1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

ব্লগার হত্যার তদন্তে হঠাৎ গতির নেপথ্যে কী?

সাধারণ চোখে মনে হবে হঠাৎ করে যেন বাংলাদেশে ব্লগার হত্যা মামলার তদন্তে গতি পেয়েছে৷ গত দু'দিনের মধ্যে ঢাকায় ব্লগার ওয়াশিকুর রহমান বাবু হত্যা মামলায় চার্জশিট দেয়া হয়েছে৷ আরও কয়েকটি তদন্তেও অগ্রগতির খবর পাওয়া যাচ্ছে৷

১৭ই আগস্ট র‌্যাব যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে তারা হলেন: বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক তৌহিদুর রহমান, সাদেক আলি মিঠু এবং মো. আমিনুল মল্লিক৷ র‌্যাব দাবি করে, তৌহিদুর রহমানই হলেন ব্লগার অভিজিৎ রায় এবং অনন্ত বিজয় দাস হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী৷ আর তিনি কাশিমপুর কারাগারে আটক আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান জসিম উদ্দিন রহমানির নির্দেশেই এ হত্যা পরিকল্পনা করেছেন৷

গত ২৬শে ফেব্রুয়ারি একুশের বইমেলা থেকে ফেরার পথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় খুন হন লেখক-ব্লগার অভিজিৎ রায়৷ এরপর গত ১২ই মে সিলেট শহরের সুবিদবাজার এলাকার বাসা থেকে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয় ব্লগার অনন্ত বিজয় দাসকে৷ ব্লগার অভিজিৎ হত্যার তদন্ত গোয়েন্দা বিভাগ করলেও সন্দেভাজনদের আটক করে র‌্যাব!

এরই মধ্যে ব্রিটিশ নাগরিক তৌহিদুর রহমানকে গ্রেপ্তার নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ধুম্রজাল৷ র‌্যাব বলেছে, তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১৭ই আগস্ট৷ কিন্তু তার পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন, তাকে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তারা এর তিন মাস আগে ২৮শে মে তুলে নিয়ে যায়৷

এর পরের দিনই তৌহিদুরের বোন কার্ডিওলজিস্ট নাসেরা বেগম স্থানীয় পুলিশের কাছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেন৷ তাতে তিনি বলেন যে, তার ভাইকে গোয়েন্দা পুলিশ তাদের বাসভবন থেকে তুলে নিয়ে গেছে৷ একই অভিযোগ দিয়ে পুলিশে একটি ফৌজদারি মামলা করেন তিনি৷ ৩রা জুন ব্রিটিশ হাইকমিশনকে তার ভাইকে অপহরণের অভিযোগ এনে এ বিষয়ে সহযোগিতা চেয়ে তিনি একটি চিঠিও লেখেন তিনি৷ আর তৌহিদুর রহমানের ছোটভাই ওয়াহিদুর রহমান ডেল্টার প্রশ্ন, আমরা জানতে চাই আমার ভাইকে তার বাসা থেকে তুলে নেয়ার পর ৮১ দিন কোথায় রাখা হয়েছিল?

তাই এটা এখন স্বাভাবিক প্রশ্ন বিডির তদন্তাধীন মামলার আসামি আগ বাড়িয়ে র‌্যাব কেন আটক করল? আর আটক তৌহিদুর রহমানের পরিবারের দাবি যদি সত্য হয় তাহলে তাকে প্রায় তিন মাস আগে আটক করে কোথায় এবং কোন আইনে রাখা হয়েছিল? এর উদ্দেশ্যই বা কী? বাংলাদেশে ২১শে আগস্টের গ্রেনেড হামলার ঘটনায় ‘জজ মিয়া কাহিনি' তো সবার জানা৷

ব্লগার ওয়াশিকুর রহমান বাবুকে ঢাকার তেজগাঁ এলাকায় হত্যা করা হয় প্রকাশ্যে৷ আর এই হত্যাকাণ্ডের সময় দুইজন আসামিকে হিজড়ারা ধরে পুলিশে দেয়৷ এই মামলায় বুধবার যে চার্জশিট দেয়া হয়েছে তাতে মোট আসামি পাঁচজন৷ তাদেরও মধ্যে দু'জনকে পলাতক দেখানো হয়েছে৷ কিন্তু হাতেনাতে জিকরুল্লাহ ওরফে হাসান এবং আরিফুল ইসলাম আটক হলেও মূল পরিকল্পনাকারী কারা তা বলা হয়নি চার্জশিটে৷ জানা যায়নি নেপথ্যে কারা রয়েছে তাদের নাম৷ তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে কাউকে বা কোন গোষ্ঠীকে কী আড়াল করা হয়েছে৷

সিলেটে ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন মান্নান ইয়াহিয়া ওরফে মান্নান রাহী নামে একজন বুধবার৷ গত ২৮শে আগস্ট সিআইডি মান্নান ইয়াহিয়া ওরফে মান্নান রাহী ও তার ভাই মোহাইমিন নোমান ওরফে এএএম নোমানকে আটক করে৷

এর আগে এ মামলায় সিলেটের ফটোসাংবাদিক ইদ্রিসকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি৷ এ ছাড়া ঢাকায় গ্রেপ্তার আরো পাঁচজনকে ‘শোন অ্যারেস্ট' দেখিয়েছে সিআইডি৷ কিন্তু ফটো সাংবাদিকসহ ঢাকার পাঁচজনকে কেন গ্রেপ্তার তা স্পষ্ট নয়৷

ব্লগার নিলয় নীল হত্যায় এপর্যন্ত চারজনকে আটক করা হয়েছে৷ বৃহস্পতিবার রাতে কাউছার হোসেন খান ও কামাল হোসেন সরদারকে নামে দু'জনকে আটক করা হয়৷ আর পুলিশ বলছে, এরা ২০১৩ সালে উত্তরায় ব্লগার আসিফ মহিউদ্দীনের উপর হামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি৷ আর আগে গ্রেপ্তার শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নুর ভাগ্নে সাদ আল নাহিন এবং মাসুদ রানাও আসিফ মহিউদ্দীনের উপর হামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি৷ আর নাহিন হামলার পর গ্রেপ্তার হয়েছিলেন এবং এক বছরের বেশি সময় কারাগারে থাকার পর তিনি জামিনে ছাড়া পান৷ সে গ্রেপ্তার হওয়ার পর আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সক্রিয় সদস্য বলে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছিল৷ তাহলে এখন প্রশ্ন এই নাহিন কীভাবে ছাড়া পেল? এবং ছাড়া পেয়ে একজন ব্লগারকে হত্যা করল৷ কারা তাকে জেল থেকে ছাড়িয়েছে? অথবা পুলিশ কেন তৎপর থাকেনি?

সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপার হল র‌্যাব ব্রিটিশ নাগরিক তৌহিদুর রহমানসহ তিনজনকে আটকের পর দাবি করে কারাগারে আটক আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান জসিম উদ্দিন রহমানি ব্লগার হত্যার নির্দেশ দিচ্ছেন এবং তার পরিকল্পনা অনুযায়ী তা বাস্তবায়ন হচ্ছে৷ আর জঙ্গিরা তার সঙ্গে কাশিমপুর কারাগারে দেখা করে এই নির্দেশনা নিচ্ছে৷ এটা মেনে নিলেও যে প্রশ্ন বড় হয়ে ওঠে তা হল তাহলে কারা কর্তৃপক্ষ কি জঙ্গিদের সহযোগী? জঙ্গিদের আরো কারা কারা সহায়তা করছে তার তদন্ত কোথায়?

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়