1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

ভারতের আদালতের রায়ে ক্ষুব্ধ ফেলানীর বাবা

কুড়িগ্রাম সীমান্তে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গুলিতে বাংলাদেশি কিশোরী ফেলানী খাতুন হত্যার রায়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে কিশোরীর বাবা নুরুল ইসলাম ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এই রায়ে আমরা ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হলাম৷’’

An Egyptian woman mourns over a coffin which allegedly contains the body of one of the 37 Islamist prisoners who suffocated on tear gas that was fired after they took an officer hostage on their way to a main prison, at the Zeinhom Morgue in Cairo on August 19, 2013. Militants killed 25 policemen in the deadliest attack of its kind in years, as Egypt's army-installed rulers escalated a campaign to crush ousted president Mohamed Morsi's Muslim Brotherhood. The assailants fired rocket-propelled grenades at two buses carrying police in the Sinai Peninsula, sources said, just hours after 37 Brotherhood prisoners died in police custody. AFP PHOTO/STR (Photo credit should read STR/AFP/Getty Images)

প্রতীকী ছবি

বৃহস্পতিবার বিএসএফ-এর বিশেষ আদালত ফেলানী হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত একমাত্র আসামী বিএসএফের জওয়ান অমীয় ঘোষকে নির্দোষ বলে রায় দিয়েছে৷ বিষয়টি শুক্রবার আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলোতে প্রথম প্রকাশ পায়৷ বৃহস্পতিবার রাতেই অমীয় ঘোষকে মুক্তি দেয়া হয়েছে৷ ২০১১ সালের ৭ই জানুয়ারি কুড়িগ্রামের অনন্তপুর সীমান্তে ফেলানীকে গুলি করে হত্যা করে বিএসএফের ১৮১ ব্যাটালিয়নের চৌধুরীহাট ক্যাম্পের এক জওয়ান৷

ফেলানীর বাবা কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার দক্ষিণ রামখানা ইউনিয়নের বানার ভিটা গ্রামের নুরুল ইসলাম নূরু৷ তিনি ১০ বছর ধরে দিল্লিতে কাজ করতেন৷ তাঁর সঙ্গে সেখানেই থাকতো ফেলানী৷ দেশে বিয়ে ঠিক হওয়ায় বাবার সঙ্গে ফেরার পথে সীমান্ত পার হওয়ার সময় কাঁটাতারের বেড়ায় কাপড় আটকে যায় ফেলানীর৷ এতে ভয়ে সে চিত্‍কার দিলে বিএসএফ তাকে গুলি করে হত্যা করে এবং পরে লাশ নিয়ে যায়৷ কাঁটাতারের বেড়ায় ফেলানীর ঝুলন্ত লাশের ছবি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়৷ বাংলাদেশ সরকার ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকেও এর কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়৷

TO GO WITH Bangladesh-India-border-history-enclaves,FEATURE by Shafiq AlamIn this photograph taken on December 10, 2010, an Indian security official opens the gate of Indian ruled Rangpur some 350 kms north from Dhaka. Little bits of India are in Bangladesh, and little bits of Bangladesh are in India. The existence of 'enclaves' on either side of the border is a bizarre anomaly that might finally be solved by a swap. The islands of land result from ownership arrangements made centuries ago between local princes, surviving partition of the sub-continent in 1947 after British rule, and Bangladesh's 1971 war of independence with Pakistan. AFP PHOTO (Photo credit should read STRDEL/AFP/Getty Images)

ভারত থেকে বাংলাদেশের সীমান্ত পাড় হওয়ার সময়ই বিএসএফ ফেলানীকে গুলি করে হত্যা করে

গত ১৩ই আগস্ট ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কোচবিহার জেলায় সোনারি বিএসএফ ছাউনিতে জওয়ান অমীয় ঘোষের বিচার শুরু হয়৷ পাঁচজন বিচারক এই বিচার প্রক্রিয়া পরিচালনা করেন৷ আদালত পরিচালনা করেন বিএসএফ-এর গুয়াহাটি ফ্রন্টিয়ারের ডিআইজি (কমিউনিকেশনস) সি পি ত্রিবেদী৷ আদালত অমীয় ঘোষের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৪ ধারায় অনিচ্ছাকৃত খুন এবং বিএসএফ আইনের ১৪৬ ধারায় অভিযোগ আনে৷

এরপর ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম ও মামা আব্দুল হানিফ ভারতে গিয়ে এই মামলায় সাক্ষ্য দেন৷ মেয়ের হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন ফেলানীর বাবা৷ কুড়িগ্রাম জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আব্রাহাম লিংকন এই মামলায় ফেলানীর পরিবারকে আইনি সহায়তা দেন৷ তাঁদের সঙ্গে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৪৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল জিয়াউল হক খালেদও ভারতে যান মামলার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে৷ অবশেষে বৃহস্পতিবার সেই মামলার রায়ে একমাত্র আসামি অমীয়কে খালাস দেয় আদালত৷ রায়ে বলা হয়, অমীয় ঘোষের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ পায়নি আদালত৷

বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ শুক্রবার বিকেলে ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘মিডিয়ার কাছ থেকেই এই রায়ে কথা আমরা শুনেছি৷ বিএসএফ বা ভারত সরকার এই ব্যাপারে আমাদের আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই বলেনি৷ তবে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য আমরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে যাচ্ছি৷''

অ্যাডভোকেট আব্রাহাম লিংকন বলেন, ‘‘এই রায় আনুষ্ঠানিকভাবে আমরা পাইনি৷ তবে একমাত্র আসামি অমিয় ঘোষ যদি নির্দোষ প্রমাণিত হন, তাহলে তা হবে দুঃখজনক৷ তাছাড়া অমীয় নিজেই স্বীকার করেছেন, তাঁর অস্ত্র দিয়েই গুলি করা হয়েছে৷ তার মানে তিনি আত্মস্বীকৃত হত্যাকারী৷ এরপরও যদি তিনি খালাস পেয়ে যান, তাহলে সীমান্তে বিএসএফের আচরণ এখন কেমন হবে তা সহজেই অনুমেয়৷'' এই আইনজীবী আরও বলেন, ‘‘ফেলানীর পরিবার ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হল৷ রাষ্ট্রের উচিত এ ব্যাপারে যথাযথ খোঁজখবর নিয়ে আইনগত লড়াই চালিয়ে যাওয়া৷''

ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম নুরু বলেন, ‘‘এই রায়ে আমি ক্ষুব্ধ, হতাশ৷ আমার মেয়েকে হত্যা করা হল আর আসামি খালাস পেয়ে গেলেন৷ আদালত এই রায় দিয়ে থাকলে আমাদের সঙ্গে অন্যায় আচরণ করা হয়েছে, আমরা ন্যায় বিচার পায়নি৷'' পুনরায় বিচার করার অনুরোধ জানিয়ে নুরুল ইসলাম বলেন, ‘‘আমাদের সরকারের কাছে আমি অনুরোধ করব, তারা যেন বিষয়টি নিয়ে ভালোভাবে আইনগত লড়াই চালিয়ে যায়৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়