1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

ভারতে গণিকাবৃত্তিকে আইনসিদ্ধ করার দাবিতে জোর বিতর্ক

গণিকাবৃত্তিকে আইনি বৈধতা দেবার দাবিতে জোর বিতর্ক দেখা দিয়েছে ভারতে৷ সুপ্রিম কোর্টের এক কমিটি দেহব্যবসাকে আইনি স্বীকৃতি দেবার সুপারিশ করতে চলেছেন৷ এ নিয়ে চলছে জোরালো তর্ক-বিতর্ক৷

সুপ্রিম কোর্টের কমিটির মতে, সুপারিশ কার্যকর হলে যৌনকর্মীদের পেশায় শ্রমআইন প্রযোজ্য হবে, তাঁদের পুনর্বাসনে সুবিধা হবে এবং পুলিশের হয়রানি এবং তোলাবাজি বন্ধে সহায়ক হবে৷ সে জন্য ১৯৫৬ সালের ইমমরাল ট্রাফিক প্রিভেনশন আইন সংশোধন করা দরকার৷

নারীবাদী এনজিও, আইনজীবী এবং যৌনকর্মী সংগঠনগুলি মনে করে, এই আদিম পেশাকে আইনি বৈধতা দেয়া উচিত৷ কারণ তাদের মতে, এতে ধর্ষণ বা যৌন অপরাধ কমবে, যৌনকর্মীদের স্বাস্থ্যরক্ষার সুবিধা হবে৷ কারণ তাঁদের ওপর তখন স্বাস্থ্যবিধি প্রযোজ্য হবে, ফলে যৌনবাহিত রোগ প্রতিরোধ করা যাবে, সেক্স-ট্রেড লাইসেন্সের জন্য নিয়মবিধি বলবত করা যাবে ও ধার্য করের টাকা পুরসভা বা স্থানীয় প্রশাসনকে খরচ করতে হবে যৌনকর্মীদের কাজের পরিবেশ উন্নত করতে৷ এদের সঙ্গে আমার প্রশ্ন – গর্ভপাত যদি বৈধ হয়, তাহলে গণিকাবৃত্তি নয় কেন৷ শুধু তাই নয়, নারী পাচার রোধ করতে সহায়ক হবে৷

ভারতের জাতীয় মহিলা কমিশনের প্রাক্তন চেয়ারপার্সন একটা উদাহরণ তুলে বলেছেন মুম্বই মহানগরিতে রেড লাইট বা যৌনপল্লি বেশি থাকায় রুজি রোজগারের তাগিদে ঘর পরিবার ছেড়ে ঐ শহরে লক্ষ লক্ষ বহিরাগতদের থাকতে হয়, তাঁদের দৈহিক খিদে মেটানোর সুযোগ থাকায় মুম্বই শহরে ধর্ষণের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে অনেক কম৷

দেখা গেছে, ১৯৫৯ সালে অস্ট্রেলিয়ায় পতিতাবৃত্তি বেআইনি ঘোষিত হবার পর ধর্ষণের সংখ্যা বেড়েছিল দেড়শো শতাংশের মত৷ জার্মানিসহ অনেক দেশে গণিকাবৃত্তিকে আইনসিদ্ধ করা হয়েছে৷ দ্বিতীয়ত, যৌনকর্মীরা সাধারণত সমাজের প্রান্তিক সদস্য৷ আইনি সুরক্ষা পেলে গণিকালয়ের দালাল ও বেশ্যাবাড়ির মালকিনরা যৌনকর্মীদের ওপর অন্যায় অত্যাচার হলে তার জন্য দায়বদ্ধ থাকবে৷ আমি অবশ্য মনে করি, এই পেশায় নাবালিকারা যাতে আসতে না পারে, তার জন্য রক্ষাকবচ সুনিশ্চিত করা জরুরি৷ গ্রামগঞ্জের নাবালিকা মেয়েদের ফুসলিয়ে আনলে দোষী ব্যক্তির কঠোর সাজার সংস্থান থাকা দরকার৷

অন্যদিকে সমাজের একাংশ মনে করেন, সেটা করা হলে সমাজ সংসার জাহান্নামে যাবে৷ তখন আর ঢাকঢাক গুড়গুড়ের বালাই থাকবে না৷ যে-কোনো পুরুষ বুক চিতিয়ে নিয়মিত বেশ্যাবাড়ি যাবে৷ ঘরে বৈধ পত্নির প্রতি আনুগত্য বলে আর কিছু থাকবে না৷ পুরুষের বহুগামিতা প্রশ্রয় পাবে৷ টাকা পয়সার দরকার হলে যে-কোনো মেয়ের এই পেশা বেছে নেবার অধিকার থাকবে৷

এটা কিছুতেই মেনে নেয়া যায় না৷ সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে আমার মতো অনেকেই একমত যে, বর্তমানে গণিকাবৃত্তি বেআইনি হওয়া সত্ত্বেও গণিকালয় কি উঠে গেছে? না, বরং দ্রুত বাড়ছে৷ ভারতের ছোটবড় শহরগুলিতে রমরম করে চলছে এই দেহ ব্যবসা৷ এই প্রাচীন ব্যবসা বন্ধ করার হিম্মত হয়নি কোনো সরকার বা সমাজ নেতাদের৷ কারণটা বোধগম্য৷ ভোগ্যপণ্যের বাজারে ৫০ হাজার কোটি টাকার দেহ-ব্যবসার ইন্ডাস্ট্রি আটকায় কার সাধ্য৷ এর চাহিদা কোনোদিন কমেনি এবং কমবেও না৷ বন্ধ করতে গেলে ভালোর চেয়ে খারাপ হবে বেশি৷ রাস্তাঘাটে ধর্ষণের সংখ্যা বাড়বে৷ তাহলে এই ব্যবসাকে আইনি বৈধতা দিয়ে এই পেশাকে অপরাধমুক্ত করলে ক্ষতি কী! নিশিআলয় বা নাইটক্লাব ও পানশালা বৈধ হলে গণিকালয় নয় কেন৷ তাই শীর্ষ আদালতের সঙ্গে আমার মত অনেকেই সহমত পোষণ করবেন বলে আমার বিশ্বাস৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন