1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

ভবিষ্যতের কানহাইয়াদের রুখে দেওয়ার উদ্যোগ

ইউনিভার্সিটি গ্রান্ট কমিশনের সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ে এমফিল ও পিএইচডি কোর্সের আসন সংখ্যা কমিয়ে দেয়া হয়েছে৷ প্রাপ্য বরাদ্দ না দেওয়ায় সমস্যায় পড়েছেন গবেষণারত ছাত্রছাত্রীরা, হয়েছেন প্রতিবাদী৷

নতুন দিল্লির জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) স্বায়ত্তশাসন নিয়ে দুশ্চিন্তা শুরু হয়েছে৷ ইউজিসি-‌র নতুন শিক্ষানীতি-‌সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিকে কেন্দ্র করে আবারও আন্দোলন দানা বেঁধেছে ঐতিহ্যময় এই বিশ্ববিদ্যালয়ে৷ বিষয়টি গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত৷

বিগত কয়েক দশক ধরেই জেএনইউ বামপন্থিদের আঁতুড় ঘর হিসেবে পরিচিত৷ মুক্তচিন্তা, স্বাধীন মতপ্রকাশ এবং প্রতিবাদের অধিকার এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের মজ্জাগত ব্যাপার৷ কিন্তু পরিস্থিতি চীরকাল যে একরকম থাকে না, তা বোঝা গেল ২০১৪ সালে ভারতের শাসনভার ভারতীয় জনতা পার্টির হাতে যাওয়ার পর৷ কখনও কানহাইয়া কুমার, কখনও ওমর খালিদের বিতর্কিত বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দ্বিধাবিভক্ত গোটা দেশের বুদ্ধিজীবীরা৷ আবার কখনও বা শুধুমাত্র ‘‌এক ধর্মের দেশ' গড়ার ব্রতীদের হাতে ‌বেদম মার খাওয়ার পর রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে গেলেন সদ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসা মুসলিম ছাত্র৷ এইসব তো চলছিলই৷  আর তলে তলে হিসেব-নিকেষ করে নিচ্ছিলেন কেউ বা কারা৷

পরিকল্পনা যারা করছিলেন, তাদের মগজে ছিল একটাই চিন্তা – ‘‌ভবিষ্যতের কানহাইয়া কুমারদের কণ্ঠরোধ করতে হলে হাতে নয়, ভাতে মারতে হবে৷' তাই তো প্রশ্ন উঠেছে, গবেষণা ক্ষেত্রে এমন বিপুল সংখ্যক আসন কাটছাঁটের পেছনে যুক্তি কী?‌ উত্তর দেওয়ার অবশ্য কেউ নেই৷

আদালতে ছাত্র-ছাত্রীদের পক্ষ থেকে ইউজিসি-‌র নতুন শিক্ষানীতির বিরোধিতা করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল ক'‌দিন আগে৷ বিচারক সেই আবেদন খারিজ করে দেয়৷ শিক্ষার্থীকা তাই এবার দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন৷ দু'‌দিন আগেই হাইকোর্ট পুরো বিষয়টিতে জেএনইউ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে চেয়ে নোটিশ পাঠায়৷ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি গীতা মিত্তল এবং বিচারপতি অনু মলহোত্রার ডিভিশন বেঞ্চ ২৮ এপ্রিলের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে হলফনামা দিয়ে নিজেদের বক্ত জানানোর নির্দেশ দিয়েছে৷ সেদিনই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে৷

গতবছর ডিসেম্বরে জেএনএউ অ্যাকাডেমিক পরিষদের বৈঠকে গৃহিত সিদ্ধান্ত এবং গত মার্চ মাসে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দ্বারা প্রকাশিত ই-‌প্রসপেক্টাসের মধ্যে বিস্তর ফারাক পাওয়া গেছে৷ ২০১৭-‌১৮ শিক্ষাবর্ষের জন্য জেএনইউ অ্যাকাডেমিক পরিষদ ১৪০৮ জন গবেষক ছাত্র-ছাত্রী ভর্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল৷ কিন্তু ২১ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষে জারি করা ই-‌প্রসপেক্টাসে বলা হয়েছে, ২০১৭-‌১৮ শিক্ষাবর্ষে শুধুমাত্র ২৪২ জন ছাত্রছাত্রী গবেষণার সুযোগ পাবেন৷ অর্থাৎ অ্যাকাডেমিক পরিষদের সিদ্ধান্তকে অস্বীকার করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আসন সংখ্যায় ৮২. দশমিক ৮১ শতাংশ আসন কমিয়ে দিয়েছে৷ এর ফলে জেএনইউ-‌এর ৩১টি কেন্দ্র এবং দু'টি বিশেষ কেন্দ্রে একজনও গবেষক ছাত্র ভর্তির সুযোগ পাবেন না৷ পুরো বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকদের একটা অংশ৷

কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী প্রকাশ জাওড়েকরকে চিঠি লিখে সমস্যার সমাধান চেয়েছেন নির্বাচিত বামপন্থি ছাত্র সংসদের সভাপতি মোহিত কুমার পান্ডে৷ তিনি জানতে চেয়েছেন, ২০১৭ সালে কেন্দ্র সরকারের র‌্যাংকিং অনুযায়ী জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণার ক্ষেত্রে দ্বিতীয় স্থান দখল করেছে৷ তারপরেও কীসের ভিত্তিতে গবেষণার শিখরে থাকা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন সংখ্যা তলানিতে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে?‌ জাওড়েকর অবশ্য এখনও চিঠির জবাব দেননি৷ এমনকি প্রকাশ্যে তেমন কোনো মন্তব্যও করেননি৷ তবে ইউজিসি কার্যালয়ের বাইরে ধর্ণা, বিক্ষোভ প্রদর্শন করে চলেছেন ছাত্র-ছাত্রীরা৷

মোহিত কুমার জানিয়েছেন, ‘‌‘‌ই-‌মেলে কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রীকে চিঠি দেওয়া হয়েছে৷ বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হওয়ার সুবাদে উচ্চশিক্ষার সঙ্গে যুক্ত সমস্ত সংস্থার শীর্ষে রয়েছেন আপনি৷ প্রকাশ্যে উচ্চ র‌্যাংকিং-এর সংস্থাগুলিকে আরও বেশি আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা বলছেন৷ কিন্তু কাজের নিরিখে তার কোনো প্রমাণ মিলছে না৷ একদিকে, ইউজিসি-‌র ২০১৬ সালের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী জেএনইউ-এর আর্থিক অবস্থা শোচনীয়৷ গবেষণা ক্ষেত্রের আসন সংখ্যা এবং বরাদ্দ যে কাটছাঁট করা হয়েছে, তা মোটেও স্বাভাবিক নয়৷ অস্বাভাবিক এই সিদ্ধান্তের প্রকৃত কারণ কী?‌'‌'‌‌

মন্ত্রীর উদ্দেশ্যে মোহিত আরও লিখেছেন, ‘‌‘আপনি বার বার ভারতের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির সঙ্গে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলান করেন৷ কিন্তু পরিস্থিতি হলো, এ দেশে ছাত্র-‌শিক্ষকের আনুপাতিক হার সঠিক না হওয়ার কারণেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার মান ক্রমশই কমছে৷'‌'‌ জেএনইউ-তে শিক্ষক নিয়োগ প্রসঙ্গটিও চিঠিতে উল্লেখ করেছেন মোহিত৷ জানিয়েছেন, ‘‌‘‌এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বহু শিক্ষকের পদ ফাঁকা পড়ে রয়েছে৷ সেগুলো পূরণ করার কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না৷ উপাচার্য, ইউজিসি কর্তৃপক্ষ এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞাপন দেওয়ার কথা বলে চুপ করে বসে আছে৷'‌'‌

ইউজিসি কর্তৃপক্ষ জেএনইউ-‌এর ছাত্র-ছাত্রীদের মোট ১১ কোটি টাকার নন-‌নেট ফলোশিপ আটকে রেখেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে৷ ফেলোশিপ বরাদ্দ না হওয়ায় গবেষণারত ছাত্র-ছাত্রীরা সমস্যায় পড়েছেন৷ জেএনইউ-‌এর রেজিস্ট্রার প্রমোদ কুমারের কথায়, ‘‘উপাচার্য এম জগদীশ কুমার এই বিষয়ে বার বার ইউজিসি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন৷ কিন্তু কোনো লাভ হয়নি৷'' উল্লেখ্য, ইউজিসি-‌র কাছ থেকে প্রাপ্য নন-‌নেট ফেলোশিপের এই অর্থ সাধারণত এমফিল এবং পিএইচডি ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বরাদ্দ করা হয়৷

আসন সংখ্যা কমিয়ে দেওয়া এবং বরাদ্দ অর্থ আটকে রাখার ফলে ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উচ্চশিক্ষার লক্ষ্যে দিল্লিতে আসা তপশিলি জাতি ও উপজাতি সম্প্রদায়ের ছাত্র-ছাত্রী চরম সমস্যার সম্মুখীন হবে বলে মনে করছেন ছাত্র সংগঠনগুলি৷

এ বিষয়ে সম্প্রতি সংসদের রাজ্যসভায় বিহারের জনতা দল (‌ইউনাইটেড)‌-‌এর প্রবীন সাংসদ শারদ যাদবের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী প্রকাশ জাওড়েকর অবশ্য জানিয়েছেন, ‘‌‘নরেন্দ্র মোদীর সরকার জেএনইউ-এর ছাত্র-ছাত্রীদের পাশে আছে৷ ইউজিসি নোটিফিকেশন-‌২০১৬ ইতিমধ্যে দেশের অন্যান্য সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হয়েছে৷ এতদিন জেএনইউ-তে চালু হয়নি৷ তাই এবার সেটা চালু হবে৷‌ তবে এর ফলে এমফিল ও পিএইচডি-‌র আসন সংখ্যায় কোনো কাটছাঁট হবে না৷ শিক্ষার মান বৃদ্ধি সরকারের লক্ষ্য৷ সেই লক্ষ্যেই ইউজিসি নিয়মিত নোটিফিকেশন জারি করে থাকে৷ এই নোটিফিকেশনে এমফিল এবং পিএইচডি পাঠ্যক্রমে ভর্তি পরীক্ষা চালুর ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে এবং গবেষণক ছাত্র ও তাঁদের গাইডের আনুপাতিক হার সঠিকভাবে বজায় রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করা হয়েছে৷'‌'‌

মন্ত্রীর আশ্বাস, ‘‌‘‌গত বছর ৯৭০ জন ছাত্র-ছাত্রী গবেষণায় ভর্তি হয়েছিলেন৷ এবার নতুন ব্যবস্থা ও শিক্ষকের শূন্যপদ পূরণ করার পর সেই সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে যেতে পারে৷'‌'‌

প্রতিবেদনটি নিয়ে আপনার কিছু বলার থাকলে লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন