1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

ভারতের দাসপ্রথার ঘৃণ্য চিত্র এবং করণীয়

গত বছর ভারতের এক পার্লামেন্ট সদস্যের স্ত্রীর হাতে গৃহকর্মীকে নির্যাতন ও তাঁর মৃত্যুর ঘটনা হৈচৈ ফেলে দিয়েছিল পুরো দেশে৷ গ্রেপ্তার হন ঐ পার্লামেন্ট সদস্যের স্ত্রী৷ সহিংসতার ভয়াবহতা রোধে সোচ্চার হয়ে ওঠে বিভিন্ন সংগঠন৷

default

ভারতে গৃহকর্মীদের উপর নির্যাতনের ঘটনা বেড়ে চলেছে

গৃহকর্মীদের অধিকারের ব্যাপারে কোনো আইন না থাকায় ভারতে দিন দিন বাড়ছে তাঁদের উপর সহিংসতা৷ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ১৫ বছরের এক গৃহকর্মী জানায়, দক্ষিণ দিল্লিতে এক সিনিয়র কর্পোরেট কর্মকর্তার বাড়িতে তিন মাস কাজ করেছিল সে৷ এই তিন মাসে ঐ ব্যক্তি আচড়ে-কামড়ে ক্ষত-বিক্ষত করেছে তার শরীর৷ গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে মাথাতেও৷ সেই আতঙ্ক এখনও তার পিছু ছাড়েনি৷ সে যে বেঁচে আছে, এটাই তার কাছে বিস্ময় মনে হয়৷

ডয়চে ভেলেকে সে জানায়, প্রায় প্রতিদিনই ঐ ব্যক্তি তাকে নির্যাতন করত৷ মার খাওয়ার ফলে দুর্বল হয়ে পড়ত সে এবং বেশিরভাগ দিনই তাকে খাবার দেয়া হত না৷ এমনকি সে যাতে পালিয়ে যেতে না পারে, সেজন্য যথেষ্ট কাপড়ও পড়তে দেয়া হত না তাকে৷

সেপ্টেম্বর মাসের শেষের দিকে এক সন্ধ্যায় প্রতিবেশী একজন তার চিৎকার শুনে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায় এবং ঐ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে৷

এরপর দিল্লিতে গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় এক বিমানবালাকে৷ ১২ বছরের একটি গৃহকর্মীকে লাঠিপেটা করে প্রায় আধমড়া করে ফেলেছিলেন ঐ নারী৷ এক বছর ধরে তার বাসায় কাজ করেছে মেয়েটি৷ চাইল্ড ওয়েলফেয়ার বোর্ডকে ঐ গৃহকর্মী জানায়, এক বছর সেখানে কাজ করেছে সে৷ প্রতিদিন ঐ মহিলা নেশাগ্রস্ত হয়ে তাকে বেধড়ক পেটাতো৷

সবশেষ যে ঘটনাটি ঘটেছে তা ভয়াবহ৷ বহুজন সমাজ পার্টির সংসদ সদস্যের স্ত্রীর হাতে নির্যাতনের ফলে মারা যায় ১৭ বছরের গৃহকর্মী৷ অবশ্য গ্রেপ্তার হয় ঐ নারীকে৷

এ সব ঘটনা ভারতে গৃহকর্মীদের উপর সহিংসতার চিত্রই তুলে ধরেছে৷ ভারতের পূর্ব এবং উত্তরাঞ্চল থেকে দরিদ্র পরিবারের লাখো নারী ও শিশু রাজধানীতে কাজের খোঁজে আসে৷ এরপর পাচার এবং সহিংসতা শিকার হয়৷ ২০০৬ সালে ভারতে ১৪ বছরের কম বয়সি ছেলে-মেয়েদের কাজ করা নিষিদ্ধ করা হলেও ঝাড়খন্ড, ছত্তিশগড় বা পশ্চিমবঙ্গে এ আইন মানা হয় না৷

শক্তিবাহিনী নামে একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান ঋষিকান্ত ডয়চে ভেলেকে জানান, ছোট ছোট শহর থেকে বড় শহরগুলো ছেলে-মেয়ে নিয়ে আসে বিভিন্ন সংস্থা এবং বিভিন্ন বাসায় কাজে নিয়োগ করে৷ একটি চক্র এ কাজের সাথে জড়িত৷

শক্তিবাহিনীর কাজ হলো বাসায় কাজ করে নির্যাতনের শিকার এমন ছেলে-মেয়েদের উদ্ধার করা৷ দিল্লিতে এ পর্যন্ত অন্তত ৬০০ নারী ও শিশুকে পাচার ও নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা করেছে প্রতিষ্ঠানটি৷

গৃহকর্মীদের রক্ষায় আইন করার দাবি যত সোচ্চার হচ্ছে, ভারত সরকার যেন ততটাই বধির৷ গত কয়েক বছর আগে এ ধরনের আইনের একটা খসড়া জমা দেয়া হয়েছে, যেটা নিয়ে কোনো কাজ হয়নি৷

ঐ খসড়ায় গৃহকর্মীদের বেতন, কাজের সময় এবং ছুটির অধিকারের কথা বলা হয়েছে৷ ন্যাশনাল কমিশন ফর প্রটেকশান অফ চাইল্ড রাইটস-এর সদস্য নীনা নায়ক ডয়চে ভেলেকে বলেছেন, খুব দ্রুত এ ব্যাপারে আইন করে তার বাস্তবায়ন করা উচিত৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়