1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

ভারতের আসন্ন নির্বাচনে মুসলিম ভোট যেদিকে...

ভারতে ২০১৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে মুসলিমদের ভোট রাজনৈতিক দলগুলির কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ? ভোট বিন্যাসে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে সংখ্যালঘু ভোট? একাধিক সমীক্ষা বলছে, মুসলিম ভোটাররা কিছুটা বিভ্রান্ত৷ তাঁরা নাকি রয়েছেন দোটানায়৷

ভারতে ২০১৪ সালের সাধারণ নির্বাচন দরজায় কড়া নাড়ছে৷ একাধিক জনমত সমীক্ষা নিয়ে চলেছে অনুপুঙ্খ বিচার-বিশ্লেষণ৷ এক সমীক্ষা বলছে, ১৬০ থেকে ২০০-র বেশি আসনে মুসলিম ভোটারদের গুরুত্ব অপরিসীম৷ তাঁদের ভোটই হবে জয়পরাজয়ের নির্ণায়ক৷ কিন্তু সেই ভোট কি যাবে বিজেপির ঝুলিতে?

অন্য এক সমীক্ষা বলছে, ধর্মীয় মেরুকরণের হাওয়া অতটা বিজেপি বিরোধী নয়৷ সেটা বুঝেই ভোট ময়দানে মুসলিমদের মন জয় করতে ঝাঁপিয়ে পড়েছে বিজেপির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদী৷ গৈরিক বিভাজনের নীতিকে পাথর চাপা দিয়ে নির্বাচনি অভিযানে তুলে ধরছেন সব সম্প্রদায়ের বিকাশের ধ্বজা৷ মোদী তথা বিজেপি উপলব্ধি করেছে যে, মুসলিম ভোটব্যাংক ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর গদি দখলের স্বপ্ন সাকার হবে না৷ তাই ২০০২ সালের গুজরাট হিংসা বিজেপির ভোটব্যাংকে ছাপ ফেলতে পারে মনে করে সেই ক্ষত মুছিয়ে দিতে বিজেপি সভাপতি রাজনাথ সিং ক্ষমা চেয়ে আর একবার বিজেপিকে সুযোগ দেবার আবেদন জানিয়েছেন মুসলিম ভাইদের কাছে৷ মোটকথা, মুসলিম ভোট নিজেদের দিকে টানা বিজেপি নেতৃত্বের কাছে বড়সড় নির্বাচনি চ্যালেঞ্জ৷ পাল্টা আক্রমণে কংগ্রেস অবশ্য বলেছে, ক্ষমা চাইবেন রাজনাথ সিং নয়, ক্ষমা চাইতে হবে মোদীকে৷ তিনিই আসল নাটের গুরু৷

সব সমীক্ষাতেই বলা হয়েছে, নির্বাচনি ফলাফল বিজেপির ভালো হবে এবং কংগ্রেসের ফলাফল আশানুরূপ হবে না৷ রাহুল গান্ধীর চেয়ে এগিয়ে থাকবেন নরেন্দ্র মোদী৷ কংগ্রেসের উপর মুসলিম ভোটারদের আস্থা টলে গেছে নানা কারণে৷ দুর্নীতি ও মূল্যবৃদ্ধি রোধে ব্যর্থতার পাশাপাশি মুসলিম সম্প্রদায়কে দেয়া প্রতিশ্রুতি পালনে ব্যর্থ হয়েছে কংগ্রেস৷ ২০০৪ এবং ২০০৯ সালের নির্বাচনে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোট সরকার মুসলিমদের সার্বিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সাচার কমিটির সুপারিশ কার্যকর করার অঙ্গীকার আজও দিনের আলো দেখেনি৷ এই পরিস্থিতিতে মুসলিম ভোটাররা পড়েছে দোটানায়

তাহলে কাকে ভোট দেয়া ঠিক হবে? ধর্ম-ভিত্তিক রাজনীতিতে মুসলিম সমাজ কার্যত বীতশ্রদ্ধ৷ কোনো দলই মুসলিমদের অভাব অভিযোগের প্রতিকারে আন্তরিক চেষ্টা করেনি৷ তা সে কংগ্রেস হোক বা মুলায়েম সিং-এর সমাজবাদী পার্টি হোক, মমতা বন্দোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস হোক কিংবা মায়াবতীর বহুজন সমাজ পার্টি হোক৷ উত্তর প্রদেশের মুজফ্ফরনগরে হালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে৷

এই প্রেক্ষাপটে মুসলিম ভোটারদের একাংশ মনে করছে দেখাই যাক না বিজেপিকে আর একবার সুযোগ দিয়ে৷ অতীতের ভুল সংশোধন করে মুসলিম ধর্মবিশ্বাসকে আঘাত না করে বিজেপি যদি কিছ করে মুসলিম সমাজের কল্যাণের জন্য? অন্য অংশ মনে করছে, মোদী যদি গদি দখলের সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করে মুসলিমদের? তাহলে? কাজেই মুসলিমদের ভোট দেয়া উচিত কোনো দলকে নয়, প্রার্থী বিচার করে৷ এই অবস্থায় ভারতের মুসলিম নেতাদের এক কমিটি স্থির করবেন মুসলিমদের স্বার্থরক্ষায় কাকে ভোট দেয়া উচিত৷

উল্লেখ্য, ভারতে ১৩ শতাংশ ভোটদাতা মুসলিম৷ ১০০টি সংসদীয় কেন্দ্রে ১৫-২০ শতাংশ, ৩৫টি কেন্দ্রে ৩০ শতাংশ এবং ৩৮টি আসনে মুসলিম ভোটদাতাদের সংখ্যা ২০ থেকে ৩০ শতাংশের মতো৷ কাজেই আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে মুসলিম ভোটবাক্স নির্ণায়ক ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করছেন ভোট বিশেষজ্ঞরা৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন