1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

ভাইরাস হল বিশ্বের প্রাচীনতম অর্গানিজমের অন্যতম

এগুলো এত ক্ষুদ্র যে, শুধু মাত্র ইলেকট্রনিক মাইক্রোস্কোপের মাধ্যমেই দেখা যায় তাদের৷ তাই ভাইরাসের অস্তিত্ব সম্পর্কে অনেক আগেই আঁচ করা গেলেও সবে ঊনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি বিশেষ অণুবীক্ষণ যন্ত্রে ধরা পড়ে তারা৷

default

এসব ভাইরাস খালি চোখে দেখা যায় না

ভাইরাসরা খোলা জায়গায় বেশিক্ষণ টিকে থাকতে পারেনা৷ এ জন্য তাদের কোনো আস্তানার প্রয়োজন৷ মানুষ, পশু পাখি বা গাছগাছালিকে সংক্রমণ করে বাড়তে থাকে তারা৷ এইডস, বসন্ত, পোলিওর মত নানা রকম ব্যাধির সৃষ্টি হয় ভাইরাস থেকে৷ প্রাচীন কালে যে রোগটিকে খুব ভয়ের চোখে দেখা হত, তা হল জলাতঙ্ক৷ প্রাণী, বিশেষ করে কুকুর থেকে মানুষের দেহে সংক্রামিত হয় এই রোগ ভাইরাসের মাধ্যমে৷ প্রাচীন গ্রিসে জলাতঙ্কের চিকিৎসা পদ্ধতিটা ছিল অত্যন্ত নির্মম৷ কুকুরে কামড়ানো জায়গাটা গরম লোহার শিক দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হত৷ বহু রোগীকে আবার জলের নীচেও ডুবিয়ে রাখা হত অনেকক্ষণ৷ জলাতঙ্কের মত ভাইরাসজনিত নানা রোগের সুচিকিৎসার জন্য বিজ্ঞানীরা অনবরত গবেষণা করে চলেছেন৷

অন্যদিকে ভাইরাসরা মার্টিনা ফ্রিসলান্ডের নিত্যসঙ্গী বলা যায়৷ হানোফার শহরের ‘টুইনকোর' নামের গবেষণা প্রতিষ্ঠানে ‘পরীক্ষামূলক ভাইরাস বিজ্ঞান' বিভাগে কাজ করছেন মার্টিনা৷ বিশেষ করে হেপাটাইটিস সি ভাইরাস নিয়েই কাজকর্ম তাঁর৷ এই ভাইরাস থেকে লিভার সিরোসিসের মত মারাত্মক অসুখ হয়৷ তবে মার্টিনা ফ্রিসলান্ড খুব একটা ভয় পাননা এই সব ভাইরাসকে৷ তিনি বলেন, ‘‘একদম প্রথম দিকে আমার এক অদ্ভুত অনুভূতি হত৷ যা নিয়ে আমি কাজ করছি, তারা তো ভাইরাস৷ কিন্তু সচেতনভাবে কাজ করলে এবং সাবধানতা মেনে চললে বিপদের সম্ভাবনা নেই৷ এ বিষয়ে আমি নিশ্চিত৷''

Maus Virus Überträger Hausmaus

পশুপাখি থেকেও আসছে বিভিন্ন ভাইরাস

ভাইরাসের মারাত্মক প্রভাব

ভাইরাসজনিত মহামারি বিশ্বের বড় বড় ঐতিহাসিক ঘটনাকেও প্রভাবিত করেছে৷ ফ্রান্সে নেপোলিয়নের রাজত্বের সময় আবার ক্রীতদাস প্রথা চালু করার চেষ্টা করা হয়েছিল৷ এই লক্ষ্যে ২৫ হাজারের বেশি সেনা পাঠানো হয়েছিল হাইতিতে৷ কিন্তু সেনারা ইয়েলো ফিভার নামে এক ধরনের ভাইরাসবাহী রোগে আক্রান্ত হয়ে দলে দলে মারা যেতে থাকে৷ এই অসুখ হলে রোগীর বমি হতে থাকে, লিভার কাজ করেনা, গায়ের রঙ হলদে হয়ে যায়৷ অবশেষে ফরাসি সরকার হাইতি থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হয়৷

মারাত্মক সংক্রামক রোগ থেকে রক্ষা পেতে হলে নিচ্ছিদ্র সতর্কতা ব্যবস্থাও নেওয়া প্রয়োজন৷ ভাইরাস নিয়ে গবেষণাগারে কাজ করতে হলে তো কথাই নেই৷ মার্টিনা ফ্রিসলান্ড জানান, ‘‘আমাদের অপারেশন থিয়েটারের মত এক ধরনের অ্যাপ্রন পরে কাজ করতে হয়৷ বিশেষ ধরনের জুতা রয়েছে আমাদের৷ হাতে দুটো করে গ্লাভস পরতে হয়৷ এর কারণ, কোনো কিছু ধরে পরে যদি মনে হয় ওখানে ভাইরাস থাকতে পারে, তা হলে ওপরের গ্লাভসটি খুলে ফেললেই হল৷''

Symbolbild Ukraine Schwinegrippe Virus

এভাবেই কী আমাদের চলাফেরা করতে হবে?

ভাইরাসজনিত বিভিন্ন রোগের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য টিকাও বের করা হয়েছে৷ কিন্তু এইডস বা হেপাটাইটিস ভাইরাস এতই বৈচিত্র্যময় যে তাদের আয়ত্তে আনা খুব কঠিন৷ এ প্রসঙ্গে ভাইরাস বিশেষজ্ঞ টমাস পিচমান বলেন, ‘‘এটা নিশ্চিত করে বলা যায়, প্রাণীদের মত ভাইরাসদের জগতেও রয়েছে বিশাল ও বৈচিত্র্যময় ভাণ্ডার৷ আমরা মানুষরা যেমন স্তন্যপায়ী অন্যান্য জীবজন্তু যেমন কুকুর, বেড়াল বা ইঁদুর থেকে আলাদা, তেমনি ভাইরাসদের মধ্যেও রয়েছে নানা ধরনের বংশ ও পরিবার৷ এই সব ভাইরাস বিবর্তন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একেক ভাবে আত্মপ্রকাশ করে, সংক্রমণের জন্য বেছে নেয় একেক ধরনের প্রাণী, হাল চালও তাদের ভিন্নতর৷''

গবেষণা চলছে, চলবে

প্রফেসর পিচমান ‘টুইনকোর' গবেষণা প্রতিষ্ঠানে ‘পরীক্ষামূলক ভাইরাস বিজ্ঞান' বিভাগের প্রধান৷ হানোফারের মেডিকেল ইউনিভার্সিটি ও ব্রাউনশোয়াইগের ইনফেকশন রিসার্চ সেন্টারের যৌথ উদ্যোগে গঠিত ‘টুইনকোর' গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি হেপাটাইটিস সি ভাইরাসের

Zellulär basiertes Screening

গবেষণা চলছে, চলবে

নাড়িনক্ষত্র জানার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে এখন৷ এই ভাইরাসগুলি অত্যন্ত সংবেদনশীল, ল্যাবরেটরির কালচার ডিশে সহজেই বংশ বৃদ্ধি হয় তাদের৷ এই প্রসঙ্গে প্রফেসর টমাস পিচমান জানান, ‘‘এই সব ভাইরাসের একটা চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য হল, প্রয়োজন হলে তারা বদলে যেতে পারে৷ অনেকটা এইচ আই ভি ভাইরাসের মত তারা৷ বার বার নতুন রূপ ধারণ করে সুকৌশলে শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতাকে পাশ কাটিয়ে যেতে পারে হেপাটাইটিটিস সি ভাইরাস৷''

এ ক্ষেত্রে একটা বড় প্রশ্ন থেকেই যায়৷ আর তা হল, হেপাটাইটিস সি ভাইরাসের সংক্রমণ হলে শতকরা ২০ জন মানুষের বড় রকমের কোনো সমস্যা হয়না৷ কিন্তু শতকরা ৮০ জন ক্রনিক বা দীর্ঘমেয়াদী অসুখের কবলে পড়ে, যা থেকে অনেক সময় লিভার সিরোসিস বা ক্যানসারের মত রোগও দেখা দেয়৷ টমাস পিচমান মনে করেন, মানুষের দেহের রোগ প্রতিরোধী শক্তির ওপরই নির্ভর করে অসুখের ধরনধারণ৷ আশা করা হচ্ছে, একদিন হয়তো হেপাটাইটিস সি ভাইরাসকে কাবু করার জন্য কার্যকর কোনো ওষুধ বের করা যাবে৷

প্রতিবেদন: রায়হানা বেগম

সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন

সংশ্লিষ্ট বিষয়