1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

ব্ল্যাকবেরিকে ‘হোয়াইট’ রাখতে সচেষ্ট যুক্তরাষ্ট্র

সৌদি আরব বন্ধ করে দিয়েছে, অক্টোবর থেকে বন্ধ করে দিচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাতও৷ ভারতও ভাবছে, কী করা যায়৷ সবারই উৎকণ্ঠা ব্ল্যাকবেরি নিয়ে, কারণ নিরাপত্তা৷

default

এবার উৎকণ্ঠা ব্ল্যাকবেরি নিয়ে

এই স্মার্টফোনে কথা বলা, ই-মেইল কিংবা মেসেজ আদান-প্রদান ধরতে পারছে না নিরাপত্তা সংস্থাগুলো৷ শঙ্কা আছে, এর সুবিধা নিয়ে জঙ্গি কিংবা সন্ত্রাসীরা নিজেদের সংগঠিত করছে৷

সমস্যায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রও৷ তবে তাদের উৎকণ্ঠা একটু আলাদা৷ তারা ভাবছে, ব্ল্যাকবেরি ব্যবহারকারী অ্যামেরিকানদের সমস্যা নিয়ে৷ তাই এই বিষয়ে সৌদি আরব, আমিরাত, ভারতসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা করতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র৷ উদ্দেশ্য, একটা সমাধান বের করা৷ যাতে ব্ল্যাকবেরিও সচল থাকে, আবার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগটাও দূর হয়৷

ব্ল্যাকবেরি তৈরি করছে ক্যানাডার কোম্পানি রিসার্চ ইন মোশন-আরআইএম৷ বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তার বিচারে এখন নকিয়ার পরই এর স্থান৷ এই ফোনের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্রাউজ করা যাচ্ছে ৯০টি দেশে৷ ২০০২ সালে বাজারে আসার পর থেকে দিন যতই গড়াচ্ছে, হাতে মুঠোয় থাকা এই ‘কম্পিউটার' বিক্রি ততই বাড়ছে৷ সমস্যাটা দেখা দিয়েছে হালে৷ যখন কিনা কয়েকটি দেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থার সুরক্ষার কোপ পড়েছে ব্ল্যাকবেরির ওপর৷

জঙ্গি সমস্যা নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য৷ একই সমস্যা রয়েছে ভারতেও৷ ২০০৮ সালে মুম্বাই হামলার পর ভারত নড়েচড়ে বসেছে৷ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোথাও কোনো গলদ রাখতে রাজি নয় তারা৷ আর তখনই চোখ পড়ে ব্ল্যাকবেরির ওপর৷ দেশটিতে এই ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১০ লাখের ওপর৷ নিরাপত্তা সংস্থাগুলো এই ফোন ব্যবহারকারীদের ওপর কোনো নজরদারিই চালাতে পারছে না৷ কর্মকর্তাদের শঙ্কা, আধুনিক এই প্রযুক্তি নিজেদের কাজে লাগাচ্ছে জঙ্গি কিংবা সন্ত্রাসীরা৷ এই নিয়ে আরআইএম-এর সঙ্গে কথাও বলেছেন ভারতের কর্তাব্যক্তিরা৷

Blackberry No FLASH

ব্ল্যাকবেরির মেসেজ ট্রেস করার প্রযুক্তি ভারতকে দিয়েছে আরআইএম

শোনা যাচ্ছিলো, ব্ল্যাকবেরির মেসেজ ট্রেস করার প্রযুক্তি ভারতকে দিয়েছে আরআইএম৷ তবে এই খবর নাকচ করেছে প্রতিষ্ঠানটি৷ তাদের মুখপাত্র সাৎচিত গায়কোয়াড় বুধবারই সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘‘এই ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি৷'' যার মানে হলো, গ্রাহকের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার ক্ষেত্রে কোনো আপস করতে চাইছে না তারা৷ তবে গায়কোয়াড় একইসঙ্গে বলেছেন, সমস্যা সুরাহার জন্য তারা ভারতের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন৷ আর এর মধ্যেই সঙ্কটের অবসানে ভূমিকা রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র৷ দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র পি জে ক্রাউলি বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বললেন, ‘‘ভারত, সৌদি আরব, আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আমরা কথা বলতে যাচ্ছি, নিরাপত্তার উদ্বেগের বিষয়টি আমরা তাদের কাছ থেকে শুনব৷ আর একই সঙ্গে আরআইএম-এর সঙ্গেও কথা বলব আমরা৷ নিরাপত্তার দিকটি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি অবাধ তথ্য প্রবাহও আমাদের নিশ্চিত করতে হবে৷ সব বিষয় বিবেচনায় রেখে সবাই মিলেই এর একটা সমাধান বের করতে হবে৷''

ক্রাউলি স্বীকার করেছেন, বিভিন্ন দেশ ব্ল্যাকবেরি নিষিদ্ধ করায় তাঁর দেশের সরকার চাপে পড়েছে৷ যুক্তরাষ্ট্রে অনেক ব্যবসায়ী এতে ক্ষুব্ধ৷ একদিন আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনও ব্ল্যাকবেরি সমস্যা নিয়ে তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনার ওপর জোর দেন৷

আরব আমিরাত জানিয়েছ, আগামী ১১ অক্টোবর থেকে সেদেশে ব্ল্যাকবেরি নিষিদ্ধ৷ এরপর সিদ্ধান্ত টানে সৌদি আরব৷ তবে তারা শুক্রবার থেকেই তা নিষিদ্ধ করেছে৷ কোনো মোবাইল অপারেটর যদি এরপরও ব্ল্যাকবেরিতে তাদের নেটওয়ার্ক সচল রাখে, তবে ১৩ লাখ ডলার জরিমানা করা হবে৷ এখানে বলে রাখা ভালো, সৌদি আরবে সাত লাখ ব্যক্তির হাতে ব্ল্যাকবেরি রয়েছে৷ লেবাননও ব্ল্যাকবেরি নিষিদ্ধ করার পথে এগোচ্ছে৷ ব্ল্যাকবেরির মাধ্যমে ইসরায়েলের চর হিসেবে কাজ করার সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বেশ কয়েকজনকে৷ বাহরাইনও চিন্তিত৷ তবে কুয়েত বলছে, তারা এখনি নিষিদ্ধ করার কথা ভাবছে না৷ পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে৷ এই অবস্থায় নিজ দেশের প্রতিষ্ঠান হিসেবে এর মধ্যে মাথা গলাতে হচ্ছে ক্যানাডাকেও৷ কারণ এই জটিলতা দেখা দেওয়ার পর স্টক এক্সচেঞ্জে আরআইএম-এর শেয়ারের দাম পড়তে শুরু করেছে৷ তাই ক্যানাডা বলছে, তারাও বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা করবে৷

প্রতিবেদন: মনিরুল ইসলাম

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল ফারূক

ইন্টারনেট লিংক