1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

ভারতের বস্ত্রশিল্পে নারী শ্রমিকদের দুর্দশা

দিনে ১৬ ঘণ্টা অবধি কাজ, বাড়ি ছেড়ে দূরে থাকা, নামমাত্র পারিশ্রমিক৷ এভাবেই লক্ষ লক্ষ নারী কর্মী তামিলনাড়ুর স্পিনিং মিলগুলোয় কাজ করে চলেছেন৷ এ যেন এক আধুনিক দাসপ্রথা৷

লেখা নামের মেয়েটি একটু স্বাচ্ছন্দ্যের মূল্য চুকালো তার জীবন দিয়ে৷ লেখা যখন ষোড়শী, তখন একটি লোক এসে তার বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করে৷ লোকটি ছিল দালাল৷ কোনো স্পিনিং মিলের জন্য শ্রমিক সংগ্রহ করতে এসেছিল৷ কত ভালো চাকরি, তার কত সুবিধা – লেখার বাবাকে এসব বোঝায় সেই দালাল৷ বাবাও মেয়েকে তার হাতে ছেড়ে দিতে রাজি হয়ে যান৷

স্পিনিং মিলের কাজ করতে যে পরিমাণ শক্তির প্রয়োজন, লেখার তা ছিল না৷ সে অসুস্থ হয়ে পড়ে৷ জ্বর-বেদনা সত্ত্বেও তাকে কাজ করতে বাধ্য করা হয়৷ অথচ কোনো ওষুধপত্র দেওয়া হয়নি৷ শেষমেশ লেখাকে হাসপাতালে যেতে হয়৷ মোটামুটি সুস্থ হয়ে ওঠার পর তার বাবা আবার বলে-কয়ে তাকে মিলের কাজে ফিরতে রাজি করান৷ এর কয়েক সপ্তাহ পরেই লেখা কেঁদে-কেটে তার বাবাকে বলে, তাকে বাড়ি নিয়ে যেতে, নয়ত সে মারা যাবে৷ ঘটেও তাই৷ বাবা লেখাকে আবার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরদিনই মারা যায় লেখা৷ দুর্বল শরীর আর ধকল সহ্য করতে পারেনি৷

আনিবেল ফেরুস-কোমেলো

ভারতের নারীদের মর্মান্তিক জীবনকাহিনির কথা জানিয়েছেন আনিবেল ফেরুস-কোমেলো

সংগঠিত শোষণ

লেখার মর্মান্তিক জীবনকাহিনি শুনিয়েছেন আনিবেল ফেরুস-কোমেলো৷ ভারতের বস্ত্রশিল্পে মহিলা শ্রমিকদের দুর্দশা যে বাংলাদেশের গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রির চেয়ে কোনো অংশে কম নয়, সেটাই দেখিয়েছেন তিনি তাঁর জরিপে৷ ভারতের সিভিডেপ নামের একটি এনজিও, সেই সঙ্গে জার্মানির নারী অধিকার সংগঠন ফেমনেট যৌথভাবে তাঁকে এই জরিপের দায়িত্ব দিয়েছিল৷

প্রধানত গ্রামাঞ্চলের কম বয়সি মেয়েদের লোভ দেখিয়ে নিয়ে আসা হয় তামিলনাড়ুর প্রায় ২ হাজার স্পিনিং মিলের কোনো একটিতে তিন বছরের জন্য কাজ করতে৷ দক্ষিণ ভারতের বস্ত্রশিল্পে তিন থেকে চার লাখ মানুষ কাজ করে৷ তাদের তিন-চতুর্থাংশ নাকি প্রাপ্তবয়স্ক হবার আগেই কাজ শুরু করে৷

যেখানে কাজ, সেখানেই থাকা

মহিলা শ্রমিকদের বলা হয় ‘ক্যাম্পকর্মী'৷ তাদের মজুরি জমা হতে থাকে; দেওয়া হয় তিন বছরের চুক্তি শেষ হবার পরে ‘থোক' হিসেবে৷ বিয়ের সময় সেই টাকা থেকে যৌতুক দেওয়া হয়৷ গোটা ব্যবস্থাটার নাম রাখা হয়েছে ‘সুমঙ্গলী'৷

এই সুমঙ্গলী অথবা ক্যাম্প প্রথায় যারা কাজ করে, সে সব মেয়েরা সাধারণত আসে দরিদ্র, ব্রাত্য পরিবার থেকে৷ কারখানার মধ্যে এদের প্রায় বন্দি করে রাখা হয় – জানালেন সমাজত্ত্ববিদ আনিবেল ফেরুস-কোমেলো৷ শুধু অর্থনৈতিক শোষণই নয়, তার সঙ্গে থাকে শারীরিক ও যৌন নিপীড়ন৷ স্রেফ চরম ক্লান্তি আর বিশ্রান্তি থেকে মৃত্যু হওয়ার ঘটনাও বিরল নয়৷

খালি হাত-পায়ে, কোনোরকম সুরক্ষার ব্যবস্থা ছাড়াই কঠিন শারীরিক পরিশ্রম করে থাকে এই মেয়েরা, রাসায়নিক নিয়ে ঘাঁটাঘাটি করে৷ অপরদিকে একটি ঘরে দশ-পনেরোজন করে থাকে৷ সরকারি নিয়ন্ত্রক ও পরিদর্শকরা কখনো-সখনো উদয় হন, তার বেশি কিছু ঘটে না, কেননা বস্ত্রশিল্প তামিলনাড়ু তথা ভারতের বিকাশে একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে সরকারের ধারণা৷

বাংলাদেশের মতো ভারতের পোশাক শ্রমিকরাও যে চরম দুর্দশার মধ্যে জীবন কাটাচ্ছেন, সেটা কি আপনার জানা ছিল?

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়