1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

ভারতে আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়েই চলেছে

জাতীয় ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো এর পরিসংখ্যান অনুসারে গত বছর ভারতে প্রতিদিন গড়ে আত্মহত্যা করেছেন প্রায় ৩৭৫ জন৷ পুরুষ বেশি, নারী কম৷ গত বছর আত্মহত্যার হার প্রতি এক লাখ জনসংখ্যায় ১১.২ শতাংশ৷ আর প্রতি ঘণ্টায় গড়ে ১৫-১৬ জন৷

জাতীয় ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর পরিসংখ্যান বলছে, গত বছর, অর্থাৎ ২০১২ সালে ভারতে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে ১,৩৫৪৪৫টি৷ অর্থাৎ প্রতি দিন গড়ে ৩৭৫টি, প্রতি ঘণ্টায় ১৬টি৷ আর দৈনিক ৩৭৫টি আত্মহত্যার মধ্যে পুরুষ ২৪৩ এবং নারী ১২৯৷ প্রশ্ন হলো: পুরুষদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি কেন?

দিল্লির গঙ্গারাম হাসপাতালের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মেহতার মতে, মেয়েদের তুলনায় ছেলেরা আবেগের দিক থেকে দুর্বলচিত্ত, যেটা প্রচলিত ধারণার বিপরীত৷ বিবাহিত পুরুষের আত্মহত্যার হার ৭১ শতাংশ এবং বিবাহিতা নারীর ৬৭.৯ শতাংশ৷

মনোবিশেষজ্ঞদের মতে, আত্মহত্যার অন্যসব কারণগুলি হলো প্রেমঘটিত ব্যর্থতা, সাংসারিক বিবাদ বা দাম্পত্য কলহ, পরীক্ষায় ফেল, অবসাদ, নিঃসঙ্গতা, মাদকাসক্তি ও আর্থিক সমস্যা৷

12.06.2013 DW Online Karten Basis Indien Englisch

গত বছর ভারতে প্রতিদিন গড়ে আত্মহত্যা করেছেন প্রায় ৩৭৫ জন

রাজ্যগুলির হিসেবে আত্মহত্যার ঘটনা সবথেকে বেশি তামিলনাড়ুতে ১৬৯২৭৷ তারপর মহারাষ্ট্র ১৬১১২ এবং পশ্চিমবঙ্গ ও অন্ধ্রপ্রদেশে ১৪৩২৮টি করে৷ ভারতের ২৮টি রাজ্যে ১৩২৬৬৭টি এবং সাতটি কেন্দ্রশাসিত রাজ্যে ২৭৭৮টি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে গত বছর, বলছে এনসিআরবি-এর পরিসংখ্যান৷ রাজধানী দিল্লিতে ১৯০০ জন এবং লাক্ষাদ্বীপে আত্মহত্যা করেছে সবথেকে কম, মাত্র একজন গত বছরে৷

সাংসারিক ঝগড়াঝাটি এবং পারিবারিক সমস্যা আত্মহত্যার সবথেকে বড় কারণ বলে মনে করছেন অনেক সমাজবিজ্ঞানী৷ এ কারণে দৈনিক গড়ে আত্মহত্যা করে থাকে ৮৫ জন৷ পুরুষরা আত্মহত্যা বেশি করে মূলত সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণে৷ এনসিআরবি-এর মতে ব্যক্তিগত আবেগের তাড়না মেয়েদের বেশি ঠেলে দেয় আত্মহত্যার দিকে৷ প্রতি ছয়টি আত্মহত্যার মধ্যে একজন গৃহবধু৷

চরম পথ বেছে নেবার সবথেকে সহজ উপায় গলায় দড়ি৷ গত বছরে দেশে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করে ৫০০৬২ জন, অর্থাৎ ৩৭ শতাংশ৷ এদের বেশির ভাগ পুরুষ ৩৪,৬৩১ জন৷ গলায় দড়ি দেবার ঘটনা বেশি ঘটে মহারাষ্ট্রে, তারপর কেরালা এবং তামিলনাড়ুতে৷ বিষ খেয়ে মারা যায় ১৯৪৪৫ জন অর্থাৎ ২৯.১ শতাংশ৷ এদের মধ্যে ১২২৮৬ জন পুরুষ৷ গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যার সংখ্যা ১১৪৫৯ এদের বেশির ভাগ মহিলা৷

ডা. মেহেতার মতে, আত্মহত্যার প্রবণতার প্রাথমিক লক্ষণ হলো হাবভাবে, আচার-আচরণে পরিবর্তন, নিজেকে গুটিয়ে নেয়া, হতাশা, টাকা-পয়সা, জিনিস-পত্র অকারণে বিলিয়ে দেয়া কিংবা মানসিক অবসাদ বা রোগের অতীত ইতিহাস থাকা৷ সময়মত কাউন্সিলিং করা এর হাত থেকে পরিত্রাণের অন্যতম উপায়৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন