1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

বয়লার বিস্ফোরণ: পরিদর্শক নিয়োগে গড়িমসি

শিল্প কারখানার বয়লার পরিদর্শনের অভাবে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে৷ অথচ পরিদর্শক নিয়োগে কোনো উদ্যোগ নেই৷ দু'বছর আগে প্রক্রিয়া কিছুটা এগুলেও এখন থমকে আছে সেটি৷ অথচ দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে৷

সোমবার সন্ধ্যায় গাজীপুরের মাল্টি ফ্যাবস লিমিটেড নামের একটি পোশাক কারখানায় বয়লার বিস্ফোরিত হয়৷ এতে ১৩ জন নিহত ও অর্ধশতেরও বেশি আহত হন৷ নিহত ব্যক্তিদের আটজনই ঘটনাস্থলেই মারা যান৷ পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আরেকজন৷

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে, পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপ-প্রধান বয়লার পরিদর্শক মো. জিয়াউল হক ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘কর্তৃপক্ষ পরীক্ষামূলকভাবে বয়লারটি চালিয়েছিল৷ বয়লারের ভেতর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হবার কারণেই বিস্ফোরিত হয়েছে৷ এখন দেখতে হবে কী কারণে এই বাড়তি চাপ তৈরি হলো৷''

এর আগে গত বছরের ১০ সেপ্টেম্বর টঙ্গীর আরেকটি কারখানা ট্যাম্পাকো ফয়লস লিমিটেডে ভয়াবহ বিস্ফোরণে ৩৮ জন নিহত এবং কমপক্ষে ১৫ জন আহত হন৷

গণমাধ্যমের খবর, শিল্প কারখানায় প্রতি বছর গড়ে ১০ থেকে ১২টি বয়লার বিস্ফোরণসহ অন্যান্য দুর্ঘটনা ঘটছে, যে সংখ্যা পাঁচ বছর আগেও ছিল পাঁচ থেকে সাতটি৷ পরিদর্শনের অভাবে এসব দুর্ঘটনায় ঝুঁকি বাড়ছে৷ অথচ বাংলাদেশে বয়লারের আলাদা পরিদর্শন অধিদপ্তর থাকার পরও পরিদর্শক নিয়োগে গড়িমসি করা হচ্ছে৷ শুধু তাই নয়, পরিদর্শকের সংখ্যা বাড়ানো তো দূরের কথা, দিন দিন বরং কমছে৷ যেমন, গেল বছর টাম্পাকো ফয়লস লিমিটেডে বিস্ফোরণের সময় পরিদর্শক ছিলেন ছ’জন৷ এখন এই সংখ্যা নেমে এসেছে পাঁচজনে৷ অথচ সারা দেশে বয়লারের সংখ্যা সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় হাজার৷

অডিও শুনুন 05:43

‘দু’বছর ধরে প্রক্রিয়া চলছে, কিন্তু নিয়োগ হয়নি’

জিয়াউল হক বলেন, বছরে প্রতিটি কারখানা একবার পরিদর্শনের চেষ্টা করেন তাঁরা৷ কিন্তু বাস্তবে তা সম্ভব নয়৷ ১৯৮০ সালে দেশে প্রায় একশ' বয়লার ছিল৷ ওই সময়ও ছিলেন পাঁচজন পরিদর্শক৷ তখন পরিদর্শকদের জন্য কাজটি সম্ভব ছিল৷ গেল চার দশকে দেশে শিল্প কারখানায় বয়লারের সংখ্যা প্রায় ৯০ গুণ বেড়েছে৷ এই পাঁচ পরিদর্শক দিয়ে হাজার হাজার কারখানার বয়লার পরিদর্শন সম্ভব নয়৷ গেল বছর ট্যাম্পাকোতে বিস্ফোরণের পর ডয়চে ভেলে প্রতিবেদনে দেখিয়েছে, যদি বয়লারগুলো বছরে একবার পরীক্ষা করা হয়, তাহলে একজন ইন্সপেক্টরকে বছরের ৩৬৫ দিনে মোট ৯১৬টি বয়লার পরীক্ষা করতে হবে৷ মাসে পরিদর্শন করতে হবে ৫৫৮টি বয়লার৷ বয়লার ব্যবহারকারী শিল্প-কারখানাগুলো ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ সারাদেশে ছড়িয়ে আছে এবং এই হিসেব যখন করা হয়, তখন পরিদর্শকের সংখ্যা ছিল ৬ জন৷

জিয়াউল হক বলেন, ‘‘আমরা বছর দু'য়েক আগে ৩৩৫ জন জনবল নিয়োগের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে দিই৷ মন্ত্রণালয় পরিদর্শক ও অন্যান্য জনবল মিলিয়ে ২৩৫ জনের নিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদন করে৷ কিন্তু এরপর থেকে প্রক্রিয়া সেই অবস্থাতেই আছে৷''

নিয়োগ না হওয়ায় যা হবার তাই হচ্ছে৷ যেহেতু সব কারখানায় যাওয়া সম্ভব হয় না, তাই কারখানা সচল রাখার স্বার্থে সময়মতো সার্টিফিকেট দেওয়া ছাড়া আর বেশি কিছু করা কঠিন হয়ে পড়ছে৷ তবে জিয়াউল হক দাবি বলেন, তাঁরা শুধু কারখানা পরিদর্শন ছাড়াও সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করে থাকেন৷ ‘‘আমরা বিভিন্ন ইপিজেডগুলোতে সচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম চালাচ্ছি৷ তাদের সাথে বৈঠক করেছি৷'' বলছিলেন জিয়াউল হক৷

এখন প্রায় ৭০ ভাগ বয়লারই চলে প্রাকৃতিক গ্যাসে৷ শিল্প কারখানার বিদ্যুৎ ও অন্য উৎপাদনশীল খাতে মোট গ্যাসের প্রায় ৩৫ শতাংশই ব্যবহার করে তারা৷ কিন্তু পুরোনো ও অদক্ষ যন্ত্রপাতির কারণে প্রচুর গ্যাসেরও অপচয় হয় এবং দুর্ঘটনারও ঝুঁকি বাড়ে৷ এসব দেখার জন্য যেই পরিদর্শক, তাঁদের নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ থাকলে বয়লার পরিদর্শন অধিদপ্তরের কাজ কাগজে কলমেই সীমাবদ্ধ থাকবে৷ তাই মৃত্যুর মিছিল বন্ধ করতে অচিরেই নিয়োগ প্রক্রিয়ার জট খোলা দরকার বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা৷ 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও