1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভাইরাল ভিডিও

ভারতের ‘বার্ডম্যান' প্রতিদিন ৪,০০০ টিয়াপাখিকে খাওয়ান

চেন্নাইয়ের ক্যামেরা মেকানিক ৬২ বছর বয়সি শেখর গত দশ বছরের বেশি সময় ধরে দিনে দু'বার করে বুনো টিয়াপাখিদের খাইয়ে যাচ্ছেন৷ রাত চারটের সময় উঠতে হয়, রোজগারের ৪০ শতাংশ যায় টিয়াপাখিদের খাওয়াতে৷

বছর পঁচিশেক আগে দক্ষিণ ভারতের চেন্নাইতে আসেন শেখর, তাঁর ক্যামেরা সারানোর দোকান খোলেন৷ অনেক আগে থেকেই চড়ুই, কাক আর কাঠবিড়ালিদের খেতে দেবার শখ৷ বছর দশেক আগের বিধ্বংসী সুনামির পর গোটা দু'য়েক আশ্রয়হীন টিয়াপাখিও এসে হাজির হয় খুদকুঁড়োর আশায়৷ তাদেরও কিছুটা রাঁধা ভাত খেতে দেন শেখর৷ খেতে পেয়ে পাখি দু'টো কাছেই বাসা বাঁধে৷ তাদের দেখাদেখি অন্যান্য টিয়াপাখিরা আসতে শুরু করে৷ দশ বছর পরে রোজ সকালে হাজার চারেক টিয়াপাখি চেন্নাইয়ের রোয়াপেট্টা এলাকায় শেখরের বাড়ির ছাদে এসে ভিড় করে, কেননা এই বাড়ির ছাদ হলো তাদের অন্নসত্র৷

টিয়াপাখিদের সেই অন্নসত্র চালাতে ভারতের ‘পাখি মানুষ'-কে ভোর চারটের সময় উঠে, বালতি বালতি ভাত রেঁধে, ছাদের দেয়াল থেকে দেয়াল অবধি কড়িকাঠের মতো করে পাতা কাঠের তক্তার ওপর সেই ভাত মুঠো মুঠো করে বিছিয়ে দিতে হয় – যেন টিয়াপাখিরা বিয়ে বা অন্নপ্রাশনের ভোজের অতিথি, ব্যাচ ব্যাচ করে তাদের খেতে দিতে হবে৷ শেখরের প্রতিবেশীরা বাড়ির ছাদে, সামনের রাস্তার ইলেকট্রিকের তারে ‘সবুজের মেলা' দেখে মুগ্ধ হন৷ প্রতিবেশীদের কাছে এ এক ‘রাজকীয়' দৃশ্য, চেন্নাই-এর এক (অ)সামান্য ক্যামেরা মেকানিক সেই সবুজের রাজা৷

তবে শেখর নিজেই বলেন যে, পাখিদের খাঁচায় পোরার বদলে, টিয়াপাখিরাই তাঁকে খাঁচায় পুরেছে: তাঁর কোথাও যাবার উপায় নেই, সপ্তাহে সাত দিন দিনে দু'বার করে তাঁকে এই টিয়াপাখি ভোজন করাতে হয়৷ এখন তাঁর বয়স হয়েছে, শরীরও সেটা মালুম দিচ্ছে, আর কতদিন তিনি যে এই ডিউটি করতে পারবেন, তা তিনি জানেন না৷

ধীরে ধীরে কিন্তু এই পাখি মানুষটির নাম ছড়াচ্ছে, তাঁর কাহিনির মর্ম অনেকেই উপলব্ধি করেছেন বলে ধরে নেওয়া যায়৷ কাজেই শেখর যদি নিতান্ত অপারগ হয়ে পড়েন, তবে অত বড় একটা শহরে, অত বড় একটা দেশে তাঁর কাজ কাঁধে তুলে নেওয়ার মতো মানুষ পাওয়া যাবে না, এটা বিশ্বাস করা শক্ত৷

শেখর তো নিজেই বলেছেন, ‘এ সব কিছু হলো ভালোবাসা৷' কোন মনীষী যেন বলেছিলেন, ‘বহু রূপে সম্মুখে তোমার...?'

এসি/ডিজি

নির্বাচিত প্রতিবেদন