1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

ভারতে ড্রাইভিং লাইসেন্সে পেতে অঙ্গদানের প্রতিশ্রুতি

কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়মকানুনে সংশোধন আনছে৷ তাতে সড়ক দুর্ঘটনায় চালকের মৃত্যু হলে তাঁর অঙ্গদানের সম্মতিসূচক সংস্থান থাকবে৷ নতুন লাইসেন্স পেতে বা পুরানো লাইসেন্সের নবায়নে এই সংস্থান থাকছে৷

সড়ক দুর্ঘটনায় গাড়ির চালকের মৃত্যু হলে তিনি তাঁর অঙ্গদানে সম্মত আছেন, এই মর্মে র আবেদনপত্রে একটি নতুন নিয়ম যুক্ত করা হচ্ছে৷ এ জন্য ১৯৮৯ সালের মোটর ভেইকেল আইন সংশোধন করে নতুন আবেদনপত্র ছাড়তে চলেছে সড়ক পরিবহন ও হাইওয়ে মন্ত্রণালয়৷ নতুন ড্রাইভিং লাইসেন্সে থাকবে একটি প্রতীক চিহ্ন অথবা থাকবে বিন্দুচিহ্ন যাতে বোঝা যায় চালক তাঁর অঙ্গদানে সম্মত আছেন কিনা৷ যেমন নিউ ইয়র্কে ড্রাইভিং লাইসেন্সে আছে হার্টের প্রতীক চিহ্ন৷ বুঝতে হবে অঙ্গদানে চালকের সম্মতি আছে৷ আর ড্রাইভিং লাইসেন্সে থাকবে একটি ‘স্মার্ট কার্ড চিপ' তাতেই প্রয়োজনীয় তথ্য ধরা থাকবে৷ গাড়ি চালকের মোবাইল ফোন নং দেওয়া হবে বাধ্যতামূলক৷ ইমার্জেন্সি পরিস্থিতিতে চালকের দুর্ঘটনার খবর বাড়ির লোকজনদের দেওয়া যেতে পারে এবং দুর্ঘটনার পর আহত বা নিহতদের সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে৷ যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও বিশ্বের অনেক দেশে আছে এই নিয়ম৷ যেমন ব্রিটেন, ক্যানাডা, অস্ট্রেলিয়া, স্পেন, জাপান, নিউজিল্যান্ড৷ দীর্ঘদিনের টালবাহানার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়৷

কেন্দ্রীয় সরকারের বিজ্ঞপ্তি জারির পর এই নতুন নিয়ম দেশের সব রাজ্যের জন্য হবে বাধ্যতামূলক৷ বর্তমানে অঙ্গদানের নিয়ম চালু আছে কেবলমাত্র গুজরাট, কর্নাটক ও চন্ডিগড়ে৷ ভারতে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার বিশ্বে সর্বাধিক৷ ২০১৫ সালে প্রকাশিত সড়ক পরিসংখ্যান এবং জেনিভার আন্তর্জাতিক সড়ক ফেডারেশনের সমীক্ষায় বলা হয়, ভারতে প্রতি এক লাখ জনসংখ্যা মারা যায় এগারো জন৷ গত বছর ১ লাখ ৮৬ হাজার লোক মারা যায় সড়ক দুর্ঘটনায়৷ অর্থাৎ প্রতিদিন প্রায় চারশ'৷ সরকারি হিসেবে ২০১৪ সালের তুলনায় পাঁচ শতাংশ বেশি, জানান সড়ক পরিবহন দপ্তরের এক উচ্চ আধিকারিক৷ সড়ক দুর্ঘটনায় বেশির ভাগ মৃত্যুর কারণ মাথায় মারাত্মক আঘাত লাগার দরুণ৷ মাথার আঘাতে যাঁরা ‘ব্রেন ডেড' বলে ঘোষিত তাঁদেরও অঙ্গদানের প্রতিশ্রুতি কার্যকর করা যেতে পারে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

‘গিফট ইওর অরগান' নামে এক এনজিওর হিসেব মতে, সড়ক দুর্ঘটনায় ৬৭ শতাংশের মৃত্যু হয় মাথায় আঘাত পেয়ে৷ এদের মধ্যে একটা বড় অংশের হয় ‘ব্রেন ডেড'৷ ‘অরগান ইন্ডিয়া' নামে এক এজিও-র পরিসংখ্যান বলছে, প্রতি বছর সংস্থাপনের জন্য দরকার হয় প্রায় দুই লক্ষ কিডনি, ৫০ হাজার হার্ট এবং ৫০ হাজার লিভার৷ আর পাওয়া যায় বছরে মাত্র পাঁচ হাজার কিডনি, এক হাজার লিভার এবং নামমাত্র হার্ট৷ অন্যদিকে ভারতে অঙ্গদানের হার খুবই কম৷ প্রতি দশ লাখে মাত্র ০ দশমিক ২৬ শতাংশ, যেখানে অ্যামেরিকায় ২৬ শতাংশ, স্পেনে ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ এবং ক্রোয়েশিয়ায় ৩৬ দশমিক ৫ শতাংশ৷ দেখা গেছে, ড্রাইভিং লাইসেন্সধারকের অঙ্গদানে সম্মতি থাকা সত্ত্বেও তাঁর পরিবারের নিকট আত্মীয়স্বজনরাই আইনি অধিকারবলে দরকারের সময় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেরার অধিকারী৷ সরকারি এবং বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে অঙ্গ সংস্থাপনের সুযোগ সুবিধার মধ্যেও বিস্তর ফারাক৷ অঙ্গ প্রতিস্থাপনের চাহিদা ও জোগানের ফারাক কমাতেই সরকারের এই উদ্যোগ বলে মনে করা হচ্ছে৷ মূল লক্ষ অঙ্গদানে সমাজিক সচেতনতা প্রসারিত করা৷

পাশাপাশি গাড়ি চালানোর উপযুক্ত প্রশিক্ষণ সুনিশ্চিত করাও সমান জরুরি৷ দেখা গেছে, ভারতে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ছাড়াই পরিবহন বিভাগের কর্মচারীদের ঘুস দিয়ে অনেক সময় ড্রাইভিং লাইসেন্স বাগিয়ে নেওয়া হয়৷ ট্রাফিক নিয়ম এবং শৃঙ্খলা হামেশাই সেইসব গাড়ি চালকরা ভঙ্গ করে, দুর্ঘটনা ঘটায়৷ নিজেদের তো বটেই অন্যদেরও বিপদের কারণ হয়৷ ধরা পড়লে কিছু জরিমানা দিয়ে তাঁরা পার পেয়ে যায়৷ এই প্রবণতা বেশি চোখে পড়ে তরুণদের মধ্যে৷ শহর ও মহানগরিগুলির ভিড় রাস্তাতে বেপরোয়াভাবে তীব্র গতিতে গাড়ি চালানো তাঁদের যেন একটা নেশা৷

বাংলাদেশেও এমন নিয়ম হলে কেমন হয়? লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন