1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

ভারতে প্রতিবছরে হারিয়ে যাচ্ছে লক্ষাধিক শিশু

সংখ্যাটা মর্মান্তিক হলেও সত্যি৷ কিন্তু কেন হারায়, কীভাবে হারায়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কেন হদিস পাওয়া যায় না তাদের? শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় তাঁদের জীবন? হৃদয়মথিত করা এইসব প্রশ্নের সদুত্তর নেই পুলিশ প্রশাসনের কাছেও৷

বছর তিনেক আগে ভারতে ১ লাখ ৬০ হাজার শিশু নিখোঁজ হয়৷ এরমধ্যে অধিকাংশের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি৷ এক জনস্বার্থ আর্জিতে সরকারকে এ জন্য ভর্ত্সনা করে সুপ্রিম কোর্ট৷ কেন তাদের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না? সরকার, পুলিশ, প্রশাসন কেন এত উদাসীন, জানতে চায় আদালত৷ তারপরও অবস্থার ইতরবিশেষ হয়নি৷ সমানে চলেছে শিশু নিখোঁজ হবার ঘটনা৷ গড়ে প্রায় লক্ষাধিক শিশু হারিয়ে যাচ্ছে বছরে৷ গত বছরে শুধু দিল্লি ও তার আশেপাশের এলাকা থেকেই নিখোঁজ হয়েছে কমপক্ষে ২২ হাজার বাচ্চা, যার মধ্যে ন'হাজারের আজও কোনো খোঁজ নেই৷ এদের মধ্যে আবার ৫৫ শতাংশ মেয়েষ৷ জাতীয় ক্রাইম ব্যুরোর রিপোর্ট বলছে, এদের ৪৫ শতাংশের খোঁজ মেলেনি৷ দ্বিতীয় স্থানে আছে মহারাষ্ট্র৷ সেখানে ছেলেদের তুলনায় হারিয়ে যাওয়া মেয়ের সংখ্যা দশ হাজারেরও বেশি৷ মধ্যপ্রদেশে নিখোঁজ হয়ে গেছে প্রায় ১৫ হাজার মেয়ে৷ আর অন্ধ্রপ্রদেশে এই সংখ্যা ১২ হাজার৷

কোথায় যাচ্ছে এইসব বাচ্চারা?

নোবেল বিজয়ী কৈলাশ সত্যার্থী পরিচালিত স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘বচপন বাঁচাও আন্দোলন' বা বিবিএ মনে করে, নিখোঁজ বাচ্চারা সংগঠিত চক্রের হাতে পড়ে পাচার হয়ে যায়৷ তা কোথায় পাচার হয় এরা? বাচ্চা ছেলেদের বেগার শ্রমিক হিসেবে কাজে লাগানো হয় ক্ষেত খামারে, দোকানে, কারখানায়, আর না হয় পথশিশু হিসেবে ভিক্ষাবৃত্তিতে৷ ভারতে শিশুশ্রমিকদের সংখ্যা এখন ১ কোটি ১৭ লাখ ছাড়িয়ে গেছে৷ মেয়েদের পাচার করা হয় উপসাগরীয় দেশগুলিতে আর নামানো হয় দেহ ব্যবসায়৷ এছাড়া ভারতের যেসব রাজ্যে স্ত্রী-পুরুষ লিঙ্গ সমতায় ফারাক বেশি, পাচার করা হয় সেইসব রাজ্যের গ্রামাঞ্চলে৷ সেখানে অসম বয়সি পুরুষদের সঙ্গে তাদের বিয়ে দেওয়া হয়৷ আবার এমনও দেখা গেছে যে, বাচ্চাদের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিক্রি করার পর মেরে ফেলা হয়েছে কিংবা প্রতিবন্ধী করে রাখা হয়েছে৷

কীভাবে বছরে হারিয়ে যাচ্ছে লক্ষাধিক বাচ্চা?

বিশেষজ্ঞদের মতে, দারিদ্র্য ও দৈহিক মানসিক উৎপীড়নের চাপে তারা ঘর ছেড়ে পালায় এবং পাচারকারী চক্রের খপ্পরে পড়ে৷ রাজধানী দিল্লি এই ধরনের পাচারকারী চক্রের একটা ঘাঁটি হয়ে উঠেছে৷ অন্যান্য রাজ্য থেকে ঘরছাড়া বাচ্চারা চলে আসে দিল্লিতে কিংবা মুম্বইতে৷ প্রথমে তাদের থাকার জায়গা রেলস্টেশন, বাসস্ট্যান্ড কিংবা মন্দির-মসজিদে৷ ফলে সহজেই তারা গিয়ে পড়ে পাচারকারীদের হাতে৷ শুধু গরিব পরিবারের বাচ্চারাই নয়, অবস্থাপন্ন, সিঙ্গল বা ভেঙে যাওয়া পরিবারের বাচ্চারাও নিখোঁজ হয়, হামেশাই৷ কারণ বাড়িতে বা পরিবারে তাদের দেখভাল করার কেউ থাকে না৷ এ জন্য তাদের মনে জমতে থাকে রাগ আর অভিমান৷ তারপর একদিন ঘর থেকে পালিয়ে যায় তারা৷ তাই সেদিক থেকে থেকে দেখলে, এটা একটা সামাজিক কারণও বটে৷

পুলিশ প্রশাসন কী করছে?

স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘বচপন বাঁচাও আন্দোলন' বলছে, পুলিশ এ বিষয়ে উদাসীন৷ তারা যথেষ্ট তৎপর হলে নিখোঁজের সংখ্যাটা অনেক কমিয়ে আনা যেত৷ বড়জোর পুলিশ কয়েকটা শেল্টার হোমে খোঁজখবর করার পর বেমালুম বসে যায়৷ অনেক রাজ্যে ‘মিসিং পার্সন ব্যুরো' আছে৷ কিন্তু সেখানে যোগ্য অফিসারদের কদাচিত পোস্টিং দেওয়া হয়, যেহেতু এই বিভাগকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয় না৷ দিল্লির উপকণ্ঠে গুরুগ্রামের এক কারখানা শ্রমিক রাম সিং৷ এ বছরের এপ্রিল মাসে তাঁর এগারো বছরের ছেলেটা হারিয়ে যায়৷  অনেক খোঁজাখুঁজি করেও আর তাকে পাওয়া যায়নি৷ পরে পুলিশে ডাইরি করে রাম সিং৷ খোঁজাখুঁজি করতে খরচ হয় প্রায় লাখ টাকা৷ কারখানার কাজে যেতে না পারায় চাকরিটাও চলে যায় তাঁর৷ এখন পেট চালানো দায়৷  অথচ পুলিশ কিছুই করেনি৷ একই কাহিনি বিহারের বেগুসরাই থেকে পেটের ধান্দায় দিল্লিতে আসা হাসিনা ও আসমার৷ বাড়ি বাড়ি বাসন মাজে তাঁরা৷ তাই সকালে বেরিয়ে যেতে হয়৷ স্বামীও জোগানদার হিসেবে নির্মাণ শিল্পে ঠিকাদারের অধীনে কাজ করতে বেরিয়ে যায়৷ একদিন ঘরে ফিরে দেখে তাদের নাবালক ছেলেমেয়েরা উধাও৷ সন্দেহ করা হচ্ছে, কেউ তাদের অনুপস্থিতির সুযোগে ছেলেমেয়েকে অপহরণ করেছে৷ কিন্তু আজ পর্যন্ত তাদের কোনো খোঁজ নেই৷ এ রকম অসংখ্য ঘটনা ঘটছে নিত্যদিনই৷

শিশু কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের করণীয় কি কিছুই নেই?

আছে বৈকি৷ শক্তি বাহিনী নামে একটি এনজিও-র দৃঢ় বিশ্বাস, নিখোঁজ ছেলেমেয়েদের হদিশ পেতে অবিলম্বে চালু করা দরকার ডিএনএ ডেটা ব্যাংক৷ বিশ্বের অনেক দেশে তা চালু আছে৷ অথচ ভারতে যেখানে বছরে লক্ষাধিক শিশু হারিয়ে যায়, সেখানে তা চালু করতে এত গড়িমসি কেন? স্পষ্টতই সরকারের সদিচ্ছার অভাব৷ ২০০৭ সালে দিল্লির অদূরে নয়ডাতে নিথারি অপহরণ, বিকৃতকাম ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে নিখোঁজ বাচ্চাদের ডিএনএ ডেটা ব্যাংক চালু করার সুপারিশ করে৷ পরে সেই দায়িত্ব বর্তায় নব গঠিত শিশু অধিকার রক্ষা কমিশনের ওপর৷ নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রক অন-লাইনে ‘ট্র্যাক-চাইল্ড' নামে নিখোঁজ ছেলেমেয়েদের একটি ডিএনএ ডেটা ব্যাংক তৈরির কাজ হাতে নেয়৷ শক্তি বাহিনীর প্রধান ঋষি কান্ত জানান, তাঁরা অন-লাইন একটা ইমারজেন্সি নম্বর রেখেছেন৷ বাচ্চা নিখোঁজ হবার সঙ্গে সঙ্গে অভিভাবকরা যদি ঐ নম্বরে যোগাযোগ করেন, তাহলে হদিশ পাওয়ার কাজটা সহজ হবে৷ শক্তি বাহিনীর সদস্যরা রেলস্টেশন, বাসস্ট্যান্ড ইত্যাদি জায়গায় নজর রাখতে পারবে৷ কারণ এ সব জায়গা থেকেই শিশুদের হাত বদল হয়ে থাকে৷

সম্প্রতি ১৬ বছরের এক কিশোরিকে দিল্লির এক ডাক্তার দম্পতীর বাড়ি থেকে উদ্ধার করে শক্তি বাহিনী৷ চার বছর বয়সে সে নিখোঁজ হয়েছিল৷ কিশোরি হবার পর গর্ভ নিরোধক পিল খাইয়ে তার ওপর চলে লাগাতার যৌন নির্যাতন, বলেন এনজিও শক্তি বাহিনীর প্রধান ঋষি কান্ত৷

এভাবে শিশু নিখোঁজ হওয়ার দায় কার? সরকারের না পরিবারের? জানান আমাদের, লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন