1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি ইউরোপ

ব্লগার, ইন্টারনেট অ্যাক্টিভিস্টদের সম্মেলন ‘রি:পাবলিকা’

রাজনীতি, গণমাধ্যম, সংস্কৃতি, প্রযুক্তি ও লাইফস্টাইল নিয়ে আলোচনা করেন ব্লগার ও ইন্টারনেট অ্যাক্টিভিস্টরা৷ ৬মে সোমবার শুরু হওয়া এই সম্মেলন চলবে বুধবার পর্যন্ত৷

‘স্টেশন বার্লিন'

রি:পাবলিকার আয়োজনস্থলের নাম স্টেশন বার্লিন৷ এটি বার্লিনের কেন্দ্রে অবস্থিত৷ রি:পাবলিকা চলাকালীন এই জায়গাটা যেন ইন্টারনেট প্রজন্মের এক মক্কায় পরিণত হয়৷ মানুষ ল্যাপটপ বগলে করে অনুষ্ঠানের জন্য নির্ধারিত হলগুলোর একটি থেকে আরেকটির দিকে ছোটে৷ আবার কেউবা হলের মাঝখানে বড়সড় পোডিয়ামে বসে আলোচনা করে কিংবা কিছু চাপতে থাকে৷ আর আবহাওয়া ভালো হলে ভেতরের বিশাল চত্বরে বিভিন্ন গ্রুপ মাটিতে বসে কীবোর্ডে বাটন টেপে, চ্যাট ও মেল করে কিংবা আয়েশ করে সিগারেট খায়৷ খুব কম লোকই এখানে কোট-টাই পরে ঘোরাঘুরি করে৷ তার চেয়ে বেশি চোখে পড়ে ট্যাটু, কানে দুল, বড় চশমা এবং ঢোলা পায়জামা পরা মানুষ৷ এই রকম দৃশ্য ছিল ২০১২ সালে৷

দ্রুত পরিবর্তন

রি:পাবলিকা'র সাফল্য শুরু ২০০৭ সালে৷ ব্লগার মারকুস বেকেডাল এবং জনি হয়সলার এর উদ্যোগে প্রায় ৭০০ সমমনা ব্লগার একত্রিত হয়েছিলেন সে বছর৷ সেখানে এমন সব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় যেগুলো পঁচিশোর্ধ প্রজন্মকে নাড়া দেয়৷

Publikum auf der Republica 2011

২০১১’র রি:পাবলিকায় ব্লগার ও ইন্টারনেট অ্যাক্টিভিস্টরা

প্রথম রি:পাবলিকা'র উপপাদ্য ছিল ‘নেটওয়ার্ক ভিত্তিক জীবন৷' খুব দ্রুতই রি:পাবলিকা ইন্টারনেট সংশ্লিষ্ট মানুষের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ মিলনমেলায় পরিণত হয়৷ অচিরেই সারা বিশ্ব থেকে ব্লগার ও ইন্টারনেট-অ্যাক্টিভিস্টরা বার্লিনে আসতে শুরু করেন৷

ভিন্নধর্মী ও মুক্তচিন্তার বিষয়

প্রতিটি রি:পাবলিকা'ই আবর্তিত হয় ডিজিটাল জগতকে ঘিরে৷ অনেক কিছু নিয়ে চিন্তাভাবনা করা হয়৷ প্রতি বছর বিষয়গুলি প্রায় একই ধরনের থাকে৷ তবে প্রযুক্তির দ্রুত উন্নয়নের ফলে যুক্ত হয় নতুন নতুন ধারা৷ মূল বিষয়গুলিও ভিন্নতা পায়৷ ২০০৯ সালে বড় বিষয় ছিল মিডিয়া সিস্টেমের দ্রুত পরিবর্তন ও আমাদের জীবনের সাথে ইন্টারনেট নির্ভর যোগাযোগের সম্পৃক্ততা৷ পরের বছর রি:পাবলিকা'র আয়োজকরা খতিয়ে দেখতে চেষ্টা করেন যে ইন্টারনেটে কী সম্ভব এবং কী নয়৷ সে বছর আড়াই হাজার অংশগ্রহণকারীর মধ্যে ছিলেন মার্কিন ইন্টারনেট জগতের অগ্রদূত জেফ জারভিস৷

লোবো উৎসব

রি:পাবলিকায় নিয়মিত মুখ জার্মানির সুপরিচিত ব্লগার সাশা লোবো৷ ২০১১ সালের রি:পাবলিকায় হল ভর্তি মানুষের সামনে তিনি ‘শিটস্টর্মস' এর উল্লেখ করেন৷ একই বছর তিনি রি:পাবলিকায় অংশগ্রহণকারীদের সামনে তাঁর নতুন গবেষণার ফল তুলে ধরেন৷ এই গবেষণায় তাঁর লক্ষ্য ছিল সেসব ইন্টারনেট ব্যবহারকারী, যারা নিজেদের বাঁকা মন্তব্য দিয়ে অন্যদের অপমান ও নাজেহাল করে কিংবা খোঁচাতে থাকে৷ তিনি সমালোচনা করে বলেন, ডিজিটাল জগৎ নিজেদের পরিধি ছাড়া বাইরের মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে না৷ নিজেদের মধ্যেই ব্যতিব্যস্ত থাকে৷

Blogger Sascha Lobo Republica 2011

রি:পাবলিকায় জার্মান ব্লগার সাশা লোবো

রাজনীতি ও রাজনীতিক

রি:পাবলিকা'র প্রতিষ্ঠাতা মারকুস বেকেডাল ডয়চে ভেলের সাথে সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘‘এখানে আমাদের স্বাধীনতার বিষয়টি রয়েছে এবং আমরা ভবিষ্যতে ডিজিটাল সমাজকে কেমন রূপ দিতে চাই সেটিও জড়িত৷ এসব বিষয়ে স্বাভাবিকভাবেই রাজনীতিবিদদের অবস্থান তুলে ধরতে হবে৷ রাজনীতিবিদরা ধীরে ধীরে ইন্টারনেট এবং সোশ্যাল মিডিয়ার জগতে প্রবেশ করছেন৷ তবে এখনও তাঁদের খুব অল্প সংখ্যক নিয়মিত টুইট করেন৷'' এ প্রসঙ্গে জার্মান সরকারের মুখপাত্র স্টেফেন সাইবার্ট- এর কথা উল্লেখ করা যায়৷ তিনি সোশ্যাল মিডিয়ার সাথে তাঁর সম্পৃক্ততার কথা এভাবে তুলে ধরেন, ‘‘এক্ষেত্রে আমি বলতে গেলে বেশ নতুন৷ কোনো এক সময় টুইটারের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলার বিষয়টি মাথায় আসে৷ তারপর এই জগতে ঢুকে পড়ি৷''

সারাবিশ্বের ব্লগারদের মিলনমেলা

এ বছর রি:পাবলিকায় পাঁচ হাজার অতিথি আসবেন বলে আশা করা হচ্ছে এবং একাধিক মঞ্চে প্রায় ২০০ ঘণ্টার অনুষ্ঠান থাকছে৷ এসব মঞ্চে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করবেন ৩৫০ বক্তা৷ আন্তর্জাতিক ব্লগিং জগতের যেসব তারকা ব্যক্তিত্ব এবারের রি:পাবলিকায় উপস্থিত থাকবেন বলে সম্মতি দিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মার্কিন অ্যাক্টিভিস্ট জিলিয়ান ইয়র্ক এবং কিউবার ব্লগার ইয়োয়ানি সাঞ্চেজ৷ সাঞ্চেজ ২০০৮ সালে ডয়চে ভেলের ব্লগ প্রতিযোগিতা বব্স'এর একটি অ্যাওয়ার্ড জিতলেও এবার তিনি সেই পদকটি গ্রহণ করবেন৷ কারণ এতদিন তাঁকে কিউবা ত্যাগ করার অনুমতি দেওয়া হয়নি৷ এছাড়া আলোচকদের মধ্যে থাকবেন বব্স-জুরি বোর্ডের সদস্যরা৷ তাঁরা প্রতি বছর রি:পাবলিকায় অনলাইন আক্টিভিজম-এর জন্য ডয়চে ভেলের পদক বিজয়ীর নাম প্রকাশ করেন৷ এবারের রি:পাবলিকা'র মোটো ‘ইনসাইট/আউট'৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন