1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

ভারতের মতো জার্মানিতেও আদমশুমারি নিয়ে বিতর্ক

কিছুদিন আগে ভারতে আদমশুমারিতে জাতপাতের ভিত্তিতে জনগণনা নিয়ে চরম বিতর্ক দেখা দিয়েছিল৷ ২০১১ সালে গোটা ইউরোপ জুড়ে জনগণনার ক্ষেত্রেও এমন কিছু প্রশ্ন রাখা হচ্ছে, যা বিতর্কের কারণ হয়ে উঠছে৷

default

২০০৮ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০১১ সালে ২৭টি সদস্য দেশকেই নতুন করে জনগণনা করতে হবে৷ তবে এর ফলাফল বিশ্লেষণ করতে ২ বছর লেগে যাবে বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে৷ ১৯৮৭ সালের পর জার্মানিতে ৯ই মে আবার এই কাজ শুরু হচ্ছে৷ কিন্তু প্রশ্ন উঠতে পারে, হঠাৎ এখনই ইউরোপ জুড়ে জনগণনার প্রয়োজন পড়ছে কেন?

ইউরোপীয় পরিসংখ্যান দপ্তর ‘ইউরোস্ট্যাট'এর প্রধান জানালেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে হলে বিশেষ কিছু তথ্যের প্রয়োজন পড়ে৷ যেমন ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স ও জার্মানি সংক্রান্ত কোনো কোনো বিষয়ের তুলনা করতে হলে সেই সংক্রান্ত তথ্য প্রস্তুত থাকা চাই৷ বর্তমানে এই তথ্যভাণ্ডারে অনেক ঘাটতি রয়েছে৷

আপাতদৃষ্টিতে কোনো দেশেই আদমশুমারির উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ না থাকলেও বিতর্ক দেখা দেয় এই পরিকল্পনা কার্যকর করার ক্ষেত্রে৷ যেমন নাগরিকদের ঠিক কী প্রশ্ন করা উচিত, সেই সব প্রশ্নের উত্তরের আদৌ কোনো প্রয়োজন আছে কি না, উত্তরগুলি কীভাবে ব্যবহার করা হবে, তথ্য সংরক্ষণেরই বা কতটা নিশ্চয়তা থাকবে – এসব নিয়ে সংশয় দেখা দেয়৷ জার্মানিতে বিষয়টি বেশ স্পর্শকাতর৷ গত শতাব্দীর আশির দশকে জার্মানিতে যখন আদমশুমারির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তখন প্রতিবাদের ঝড় উঠেছিল৷ সাংবিধানিক আদালত প্রশ্নপত্র বাতিল করেছিল৷

এবার সেই প্রতিরোধ অনেকটা কমে এসেছে৷ তবে তথ্য প্রযুক্তি সর্বস্ব এই যুগে নাগরিকদের সম্পর্কে যে তথ্য সংগ্রহ করা হবে, তা জমা রাখার মেয়াদ, গোপনীয়তার স্তর, প্রয়োজনের তুলনায় বাড়তি প্রশ্ন রাখার মতো বিষয় নিয়ে তর্ক-বিতর্ক চলছে৷ বিশেষ করে জার্মানি যেভাবে তথ্য সংগ্রহ করছে, তা ভারতের আদমশুমারিতে জাতপাত সংক্রান্ত প্রশ্নের কথা মনে করিয়ে দেয়৷ যেমন জার্মান নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও অভিবাসীদের আলাদা করে সনাক্ত করা হচ্ছে৷ অর্থাৎ আইনের চোখে সব নাগরিক সমান হওয়া সত্ত্বেও এই বাড়তি তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে৷ তবে এই উদ্যোগের সমর্থকরা বলছেন, এর মধ্যে বৈষম্যের গন্ধ খোঁজা ঠিক হবে না৷ কারণ অভিবাসী সংক্রান্ত নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে এমন তথ্য অত্যন্ত জরুরি৷ তবে এমন তথ্য সংগ্রহ করার সময়ে কোনো অভিবাসী নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য জমা রাখার প্রয়োজন নেই বলে অনেকে মনে করছেন৷ কারণ একবার কোনো তথ্যভাণ্ডারে কারো সম্পর্কে এই সব তথ্য জমা পড়লে পরে তার অপব্যবহার হতে পারে৷

ইউরোপে আদমশুমারির ফলাফলের মধ্যে অনেক চমক অপেক্ষা করে রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে৷ যেমন জার্মানির বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ৮ কোটি ২০ লক্ষ ধরে নেওয়া হলেও বাস্তবে তা প্রায় ১০ লক্ষ কম বলে জানা যাবে – অনেকে এমন পূর্ববাণী করছেন৷

প্রতিবেদন: সঞ্জীব বর্মন

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল ফারূক