1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

ভাইরাস কাবু করতে নতুন উদ্যোগ

চিকিৎসাশাস্ত্রে ব্যাপক উন্নতি ঘটে চললেও ভাইরাসের বিরুদ্ধে সংগ্রামে মানুষ যেন তেমন সাফল্য পাচ্ছে না৷ এই ধারণাকে ভুল প্রমাণিত করতে পারে নতুন এক ওষুধ, যা ভাইরাসের বংশবৃদ্ধি বন্ধ করে তাকে অকেজো করে তোলে৷

ভিডিও দেখুন 03:40

ভাইরাসের বংশবৃদ্ধি বন্ধ করতে নতুন ওষুধ

শতাব্দীর শুরুতে বিশেষজ্ঞরা লাখ লাখ মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা করেছিলেন৷ এশিয়ায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছিল ফুসফুসের রোগ সার্স৷ এক অজানা করোনা-ভাইরাস ছিল তার উৎস৷ ২০০৩ সাল পর্যন্ত এই রোগে প্রায় ৮০০ মানুষের মৃত্যু হয়, ৮,০০০-এরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হন৷ সার্স নিরাময়ের উপায় আজও জানা যায়নি৷

জার্মানির বন ও মিউনিখ শহরের ভাইরোলজিস্টদের এক দল এবার এমন এক ওষুধ আবিষ্কার করেছে, যা শুধু সার্স-এর বংশবৃদ্ধি বন্ধ করে না৷ সাইক্লোস্পোরিন নামের এই ওষুধ নানা রকমের করোনা ভাইরাসের বংশবৃদ্ধি বন্ধ করে৷ ভাইরাস মোকাবিলার ক্ষেত্রে এমনটা আগে সম্ভব হয়নি৷

বন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরোলজি বিভাগের ড. মার্সেল ম্যুলার বলেন, ‘‘সাইক্লোস্পোরিন বিভিন্ন ধরনের করোনা ভাইরাসকে কাবু করতে পারে৷ একদিকে রয়েছে সার্স ও ম্যার্স-এর মতো বিপজ্জনক ভাইরাস, যা মানুষের জন্য ক্ষতিকারক৷ আছে নানা রকমের সর্দির ভাইরাস, শীতকালে যা ছড়িয়ে পড়ে৷ তাছাড়া বিড়াল ও শুয়োরের মতো জন্তু-জানোয়ারদের জন্য বিপজ্জনক ভাইরাসও রয়েছে৷ সাইক্লোস্পোরিন সেগুলিকেও পরোক্ষভাবে কাবু করতে পারে৷''

ভাইরাসের উপর সাইক্লোস্পোরিন-এর যে প্রভাব সম্প্রতি আবিষ্কৃত হয়েছে, গবেষণাগারে তা হাতেনাতে দেখানো সম্ভব৷ ড. ম্যুলার বলেন, ‘‘সংক্রমিত যে কোষগুলি রয়েছে, তাতে ভাইরাসের উপর সবুজ রং লাগানো হয়েছে৷ সাইক্লোস্পোরিন যোগ করলে কোষগুলির রং ফিকে হয়ে আসে৷ অর্থাৎ কোষে আর সংক্রমণ ঘটে না৷''

এটা কী ভাবে ঘটে, তা এখনো স্পষ্ট নয়৷ তবে একটি বিষয় জানা গেছে৷ ভাইরাস বংশবৃদ্ধি করতে তার বাহকের শরীরের নির্দিষ্ট কিছু প্রোটিন ব্যবহার করে৷ এখানে তার রং নীল৷ তাদের মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিন হলো সাইক্লোফেলিন৷ মিউনিখ বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. আলব্রেশ্ট ফন ব্রুন বলেন, ‘‘সাইক্লোফেলিন-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো অন্য প্রোটিনকে ঠিকমতো ভাঁজ হতে সাহায্য করা৷ মজার কথা হলো, ভাইরাল প্রোটিন ঠিকমতো ফোল্ড না হলে ভাইরাস বাড়তে পারে না৷''

সাইক্লোস্পোরিন-এর মতো ওষুধ যদি সাইক্লোফেলিন আটকে দেয়, তখন তা ভাইরাসের বংশবৃদ্ধির সহায়ক হতে পারে না৷ আক্রান্ত কোষে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়৷ মানুষ বা পশু সুস্থ থাকে৷ তবে ওষুধ যখন, পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া তো থাকবেই৷ ড. ম্যুলার বলেন, ‘‘সাইক্লোস্পোরিন-এর ক্ষেত্রে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হলো ইমিউন সিস্টেম-এর উপর চাপ৷ ফলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে৷ ভাইরাস সংক্রমণের সময় এটা ঘটলে তার প্রভাব থেকে যায়৷''

এর পরের ধাপ হলো সাইক্লোস্পোরিন-এর অণু এমনভাবে পরিবর্তন করা, যাতে তা ভাইরাসের মোকাবিলা করতে গিয়ে ইমিউন সিস্টেমের উপর চাপ সৃষ্টি না করে৷ এক্ষেত্রে প্রাথমিক পরীক্ষা সফল হয়েছে৷ ড. ব্রুন বলেন, ‘‘সাইক্লোস্পোরিন ডেরিভেটিভ সত্যি মানুষের উপর প্রয়োগ করা হয়েছে৷ প্রথমে অবশ্যই পরীক্ষামূলকভাবে, হেপাটাইটিস সি-র ক্ষেত্রে৷ দেখা গেছে, ডেরিভেটিভ প্রয়োগ করে তার বংশবৃদ্ধি হয় আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে৷''

নতুন এই চিকিৎসা সব রোগীর নাগালে আনতে আরও কয়েক বছর সময় লাগবে৷ নতুন ও বিপজ্জনক ভাইরাসের বিরুদ্ধে সংগ্রামে নতুন এই প্রক্রিয়া বিপ্লব আনতে পারে৷

বিশেষ ঘোষণা: এই সপ্তাহের অন্বেষণ কুইজে অংশ নিতে ক্লিক করুন এখানে

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও