1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

ভারতে কি ‘তিন তালাক' নিষিদ্ধ হবে?

সাংবিধানিক মৌলিক অধিকারকে সামনে রেখে তিন তালাক প্রথা রদ করার দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠেছে ভারতীয় মুসলিম নারী সমাজ৷আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেনতাঁরা৷অন্যদিকে মুসলিম ব্যক্তিগত আইন বোর্ড আদালতের এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে৷

শরিয়াত বিধির তকমা দিয়ে তিন তালাক প্রথা (তালাক-ই-বিদাত), নিকা হালালা এবং বহু বিবাহ প্রথাকে অবৈধ ও অসাংবিধানিক এবং চরম লিঙ্গ বৈষম্যমূলক বলে অবিলম্বে এই বিধি রদ করার জন্য ভারতীয় মুসলিম নারী সমাজ এবং মুসলিম স্বয়ংসেবী সংগঠনগুলি সুপ্রিম কোর্টে আর্জি জানিয়েছে৷ পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার ইসরাত জাঁহা, উত্তরাখন্ডের শায়রা বানু এবং রাষ্ট্রবাদী মুসলিম মহিলা সংঘের মতো মুসলিম নারী অধিকার রক্ষা সংস্থাগুলি তার অন্যতম৷ সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি টি.এস ঠাকুরের নেতৃত্বে এক ডিভিশন বেঞ্চ সবগুলো জনস্বার্থ মামলা একসঙ্গে যুক্ত করে শুনানি শুরু করেন৷

মুসলিম মহিলাদের পক্ষ থেকে বলা হয়, তিন তালাকের মতো মুসলিম বিবাহ-বিচ্ছেদ প্রথা শুধু মৌলিক সাংবিধানিক অধিকারের খেলাপই নয়, এর সঙ্গে জড়িত একজন মুসলিম মহিলার মৌলিক আত্মমর্যাদার প্রশ্ন৷ সে বাঁচতে চায় লিঙ্গ বৈষম্যহীন এক জীবন নিয়ে৷ বলা হয়, এমন কি সৌদি আরব, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও ইরাকের মতো মুসলিম দেশগুলিতেও তিন তালাক প্রথা নিষিদ্ধ কিংবা শারিয়াত বিধি সশোধন ও পরিমার্জন করা হয়েছে৷

শীর্ষ আদালতের কাছে তাদের আর্জি, ইসলামিক বিবাহ, তালাক, বহুবিবাহ ইত্যাদির ক্ষেত্রে এমন একটা আইনবিধি প্রণয়ন করা হোক, যেখানে একতরফা ডিভোর্স, বহুবিবাহ, বাল্য বিবাহ, ভরণপোষণ দিতে অস্বীকার করার মতো বিষয়গুলো অপরাধ বলে গণ্য হবে৷ এখন মুসলিম পুরুষ ইচ্ছামতো তিন বার ‘তালাক' বলে ডিভোর্স দেয়৷ এমন কি ইদানিং টেলিফোন, টেক্স ম্যাসেজিং, ফেসবুক বা স্কাইপের মাধ্যমেও ডিভোর্স দেওয়া শুরু হয়েছে৷ এই অন্যায় অবিচারের অবসান চায় মুসলিম নারীরা৷  নারীবাদী মুসলিম মহিলাদের আইনজীবী শীর্ষ আদালতে বলেছেন, মুসলিম পার্সোনাল আইন ভারতীয় আইন ব্যবস্থা বা বিচার ব্যবস্থার বাইরে হতে পারে না৷

এর প্রেক্ষিতে, ভারতের মুসলিম পার্সোনাল আইন বোর্ড (এআইএমপিএলবি)-র পক্ষ থেকে এক হলফনামা দাখিল করে জাননো হয়, তিন তালাক, বহু বিবাহ ইত্যাদি বিষয়গুলি পবিত্র কোরানের অনুশাসন বিধি অনুসারে পালিত হয়৷ এতে আদালত হস্তক্ষেপ করতে পারে না৷ এটা আদালতের এক্তিয়ার বহির্ভূত৷ এইসব বিধি রদ করার সঙ্গে ভারতের ধর্ম নিরপেক্ষতার প্রশ্ন জড়িত৷ ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রশ্ন জড়িত৷ সংবিধান অনুসারে বিচার বিভাগকেও ধর্মনিরপেক্ষ হতে হবে৷ ভারতে যে-কোনো ধর্মাবলম্বীদের নিজেদের ধর্মীয় প্রথা পালন করার অধিকার দিতে হবে৷ মুসলিম ব্যক্তিগত আইন পর্ষদের মতে, সমাজ সংস্কারের নামে মুসলিম ব্যক্তিগত নিয়মবিধি পুনর্লিখিত হতে পারে না৷ তাই কোনো মুসলিম পুরুষ মৌখিকভাবে তিনবার তালাক উচ্চারণ করে স্ত্রীকে ডিভোর্স দিতে পারে৷ এটা মুসলিম আইনে বৈধ৷ স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ যদি চরমে পৌঁছোয়, তাহলে পেশি শক্তিতে অধিক বলশালী পুরুষের হাতে স্ত্রী খুনও হয়ে যেতে পারে৷ দ্বিতীয়ত বিবাহ বিচ্ছেদের আইনি প্রক্রিয়া একটা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার৷ কাজেই মৌখিত তিন তালাক প্রথা সেদিক থেকে অনেক সুবিধাজনক৷ আর অভিন্ন দেওয়ানি বিধির নামে যে বিতর্ক চলেছে গোটা ভারতে, সেই সংবিধানের ডায়রেক্টিভ প্রিন্সিপাল অফ স্টেট পলিসি যেটাকে বলা হয় সংবিধানের প্রস্তাবনা, তা বাস্তবায়নযোগ্য নয়৷অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বাস্তবায়নযোগ্য কিনা সে বিষয়ে জনমত যাচাই করতে চায়৷

সুপ্রীম কোর্ট এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের মতামত জানতে চেয়েছেন৷ গত সপ্তাহে মোদী সরকার জানিয়েছে, তিন তালাক প্রথা অন্যায্য ও অসাংবিধানিক৷ এই প্রথা নিষিদ্ধ হওয়া উচিত৷ এটা মুসলিম নারীদের আত্মসম্মানের প্রশ্ন. এটা ধর্মীয় স্বাধীনতার গ্যারান্টির প্রশ্ন নয়৷ এটা ধর্মনিরপেক্ষতার সঙ্গে সংঘাতের প্রশ্নও নয়৷ সৌদি আরবের মতো দেশেও মুসলিম বিবাহ এবং ডিভোর্সের জন্য আলাদা বিধি আছে৷

পশ্চিমবঙ্গের এক নারীবাদী কর্মী নাজিমা বেগম ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘বিবাহ যদি পুরুষ ও মহিলার সম্মতিক্রমে একটা সামাজিক চুক্তি হয়, তাহলে সেই চুক্তি কি একতরফাভাবে ভেঙ্গে দেওয়া যায়? যায় না৷ যে কোনো চুক্তিই একতরফাভাবে ভেঙ্গে দেওয়া যায় না, এমনকি বাণিজ্যিক চুক্তিও নয়৷ আর এটা তো দুটো জীবনের বৈবাহিক বন্ধনের চুক্তি, যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে ছেলেমেয়েদের সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তার সঙ্গে স্নেহ ভালোবাসার মতো গভীর আবেগ৷ এত ভঙ্গুর হলে কি চলে? তিন তালাক প্রথার অবসান বৃহত্তর স্বার্থেই দরকার৷ সব প্রাচীন প্রথার একটা মূল্যায়ন হয় সময়ের সঙ্গে তাল রেখে৷''  ধর্ম কখনো অন্যায় অবিচারের কথা বলে না, এমনটাই মনে করেন নাজিমা বেগম৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়