ভারতে পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্প সম্প্রসারণের সতর্কঘন্টা | বিশ্ব | DW | 15.03.2011
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

ভারতে পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্প সম্প্রসারণের সতর্কঘন্টা

জাপানে পরমাণু দুর্ঘটনা ভারতের পরমাণু শক্তি প্রকল্প সম্প্রসারণের প্রতি এক সতর্কঘন্টা৷ ১৫০ বিলিয়ন ডলারের এই পরিকল্পনা নতুন করে পর্যালোচনার দাবি উঠেছে৷ প্রশ্ন উঠেছে নিরাপত্তার দিক থেকে এর উপযোগিতা নিয়ে৷

default

ভারতের দুইটি পরমাণু শক্তি কেন্দ্র

ভারত-মার্কিন অসামরিক পরমাণু সহযোগিতা চুক্তি কার্যকর হবার পর ভারত তার বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে ১৫০ বিলিয়ন ডলারের পরমাণু কর্মসূচি হাতে নিয়েছে৷ ভূমিকম্প ও সুনামির ফলে জাপানে পরমাণু বিপর্যয়ের পর ভারতে প্রস্তাবিত পরমাণু কেন্দ্রগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, ব্যয় এবং মানুষের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতার ভিত্তিতে পরমাণু নীতি নতুন করে খতিয়ে দেখার কথা বলেছে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ ও শান্তি কোয়ালিশন সিএনডিপি৷ তাতে পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্প আপাতত বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে৷ মহারাষ্ট্রের জায়তাপুরসহ অন্যান্য প্রস্তাবিত পরমাণু প্রকল্পের ছাড়পত্র যেসব শর্তে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় দিয়েছে, তা অবিলম্বে খারিজ করার দাবি জানানো হয়৷ উল্লেখ্য, ভারতের বিশাল পরমাণু বাজার ধরতে জোর প্রতিযোগিতা চলেছে ফ্রান্স, রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের মধ্যে৷ নতুন ২১টি পরমাণু চুল্লির অর্ডার ইতিমধ্যেই দেয়া হয়েছে৷

জায়তাপুরের প্রস্তাবিত বৃহত্তম পরমাণু প্রকল্পের বিরুদ্ধে স্থানীয় মৎস্যজীবী ও কৃষকরা লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে৷ তাদের আশঙ্কা ঐ প্রকল্পের তেজস্ক্রিয়তার শিকার হবে তাঁরা৷ কারণ পরমাণু বর্জ্য পদার্থ অপসারণ এবং স্টোরেজ ব্যবস্থার না আছে কোন পরিকল্পনা, না আছে জৈব-বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ রত্নগিরি এলাকার পরিবেশ সুরক্ষার কোন কর্মসূচি৷ গত সপ্তাহে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী পৃথ্বীরাজ চহ্বন স্থানীয় মানুষজনের আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, ফরাসি সহযোগিতায় ঐ প্রকল্পের নির্মাণ শুরু হবে ২০১৩ সালে৷ ৬০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি ঐ প্রকল্পের উৎপাদন ক্ষমতা হবে ৯৯০০ মেগাওয়াট পরমাণু বিদ্যুৎ৷

জাপানের ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে ভারতের পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়৷ পরিবেশমন্ত্রী জয়রাম রমেশ জায়তাপুর প্রকল্পের পরিবেশ সমস্যার দিকে নতুন করে নজর দেবার কথা বলেছেন৷ জাতীয় পরমাণু বিদ্যুৎ কর্পোরেশন অতিরিক্ত রক্ষাকবচের সুপারিশ করলে সরকার তা পরিবেশ ছাড়পত্রের অঙ্গ হিসেবে বিবেচনা করবে, বলেন পরিবেশমন্ত্রী৷

এদিকে পরমাণুশক্তি বিরোধী এনজিও গ্রিনপিস বলেছে, জার্মানির দ্বিতীয় বৃহত্তম কমার্স ব্যাঙ্ক জায়তাপুর পরমাণু প্রকল্প থেকে সরে যাবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঐ প্রকল্পের ধারাবাহিকতা ও ভাবমূর্তির ঝুঁকির কারণে৷

প্রতিবেদন: অনিল চট্টোপাধ্যায়, নতুনদিল্লি

সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন