ব্ল্যাকবেরি, আইফোন, ল্যাপটপে আসক্ত এই প্রজন্ম | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 14.02.2011
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

ব্ল্যাকবেরি, আইফোন, ল্যাপটপে আসক্ত এই প্রজন্ম

কর্মক্ষেত্রকে অফিসের বাইরে নিয়ে এসেছেন জার্মানরা৷ অফিসের কথা তারা ভুলতে পারেন না৷ সবসময়ই ল্যাপটপ, ব্ল্যাকবেরি তাদের চোখের সামনে থাকছে৷

default

প্রযুক্তির দিকে থেকে জার্মানি এগিয়ে রয়েছে, এগিয়ে রয়েছে জার্মানরাও৷ কিন্তু এই সাফল্য সবসময়ই কিন্তু ইতিবাচক হয়ে ধরা পড়ছে না৷ জার্মানির তথ্য প্রযুক্তি সংগঠন বিটকম সম্প্রতি একটি জরিপে জানিয়েছে, দুই তৃতীয়াংশ কর্মজীবী জার্মান নাগরিক অফিসের বাইরেও অফিসের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন৷ এমনকি ছুটিতে গেলেও অফিসের প্রয়োজনীয় ফাইলপত্র সঙ্গে নিয়ে যান৷ সবসময়ই অফিসকে সঙ্গে রাখা অফিস বা নিজের পেশার প্রতি নিষ্ঠা নয়, বরং আসক্তিই প্রমাণ করে –জানিয়েছে বিটকম৷ একটি সুস্থ মানুষের জন্য তা কি কোন সুখবর?

অফিস কোন কোন দিন হতে পারে অত্যন্ত ক্লান্তিকর৷ প্রতিটি কর্মজীবী মানুষের বেলাতেই এই কথা খাটে৷ কিন্তু তাই বলে সবাই অফিসের টেবিল-চেয়ারের ওপর হুমড়ি খেয়ে পড়েন না বা অন্য সহকর্মীর ওপর আক্রোশে ঝাঁপিয়ে পড়েন না৷ অথচ ব্রিটেনে সম্প্রতি তাই ঘটেছে৷ সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে এ ধরণের চিত্র৷

আর ঠিক এদিকেই এগিয়ে যাচ্ছে জার্মানি৷ এই মুহূর্তে প্রায় প্রতিটি জার্মানের হাতে রয়েছে আইফোন বা ব্ল্যাকবেরি৷ ক্ষণে ক্ষণে তারা দেখছেন অফিসের কেউ খোঁজ করছে কিনা৷ এই মনোভাব সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা গেছে যারা প্রচারমাধ্যম, টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য-প্রযুক্তি ক্ষেত্রে কাজ করছে, তাদের মধ্যে৷ কথাগুলো স্বীকার করেন বেনইয়ামিন রুট৷ তিনি কাজ করছেন বার্লিনের একটি প্রচারমাধ্যম সংস্থায়৷ রুট জানান,‘‘অফিসে সাধারণত প্রতিদিন অন্তত দশ ঘণ্টা থাকতে হয়৷ তবে কোন কোন সময় ১২ বা ১৪ ঘন্টাও কেটে যায়৷ আমার অন্যান্য সহকর্মীদের সঙ্গে বিভিন্নভাবে যোগাযোগ করি, ইমেল তার মধ্যে অন্যতম৷ এছাড়া রয়েছে আইচ্যাট, স্কাইপ, ইন্সট্যান্ট মেসেজিং৷ আমাদের প্রায় সবার কাছেই ব্ল্যাকবেরি রয়েছে৷ এর

Apple Macintosh iPod Shuffle new generation Flash-Galerie

পাশাপাশি রয়েছে নিজস্ব টেলিফোন এবং ফ্যাক্স৷ আমি রাত বারোটার পর একবার শেষবারের মত ইমেল চেক করি, তারপর ঘুমাতে যাই৷ আর ভোর সাতটার মধ্যে উঠে পড়ি৷ সবার আগে যা করি, তাহল ইমেল চেক করা৷ উইকএন্ড বা ছুটিতেও এই রুটিনের কোন পরিবর্তন হয় না৷ আমার মন হয় এর মূল কারণ হল যে ধরণের পেশায় আমি রয়েছি, তাতে তা খুবই স্বাভাবিক৷''

বেনইয়ামিন অন্যান্য জার্মানদের থেকে খুব বেশি আলাদা নয়৷ গড়ে প্রায় প্রতি জার্মানই অফিসে প্রয়োজনের তুলনায় কিছুটা সময় বেশি কাটান, বাড়িতে বসে প্রায়ই অফিসের কাজ সারেন, ইমেল চেক করেন৷ মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রবণতাও আগের চেয়ে অনেক বেশি বেড়েছে৷ বিশেষ করে ব্ল্যাকবেরি বা স্মার্টফোন জনপ্রিয়তার শিখর ছাড়িয়ে এখন প্রয়োজনীয়তার পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে৷ আর একারণেই ব্ল্যাকবেরি হাতে মানুষ চলে যাচ্ছে বাসে, ট্রামে, বাড়িতে, বাথটাবে এমনকি সুইমিংপুলের কিনারে৷ আর ব্ল্যাকবেরি ছাড়া ছুটি কাটানো কল্পনাই করা যাচ্ছে না ইদানিং৷

তবে সব কোম্পানিই কর্মীদের ওপর সবসময় চাপ দিতে নারাজ৷ কিছুটা অবসর সময়ের প্রয়োজন তাদেরও রয়েছে৷ ডয়চে টেলেকম সম্প্রতি জানিয়েছে, সপ্তাহান্তে কর্মীরা তাদের সেল ফোন পুরোপুরি বন্ধ রাখতে পারে৷ তবে বাস্তব সত্য হল জার্মানিতে কোন কর্মীই অফিসের কাজের বাইরে অফিস নিয়ে ব্যস্ত থাকতে বাধ্য নয়৷

কাজের প্রতি নিষ্ঠা নাকি আসক্তি? – এ বিষয়ে মনোবিজ্ঞানী ড. ইসাবেলা হয়সার জানান,‘‘ব্ল্যাকবেরি যারা ব্যবহার করেন, তারা ব্ল্যাকবেরিতে আসক্ত৷ কিন্তু তারা কোন অবস্থাতেই তা স্বীকার করবে না৷ অনেক মানুষ আছে, যারা প্রযুক্তি ছাড়া এক ইঞ্চিও নড়তে পারেনা৷ আমরা সবাই কোন না কোনভাবে ইমেল, এসএমএস, সেল ফোনের ওপর নির্ভরশীল৷ কিন্তু কখনোই কেউ কম্পিউটার বা সেল ফোন বন্ধ করি না৷ সমস্যা এখানেই৷ আমার কিছু রোগী আছে, যাদের আমি ‘বার্ন আউট' রোগী বলে আখ্যায়িত করেছি৷ তাদের একমাত্র চিকিৎসা হল সেল ফোন, ইমেল এবং কম্পিউটার থেকে দূরে থাকা৷ অন্তত সপ্তাহে তিন দিন৷ মানুষ সামাজিক জীব৷ আমরা সবাই সবসময়ই অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাই, কথা বলতে চাই৷ এখানে কোন পরিবর্তন হয়নি৷ পরিবর্তন যা হয়েছে তা হল, আজকাল আমাদের ধৈর্য অনেক কমে গেছে – এখনই কথা বলতে হবে, এখনই ইমেলের উত্তর দিতে হবে – এই মনোভাবই হল সর্বনাশের গোড়া৷ ধৈর্যহারা হয়ে যাচ্ছে মানুষ এবং নিজেদের সর্বনাশ ডেকে আনছে৷''

প্রতিবেদন: মারিনা জোয়ারদার

সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন