1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

ভারতে পুলিশি হেফাজতে মৃত্যুর সংখ্যা উদ্বেগজনক

সাম্প্রতিক কয়েক বছরে ভারতে পুলিশি হেফাজতে প্রায় ৬০০ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তি মারা যায়৷ আদালত এইসব মৃত্যুর তদন্তের আদেশ দিলেও, কারাগারে থাকাকালীন মৃত্যুর জন্য কোনো পুলিশ কর্মচারীকেই অভিযুক্ত করা হয়নি৷

পুলিশের হেফাজতে থাকাকালীন পুলিশের অমানুষিক নির্যাতন ও অন্যান্য অত্যাচারে ২০১০ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে মারা গেছে ৫৯১ জন সন্দেহভাজন আসামি৷ এ অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে ১৯শে ডিসেম্বর প্রকাশিত হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডাব্লিউ) নামে এক মানবাধিকার এনজিও-র রিপোর্টে৷ বলা হয়েছে, এইসব হেফাজতকালীন মৃত্যুর জন্য আদালত তদন্তের আদেশ দিলেও এ পর্যন্ত কোনো পুলিশ কর্মচারিকে না দায়ী করা হয়েছে, না অভিযুক্ত করা হয়েছে৷ ১১৪ পাতার এই রিপোর্টে বলা হয়, পুলিশ এইসব হেফাজতকালীন মৃত্যুর ঘটনাকে হয় আত্মহত্যা, না হয় প্রাকৃতিক কারণ কিংবা শারীরীক অসুস্থতা বলে দাবি করে৷ পুলিশের বিরুদ্ধে মৃত ব্যক্তিদের আত্মীয়স্বজনদের আনা নির্যাতনের অভিযোগকে নস্যাত করে দেওয়া হয়৷

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ গ্রুপের দক্ষিণ এশীয় অধিকর্তা মীনাক্ষী গাঙ্গুলি মনে করেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আদালতের আদেশে তদন্ত শুরু হলেও, দোষী পুলিশ কর্মচারীদের বাঁচাতে বা তাদের আড়াল করারই চেষ্টা করা হয় বেশি৷ রিপোর্টে উল্লেখিত ১৭টি নির্বাচিত ঘটনার বিস্তারিত তদন্তের জন্য পুলিশি হেফাজতে মৃত ব্যক্তিদের আত্মীয়স্বজনের ৭০টি সাক্ষাৎকার, বিচার বিভাগীয় বিশেষজ্ঞ এবং পুলিশ কর্তৃপক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণ করে দেখা গেছে যে, আসামিদের গ্রেপ্তার করার এবং হেফাজতে নেবার উপযুক্ত নিয়মবিধি পুলিশ পালন করেনি৷ নিয়ম অনুসারে, আসামিকে হেফাজতে নেবার আগে তার ডাক্তারি পরীক্ষা করাতেই হবে এবং গ্রেপ্তারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কথিত আসামিকে ম্যাজিস্ট্রের সামনে হাজির করাতে হবে৷ কিন্তু আসামিকে জেরা করে বিনা নির্যাতনে কিভাবে স্বীকারোক্তি আদায় করতে হয়, সে বিষয়ে ভারতীয় পুলিশ বাহিনীর উপযুক্ত ট্রেনিং বা পরিকাঠামো নেই৷ ফলে সহজ পন্থা হিসেবে অমানুষিক নির্যাতন চালিয়ে যেমন প্রচণ্ড মারধর করে বা কখনও হাত-পা বেঁধে কড়িকাঠে ঝুলিয়ে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ এবং স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়৷

মৃতদেহের ময়নাতদন্ত রিপোর্টে দেখা গেছে, দেহের ভেতরে ও বাইরে রক্তক্ষরণের চিহ্ন রয়েছে৷ রিপোর্টে ২৫ বছরের এক যুবক ও তাঁর তিন সঙ্গীকে চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার করার পর স্বীকারোক্তি আদায়ে প্রচণ্ড মারধর, এমনকি যৌন নিপীড়ন চালায় পুলিশ৷ এখানেই শেষ নয়৷ দু'দিন পর ডাক্তারি পরীক্ষার সময় নির্যাতনের কথা ডাক্তারকে না জানানোর জন্য চাপ দেওয়া হয়৷ কিন্তু ঐ যুবক তা না মানায় ম্যাজিস্ট্রেটের এজলাসে হাজির করানোর আগেই তাঁকে মৃত পাওয়া যায়৷ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ মনে করে, পুলিশ বাহিনীতে দায়বদ্ধতা এবং মানবাধিকার সচেতনতার অভাব দূর করতে প্রয়োজনীয় সংস্কারের দিকে একেবারেই নজর দেওয়া হয়নি৷ দিলে পুলিশি হেফাজতে নির্যাতনের ঘটনায় রাশ টানা সম্ভব হতো৷ পুলিশ বিভাগ যদি নিয়মবিধি মেনে চলে, তাহলে নির্যাতনজনিত মৃত্যুর ঘটনা কমে যাবে৷ তাই হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-এর ঐ রিপোর্টে বলা হয়, আইনের শাসন তখনই হবে, যখন পুলিশ বিভাগের দায়বদ্ধতা সুনিশ্চিত হবে৷

পুলিশ বিভাগের এক অবসরপ্রাপ্ত অফিসারকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করায়, নাম গোপন রাখার শর্তে তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘মানবাধিকার সংস্থাগুলি কী বলছে না বলছে সেবিষয়ে মন্তব্য করতে চাই না৷ তবে অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এটা বলতে পারি যে, আসামিকে জামাই আদর করলে বা তাকে বাবা-বাছা করলে কোনোদিনই সে তার দোষ স্বীকার করবে না বা তার স্বীকারোক্তি আদায় করা যায় না৷ এছাড়া তথ্য-প্রমাণ দিতে না পারলে অপরাধ করা সত্ত্বেও আসামি ছাড়া পেয়ে যাবে৷ ফলে অপরাধী বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াবে এবং আবারও অপরাধ করবে৷ নাগরিক সমাজ তখন পুলিশের শ্রাদ্ধ করতে ছাড়বে না৷ বরং নিকর্মা বলে সাজা পেতে হবে বেচারা পুলিশ কর্মচারীকেই৷ অর্থাৎ পুলিশের অবস্থাটা একবার ভেবে দেখুন, যাকে বলে উভয় সংকট৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই প্রসঙ্গে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দক্ষিণ এশীয় অধিকর্তা মীনাক্ষী গাঙ্গুলির প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে পুলিশ অফিসারের দেওয়া যুক্তির পাল্টা যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘স্বীকারোক্তি আদায়ে পুলিশের পেটানি খেয়ে সে কি সত্যি কথাটা বলে? না, বলে না৷ পেটানোর ভয়ে পুলিশ তাকে দিয়ে যা বলাতে চায়, তাই বলে সে৷ আর এতে আসল অপরাধী ধরা পড়ে না৷''

মীনাক্ষীর কথায়, ‘‘আইন বলবত করার প্রাথমিক দায়িত্ব পুলিশের৷ সেই পুলিশই যদি সেটা পালন না করে, তাহলে পুলিশ থাকা কেন?'' কয়েক মাস আগে বাংলাদেশের এক ঘটনার কথা উল্লেখ করে মীনাক্ষী গাঙ্গুলি ডয়চে ভেলেকে বলেন, বাংলাদেশের এক যুবক তাঁকে বলেছিল, একবার তাকে গ্রেপ্তার করার পর তার সঙ্গীদের নাম জানতে চায় পুলিশ৷ অন্যান্য সঙ্গীদের নাম তার জানা ছিল না৷ কিন্তু পুলিশের হাতে পিটুনি খাবার পর, প্রাণভয়ে মিথ্যে মিথ্যে নিজ রুমমেটদের নাম বলে দিয়েছিল সে৷ এবার কী বলবেন আপনি?

দক্ষিণ এশিয়ায় মানবাধিকার পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে মীনাক্ষী বলেন, শ্রীলংকা, পাকিস্তান ও ভারতে তাদের মানবাধিকার সংস্থা সমীক্ষা চালিয়েছে৷ আর বাংলাদেশে এ কাজ শিগগিরই শুরু হবে৷ দক্ষিণ এশিয়ার যে ১৩টি দেশে ঔপনিবেশিক শাসনের ধাঁচে পুলিশি ব্যবস্থা আছে, তারা সবাই ১৮৬০ সালের আইনই অনুসরণ করে আসছে৷ স্বাধীনতার পর তার সংস্কার করার সিদ্ধান্ত সত্ত্বেও তা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি৷ পাকিস্তান ও বাংলাদেশে রেঞ্জার্স এবং রাফ বাহিনীই কার্যত আইন বলবত করে থাকে, যা নিয়ন্ত্রণ করে থাকে সামরিক বাহিনী, যেটা আরো বেশি দুশ্চিন্তার বিষয়, ডয়চে ভেলেকে সে কথাই বলেন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ সংস্থার দক্ষিণ এশীয় অধিকর্তা মীনাক্ষী গাঙ্গুলি৷

এ বিষয়ে আপনার কি কিছু বলার আছে? লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়