1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

ভারতের গ্রামগুলোতে ‘স্কাইপ স্কুল’ জ্ঞানের পরিধি বাড়াচ্ছে

বিদ্যুৎ চলে যায়, ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং অনেক সময় স্পিকারগুলোও কাজ করে না৷ কিন্তু এসব কিছু দমিয়ে রাখতে পারেনি সন্তোষ কুমারকে৷ কারণ তিনি জানেন, বহু দূরে ভারতের পূর্বাঞ্চলে কুড়িজন ছাত্র তাঁর ওপরে নির্ভর করে৷

default

ভারতের একটি স্কুল

নতুন দিল্লিতে কুমারের দোতলা বাড়ি থেকে ৯৭০ কিলোমিটার দূরে বিহার রাজ্যের এক দরিদ্র গ্রাম চামনপুরা৷ সেখানেই সপ্তাহে একদিন কম্পিউটারে ‘স্কাইপ' প্রোগ্রাম ব্যবহার করে শিশুদের অংক শেখান সন্তোষ কুমার৷ একটি প্রোজেক্টরের মাধ্যমে বিনা পয়সায় ক্লাসে এই ইন্টারনেট সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে৷ সেই প্রোজেক্টার দিয়েই শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা নিজেদের ভাব আদান-প্রদান করতে পারে৷ একে-অন্যকে দেখতে পারে, কথাও বলতে পারে৷ কুমার বললেন, ‘‘আমি যেদিন প্রথম এই প্রযুক্তি ব্যবহার করি, তারা সকলেই খুব অভিভূত হয়ে পড়ে৷ কিন্তু এখন আর আদের এভাবে অংক করাটাকে অদ্ভূত বলে মনে হয় না৷ এখন তাদের কাছে এটি খুবই স্বাভাবিক৷''

৩৪ বছরের কুমার একজন সফল প্রকৌশলী৷ প্রথমে ভারতের নামকরা ‘ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলজি' বা আইআইটি-তে পড়ালেখার জন্য, একটি আসন নিশ্চিৎ করতে প্রাণপাত যুদ্ধ করা এবং পরে রাজধানী নতুন দিল্লিতে ভালো বেতনের একটি কাজ পাবার আগে কুমার ঐ চামনপুরা গ্রামেই বড় হয়েছেন৷ কিশোর বয়সে আট মাইল দুরের কলেজে সাইকেল চালিয়ে গিয়ে ক্লাস করেছেন কুমার৷ সেই কথা স্মরণ করে তিনি বললেন, ‘‘গ্রামগুলোতে শিক্ষার আলো নিয়ে আসা এক দুরূহ কাজ৷''

কুমারের দূর সম্পর্কের ভাই চন্দ্রকান্ত সিং-ও একজন ভালো বেতনের প্রকৌশলী৷ তিনি একবার সেই গ্রামে গিয়ে সিদ্ধান্ত নেন, একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার৷ যেখানে ছাত্রছাত্রীদের বয়স হবে ৬ থেকে ১২ বছর৷ সিং বলেন, ‘‘বিশ্বের সবচেয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলের ছাত্রদের বিশ্বমানের শিক্ষার ব্যবস্থা করতে চেয়েছিলাম আমি৷''

চামনপুরা গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগের সেরকম কোনো ব্যবস্থা নেই৷ ভালো শিক্ষকও খুব একটা পাওয়া যায় না সেখানে৷ তাই সিং তাঁর বন্ধুদের অনুরোধ করেন, চৈতন্য গুরুকুল বোর্ডিং বিদ্যালয়ের জন্য চাঁদা দিতে৷ এরপর সবকিছুর জন্য দুটো পাওয়ার জেনারেটর স্থাপন করেন চন্দ্রকান্ত সিং৷ এমনকি পেশাদারদের দিয়ে ‘স্কাইপ' ব্যবহার করে ভারতের বিভিন্ন জায়গায় শিক্ষা দেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবে পরিণত করার আগে, স্থানীয় ১৬ জন শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেবার ব্যবস্থা করেন তিনি৷ সিং বলেন, ‘‘বিশ্বের বিখ্যাত শিক্ষকরা ঐসব জায়গায় যেতে চাইবেন না৷ তাই একটা সময় আমার মাথায় আসে যে, আমরা তো প্রযুক্তি ব্যবহার করেই ছাত্রদের দ্রুত শিক্ষার ব্যবস্থা করতে পারি৷''

ঐ বিদ্যালয়টি উদ্বোধন করা হয় ২০১০ সালের এপ্রিল মাসে৷ অর্থাৎ একবছর আগে৷ আর এরমধ্যেই ৫শ ছাত্রকে ভর্ত্তীর সুযোগ দেওয়া হয়েছে৷ যাদের মধ্যে ৫০ জনকে পড়ালেখার বিনিময়ে কিছুই দিতে হয়না৷ আর বাকিরা তাদের বাবা-মায়ের সামর্থ অনুযায়ী পড়ালেখার খরচ দিয়ে থাকে৷ দিনের নিয়মিত ক্লাসের পর, সন্ধায় এবং সপ্তাহান্তে ‘স্কাইপ'এর ব্যবহারও শেখানো হয় সেখানে৷

প্রতিবেদন: ফাহমিদা সুলতানা

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ

সংশ্লিষ্ট বিষয়