1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

ভারতে আবার নোবেল পুরস্কার চুরি

ভারতের কৈলাশ সত্যার্থীকে দেওয়া ২০১৪ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার৷ দক্ষিণ দিল্লির বাসভবন থেকে গত মঙ্গলবার খোয়া গেল সেই নোবেল পদকটি৷ তবে বাঁচোয়া, এটি আসল নয়, নকল৷ আসলের প্রতিরুপ৷ আসলটি রাখা আছে রাষ্ট্রপতি ভবনের সংগ্রহালয়ে৷

খবরটা শুনে সবাই চমকে উঠেছিল৷ রবীন্দ্রনাথের নোবেল সাহিত্য পুরস্কারের মতোই কি চুরি গেল ভারতের আরও একটি নোবেল পদক? এবারে চুরি যাওয়া নোবেল শান্তি পদকটি ‘বাচপান বাঁচাও আন্দোলন' নামে শিশু অধিকার রক্ষা এজিও'র প্রাণপুরুষ, সমাজকর্মী কৈলাশ সত্যার্থীকে দেওয়া হয় ২০০১৪ সালে পাকিস্তানি কিশোরী ইউসুফজাই-এর সঙ্গে যৌথভাবে৷ চুরি যায় মঙ্গলবার ভোর রাতে সত্যার্থীর দক্ষিণ দিল্লির মধ্যবিত্ত কলোনি কালকাজীর বাসভবন থেকে৷ সত্যার্থীর বাসভবনটি কিছুদিন তালাবন্ধ ছিল৷ কারণ, তখন ঘটনাচক্রে তিনি সস্ত্রীক বোগোটায় গিয়েছিলেন নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়ে এক আন্তর্জাতিক আলোচনাচক্রে যোগ দিতে৷ পানামা হয়ে তাঁর দিল্লি ফেরার কথা শনিবার৷ জাতির সম্মান এই নোবেল পুরস্কার চুরি যাওয়ার আঘাত সামলানো গেল যখন পুলিশি তদন্তে এবং সত্যার্থীর নিজস্ব বয়ানে জানা গেল যে, নোবেল পদকটি আসল নয়, তার প্রতিরূপ৷ আসল নোবেল পদকটি জাতির নামে উত্সর্গ করে কৈলাশ সত্যার্থী রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের হাতে তুলে দিলে তিনি সেটিকে রাষ্ট্রপতি ভবনের মিউজিয়ামে রেখে দেন৷ বেলার দিকে সেটা শুনে সবাই স্বস্তি পায়৷

কিভাবে চুরি গেল? পুলিশের ধারণা, চোরেরা কয়েকদিন ধরে ঐ বাড়িটির দিকে নজর রাখছিল৷ যখন বুঝতে পারে, নোবেলজয়ী দিল্লিতে নেই, তখন জানালার শিক ভেঙে চোরেরা ঘরে ঢোকে এবং লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে লকার ভেঙ্গে ঘর লন্ডভন্ড করে সব দামি দামি জিনিষপত্র নিয়ে পালায়৷ তার মধ্যে নোবেল শান্তি পদক ছাড়াও ছিল দেশবিদেশ থেকে পাওয়া সোনা রুপোর অনেক নামি দামি স্মারক, শাল, উত্তরীয় এবং অঙ্গবস্র৷ প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ নিশ্চিত হতে পারছে না যে, ডাকাতি করতেই চোরেরা ঢুকেছিল নাকি নোবেল পদকটির দিকেই তাঁদের নজর ছিল৷ কারণ, নোবেল পদকটি সোনার৷ গয়না হিসেবেও তার বাজার দাম যথেষ্ট৷ দিল্লি অপরাধ শাখা এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত ছয়টি দল তদন্তে নেমে পড়েছে৷ পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করছে এবং ঐ এলাকায় নিজেদের গোপন ইনফর্মারদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে৷ পুলিশের মতে, এটা পেশাদার চোরেদের কাজ৷ সত্যার্থীর বাসভবন এক হাউজিং সোসাইটিতে৷ সেখানে নিরাপত্তা রক্ষী থাকে৷ তবে তালা ভাঙ্গার সময় রক্ষীরা সম্ভবত ঘুমিয়ে পড়েছিল৷

ভারতে নোবেল পদক চুরি যাবার এটি দ্বিতীয় ঘটনা৷ ২০০৪ সালের ২৫শে মার্চ শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের মিউজিয়াম থেকে রবীন্দ্রনাথের নোবেল পদকসহ খোয়া যায় ৪০টি মূল্যবান সামগ্রী৷ রাজ্যের গোয়েন্দা পুলিশ তদন্তে নেমে চুরির কোনো কিনারা করতে পারেনি, তারপর সেটি যায় পশ্চিমবঙ্গ বিশেষ পুলিশ টিমের হাতে৷ সন্দেহভাজন একজনকে গ্রেপ্তার করা হয় গত বছর৷

১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান রবীন্দ্রনাথ৷ পরে নোবেল ফাউন্ডেশন ২০০৫ সালে বিশ্ববিদ্য়ালয়কে নোবেল পদকের দুটি প্রতিরূপ উপহার দেয়৷ নোবেল পদক চুরি শুধু ভারতেই নয়, বিশ্বের অন্য অনেক দেশেই হয়েছে৷ তার মধ্যে কিছু উদ্ধার হয়েছে৷ কিছু হয়নি৷ যেমন, দক্ষিণ আফ্রিকার আর্চবিশপ ডেসমন্ড টুটুর নোবেল পদক চুরি যাবার ৩৬ ঘন্টার মধ্যেই তা উদ্ধার করা হয়৷ টুটু বর্ণবিদ্বেষের বিরুদ্ধে লড়াই করার স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৮৪ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পান৷ ফিলিস্তিনি নেতা ইয়াসের আরাফাতের পুরস্কারটি গাজা শহরের বাসভবন থেকে লুঠ করে তাঁর বিরুদ্ধবাদী সংগঠন হামাস৷ কিন্তু পরে তারা ফেরত দিয়ে দেয়৷ রবীন্দ্রনাথের নোবেল পদক আজও উদ্ধার করা যায়নি৷ যদিও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় জোরগলায় বলেছিলেন, রবীন্দ্রনাথের নোবেল পদক শিগগিরই উদ্ধার করা সম্ভব হবে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়