1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

ভারতের সংসদে আটকে রইলো জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা বিল

ভারতের সংসদে ঝুলে থাকা জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা বিল মঙ্গলবারও পাস হলো না, আটকে রইলো৷ এই নিয়ে চলে সরকার ও বিপক্ষ দলের মধ্যে বাকযুদ্ধ৷

সরকারের অভিযোগ, যে বিলে দেশকে ‘‘ক্ষুধা থেকে মুক্তি'' দেবার সংস্থান রয়েছে, তা পাস হতে না দেয়া অন্যায়৷ বিরোধী দলের বক্তব্য, আগে দেশকে মুক্ত করতে হবে দুর্নীতি থেকে৷

স্বাধীনতার ৬০ বছর পর ভরতুকি দামে খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তার আইনি অধিকার দিতে আনা জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা বিল নিয়ে মঙ্গলবারও সংসদে তুমুল বাকযুদ্ধ চলে সরকার ও বিরোধীপক্ষের মধ্যে৷ প্রধান বিরোধী দল বিজেপির দাবি আগে কয়লা কেলেঙ্কারি, রেলে ঘুসকাণ্ড, সিবিআই-এর কাজে সরকারি হস্তক্ষেপের মতো দুর্নীতিতে জড়িত মন্ত্রীদের ইস্তফা দিতে হবে, তারপর বিল নিয়ে হবে আলোচনা৷

বিজেপির ভাষায়, আগে ‘‘অসাধু উপায়ে টাকার ক্ষুধার অবসান হোক, তারপর ক্ষুধা থেকে মুক্তির উপায় নিয়ে আলোচনা করা যাবে৷ তা না হলে দুর্নীতির কোপে খাদ্য নিরাপত্তার লক্ষ্য বানচাল হয়ে যাবে৷'' বিজেপির অভিযোগ, দুর্নীতিতে জেরবার সরকার দেশের মানুষের দৃষ্টি সরাতেই এই বিল পেশ করেছে৷

এই বিল পাশ হলে দেশের ৬৭ শতাংশ সাধারণ মানুষের ভরতুকি দামে খাদ্যশস্য পাবার আইনি অধিকার থাকবে৷ তাঁরা রেশনে মাথা পিছু মাসে পাঁচ কিলো খাদ্যশস্য পাবে এক থেকে তিন টাকা কিলো দরে৷ চাল তিন টাকা কিলো, গম দুই টাকা কিলো এবং মোটা দানা শস্য এক টাকা কিলো দরে৷ কেন্দ্রের নির্ধারিত মাপকাঠির ভিত্তিতে রাজ্য সরকার পরিবারগুলিকে চিহ্নিত করবে৷

কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার সমর্থন দামে খাদ্যশস্য কিনে কেন্দ্রীয় ভাণ্ডারে মজুত রাখবে৷ বণ্টন করা হবে রেশন দোকান ছাড়াও শিশু পরিচর্যা ও বিকাশ কেন্দ্র অঙ্গনবাড়ির মাধ্যমে৷ বিল যদি সংসদের বর্তমান অধিবেশনে পাশ না হয়, তাহলে হয়ত সরকারকে বিলের পরিবর্তে অর্ডিন্যান্স আনতে হতে পারে৷ অর্ডিন্যান্স আইনে রূপান্তরিত না হলে সাধারণ মানুষ খাদ্য নিরাপত্তার বৈধ অধিকার হারাবে৷

খাদ্য নিরাপত্তা বিল নিয়ে সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকার সমালোচনা করে নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন বলেন, ‘‘সংসদ বানচাল না করে বিরোধীদের উচিত আলোচনায় যোগ দেয়া৷ যে কোনো বিষয়ে বিরোধীদলের ভিন্নমত থাকতেই পারে৷ কিন্তু সংসদে যদি গুরুত্বপূর্ণ বিল নিয়ে আলোচনা করতে না দেয়া হয়, তাহলে তার দায় বিরোধী দলের৷''

ড. সেন প্রবৃদ্ধি বনাম স্বাস্থ্য, শিক্ষার মতো সামাজিক খাতে ব্যয়ের প্রসঙ্গ তোলেন৷ স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মতো সামাজিক খাতে ব্যয় বাড়ালে তা সার্বিক প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা সুনিশ্চিত করতে পারে৷ চীন যেখানে জনস্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করে জিডিপির ২.৭ শতাংশ ভারত সেখানে করে ১.২ শতাংশ৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন