1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

ভারতের বৈপরীত্বের ছবির ওপর আলোকপাত করেছে জার্মান দৈনিক

৬০ বছর আগে ভারতের সংবিধান কার্যকর হয়৷ দেশটি হয় সর্বতোভাবে স্বাধীন এক প্রজাতন্ত্র - বহু সংস্কৃতি, ভাষা, ধর্ম, জনগোষ্ঠী আর বর্ণের এক জাতি৷ এই উপলক্ষ্যকে সামনে রেখে ভারতের বৈপরীত্বের ছ বির ওপর আলোকপাত করেছে জার্মান দৈনিক৷

default

মিউনিখ থেকে প্রকাশিত দৈনিক স্যুদডয়চে সাইটুং পত্রিকার নিবন্ধের শিরোনাম: একটি অসম্পূর্ণ জাতি উৎসবমুখর৷ উপশিরোনামে লেখা হয়েছে, ৬০ বছর ধরে ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র৷ কিন্তু এখনও সে পুরনো সমস্যাগুলোয় ক্লিষ্ট৷ পত্রিকা লিখছে:

প্রজাতন্ত্র গঠিত হবার ৬০ বছর পর বার্তামাধ্যম মৌলিক এক প্রশ্ন তুলেছে: ‘‘আমরা কি আমাদের প্রতিষ্ঠাপুরুষদের ভাবনাকে প্রতারিত করেছি?'' একাধিক সংবাদপত্র আর ম্যাগাজিনে স্থান পেয়েছে এধরণের শিরোনাম৷ সংবিধানদায়ী পরিষদ প্রায় তিন বছর পরামর্শ করার পর ১৯৫০ সালের ২৬ শে জানুয়ারি সংবিধান গ্রহণ করে৷ ভারত হয় এক সমাজবাদী, ধর্ম নিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক দেশ৷ সংবিধান নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করার নিশ্চয়তা দেয়৷ কিন্তু এই অঙ্গীকার পূরণে সুস্পষ্ট ফাঁক থেকে গেছে, অনুযোগ করছেন ভাষ্যকাররা ৬০ বছর পরেও৷ টাইমস অফ ইন্ডিয়া লিখেছে: ‘‘আমরা এখনও সংগ্রামের মাঝে, এখনও আমরা অসম্পূর্ণ এক জাতি৷'' পরিসংখ্যান দিয়ে বলা হয়েছে, দুজন মেয়ের মধ্যে লিখতে পড়তে জানে মাত্র একজনের মত৷ ছোট ঠোট ছেলেমেয়েদের প্রায় অর্ধেক অপুষ্টিতে ভুগছে৷ মধ্যবিত্ত শ্রেণী দ্রুত বৃদ্ধি পেলেও ১১০ কোটি জনসংখ্যার মধ্যে কয়েক শ মিলিয়ন মানুষ এখনও দারিদ্র্যসীমার নীচে বাস করে৷ তাদের জীবন প্রতিদিনই এক লড়াই৷

স্যুদ ডয়চে সাইটুং একই সঙ্গে ভারতের ধনকুবের সম্প্রদায়ের বিপুল বিত্তের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে লিখেছে:

দারিদ্র্য হল ভারতের এমন একটি দিক যা চিনে নিতে অসুবিধা হয়না৷ একই সঙ্গে ভারত আবার এমন এক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অধিকারী হয়েছে যা সংখ্যালঘু একটি গোষ্ঠীর জন্য এনে দিয়েছে বিপুল সম্পদ৷ দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশের মত বিশ্বের আর কোন দেশে এত বেশি সংখ্যক বিলিওনেয়ার আর পাওয়া যাবেনা৷ মার্কিন ফোর্বস্ ম্যাগাজিনের হিসাব অনুযায়ী, এই সংখ্যা ৫২৷ এই বৈপরীত্বই প্রজাতন্ত্রের ৬০ বছর বর্ষপূর্তিতে চোখে পড়ে৷‘‘আমাদের এখানে নৈতিকতাসম্পন্ন মানুষ যেমন আছেন তেমনি আছে সবচেয়ে দুর্নীতিপরায়ণ মানুষও৷ আছে সবচেয়ে ধনী আর সবচেয়ে দরিদ্র মানুষ৷ সবচেয়ে বুদ্ধিমান আর উদ্ভাবনী ক্ষমতার অধিকারী মানুষ'', বলেছেন একজন ছোট মাপের উদ্যোক্তা৷

স্যুদডয়চে সাইটুং লিখছে, এই আত্মসমালোচনার বিপরীতে আবার বাইরের দুনিয়ায় রয়েছে ভারতের এক অন্য ছবি৷ পশ্চিমের লেখকদের অসংখ্য সিরিয়াস গ্রন্থে স্থান পেয়েছে বিশ্বশক্তি হিসেবে এই দেশের উত্থানের কথা৷ তার বিশালতা, তার অর্থনৈতিক সংস্কার ও গণতান্ত্রিক স্থিতির কারণে এইযে উত্থান শুরু হয়েছে তা অপ্রতিরোধ্য৷

ভাষান্তর: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক

সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন

সংশ্লিষ্ট বিষয়