলো এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের একমাত্র কেন্দ্র, যেখানে শুধুমাত্র রোবোটিক সার্জারির মাধ্যমে অ্যাওর্টোবাইফেমরাল বাইপাস লাগানো সম্ভব৷

যন্ত্রপাতির দাম দশ লাখ ইউরো

ভারতে রোবোটিক সার্জারি যে আরো তাড়াতাড়ি বাড়ছে না, তার একটা কারণ হলো, রোবোটিক সার্জারির সাজসরঞ্জামের দাম৷ সেই সঙ্গে থাকছে মেইনটেনান্স ও সাপ্লাই, যারও খরচ আছে৷ তবে যন্ত্রপাতিতে বিনিয়োগের পরিমাণ কমানোর জন্য স্বদেশেই কাজ চলেছে, বলে জানালেন ড. অর্ভিন্দ কুমার৷ তাঁর মতে: ‘‘এ সব যন্ত্রে জটিল কিছু নেই৷ এগুলো আসলে খুব সহজ যন্ত্র৷ কিন্তু এগুলো পেটেন্ট করা আছে বলে এদের দাম এত বেশি৷ কিন্তু একদিন পেটেন্ট শেষ হবে'' – এবং তখন অনেক সস্তায় এই সব অভিনব প্রযুক্তি পেশেন্টদের অফার করা যাবে, বলে ড. কুমারের ধারণা৷

মুরলি কৃষ্ণণ/এসি

দেবারতি গুহ

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়