1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

ভারতের রাজস্থানে শিশুদের পতিতাবৃত্তি

রাজস্থানে সাধারণ মানুষের উপার্জন দিনে মাত্র এক ইউরো৷ দারিদ্র্যের হাত থেকে রক্ষা পেতে রাজস্থানের নাট এবং কাঞ্জর গোষ্ঠীর মানুষরা এগিয়ে গেছে পতিতাবৃত্তির দিকে৷ এর শিকার হচ্ছে শিশুরাও৷

ভারতের রাজস্থানে প্রতি বছর হাজার হাজার পর্যটক আসে৷ প্রাসাদ ছাড়াও বিভিন্ন রঙ-বেরঙের হাতের কাজ দেখে তারা মুগ্ধ হয়৷ কিন্তু এরপরেও রাজস্থান ভারতের দরিদ্রতম রাজ্যগুলোর মধ্যে একটি৷

গত কয়েক প্রজন্ম ধরে রাজস্থানের বেশ কিছু গোষ্ঠীর মেয়েরা পতিতাবৃত্তির সঙ্গে জড়িত৷ অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্যি যে মাত্র ১৪ বছর বয়স থেকেই অনেকে যৌনকর্মী হিসেবে কাজ শুরু করে৷ এর মূল কারণ হল, যেভাবেই হোক পরিবারকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে, টিকিয়ে রাখতে হবে৷ ইদানিং বেশ কিছু সংস্থা এগিয়ে এসেছে৷ এসব বাচ্চা মেয়েদের সাহায্য করতে চাইছে, বোঝাতে চাইছে যে পতিতাবৃত্তিই একমাত্র পথ নয়৷

পিংকি একটি মোটা কার্পেটের ওপর বসে আছে৷ মুম্বই-এর একটি বস্তিতে সে একটি ঘর নিয়ে একাই থাকে৷ পিংকি তার ছদ্মনাম৷ রাজস্থানের যে গ্রামে সে থাকতো সেখান থেকে ১০ বছর আগে সে চলে এসেছে মুম্বইয়ে৷ পিংকির বয়স যখন ২০ তখন থেকেই এই ছোট ঘরে পুরুষদের মনোরঞ্জন শুরু হয়৷ পিংকি জানাল,‘‘যখন প্রথম খদ্দেররা আসত, তখন আমি তাদের গান গেয়ে শোনাতাম৷ এদের মধ্যে ধনী-দরিদ্র সব শ্রেণীর মানুষ থাকতো৷ তবে সবাই যে খুব মুগ্ধ হত তা নয়৷ মাত্র দু'একজন খুশি হত৷ আমাদের একসঙ্গে এত লোকের সঙ্গে সহবাস করতে হয়, কীভাবে আমরা তা উপভোগ করবো? আমরা শুধুমাত্র অর্থ উপার্জনের জন্য তা করি৷ আমরা তা উপভোগ করছি কিনা সেটা কখনোই গুরুত্বপূর্ণ নয়৷''

সাহায্যে এগিয়ে এসেছে সুমিত্রা ট্রাস্ট

মুম্বই'এর একটি এনজিও-র নাম সুমিত্রা ট্রাস্ট৷ এই সংস্থাটি জানিয়েছে, রাজস্থানের প্রায় বারোশো মহিলা মুম্বইয়ে পতিতালয়ে কাজ করছে৷ আর এই পেশায় তারা প্রতিনিয়ত সম্মুখীন হচ্ছে একাকীত্ব, এইডস এবং অন্যান্য নানা ধরণের অসুখ-বিসুখের৷

Schülerinnen in Indien

শিশুদের হাতে তুলে দিতে হবে বই

পিংকি যদিও এখন আর যৌনকর্মী হিসেবে কাজ করছে না, কিন্তু তার ছোট তিনটি বোন এবং তার ১৬ বছরের মেয়ে এই পেশায় কাজ করছে৷ বেঁচে থাকা, পরিবারকে বাঁচিয়ে রাখাই মূল উদ্দেশ্যে৷ এরা সবাই কাঞ্জর সম্প্রদায়ের৷ রাজস্থানের প্রাচীন অনেক সম্প্রদায়ের মধ্যে কাঞ্জর একটি৷ এছাড়া নাট সম্প্রদায়ও পতিতাবৃত্তিকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছে৷ দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা করছেন সুরভী দয়াল৷ নাট আর কাঞ্জর সম্প্রদায়ের বিভিন্ন দিক, তাদের বেঁচে থাকা এবং সংগ্রাম হচ্ছে তাঁর গবেষণার মূল বিষয়৷ সুরভী দয়াল বললেন,‘‘অনেক অনেক আগেই থেকেই তারা এ ধরণের নাচ-গানের মাধ্যমে মনোরঞ্জনের ব্যবস্থা করতো৷ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে, বিয়েতে তাদের ভাড়া করে নিয়ে যাওয়া হত নাচ-গানের জন্য৷ তাদের নির্দিষ্ট করে স্থায়ী কোন থাকার জায়গা ছিল না৷ তবে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের সময় তাদের ‘অপরাধী' হিসেবে দেখা হত৷ পুরো গোষ্ঠী অপরাধ করে বেড়ায় – এমন একটা ধারণা চালু করা হয়েছিল৷ সবাই সেটাই বিশ্বাস করেছিল৷ এরপর তারা বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে নাচ-গানের অনুষ্ঠান করা বন্ধ করে দেয়৷ বেঁচে থাকার একমাত্র সম্বল একেবারে হারিয়ে যায়৷ এর ফলে তারা পুরোপুরি পতিতাবৃত্তির দিকে ঝুঁকে পড়ে৷''

সুন্দরী হলেই পতিতা হতে হবে

কাঞ্জর গোষ্ঠীর পুরুষরা খুবই কম অর্থ উপার্জন করে৷ বেশির ভাগ সময়ই তারা পতিতাদের ভাড়া দেয়ার কাজ করে৷ আর এসব পতিতা হচ্ছে তাদের স্ত্রী, বোন এবং নিজের মেয়ে৷ কাঞ্জর সম্প্রদায়ের মেয়েদের সামনে দুটি পথ খোলা থাকে৷ বিবাহিত জীবন অথবা পতিতাবৃত্তি৷ সুরভী দয়াল দিলেন কষ্টকর একটি তথ্য,‘‘যখন এসব মেয়ের বয়স ১০ বা ১২ তখনই সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয়া হয়, কে কী হবে৷ মেয়েটি যদি খুব চটপটে হয়, কথাবার্তায় ঝটপট হয়, দেখতে সুন্দরী হয় – তাহলে তাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় পতিতাবৃত্তির দিকে৷ কিন্তু একটি মেয়ে যদি খুব লাজুক হয়, দেখতে সুন্দরী না হয় অথবা মেয়েটি যদি খুব মোটা হয় তাহলে তাকে বিয়ে দিয়ে দেয়া হয়৷''

আর এসব কারণেই নাট আর কাঞ্জর সম্প্রদায় সমাজে বৈষম্যের শিকার হয়৷ সমাজের অন্য সবার সঙ্গে মিশতে এরা আগ্রহী হয় না৷ নিজেদের সবসময় নিজেদের গণ্ডির মধ্যে আটকে রাখে৷ কাঞ্জর এবং নাট সম্প্রদায়ের শিশুদের মধ্যে স্কুলে যাওয়ার প্রচলন নেই৷ আর এর ফলেই এদের সামনে খোলা থাকে বেঁচে থাকার একটি পথ৷ সমাজ কর্মী নিরুভা বোধিসত্ত্ব প্রায় ২০ বছর ধরেই জানেন সমস্যার শুরু কোথা থেকে৷ তখন থেকেই তিনি চেষ্টা করছেন এদের সাহায্য করতে৷ নির্বাণ বসবাস করে আরাভলি পাহাড়ের পদদেশে, রাজস্থানেই৷ রাজধানী দিল্লী থেকে কয়েক ঘন্টার পথ৷ এখানে সরকারি স্কুলের এমনই দুরবস্থা যে নাট আর কাঞ্জর সম্প্রদায়ের বাইরের কোন ছেলে-মেয়েও এই স্কুলে পড়তে চায় না৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন