1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

ব্রুনাইয়ে আইন শরিয়া, শাসন সুলতানি

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রথম দেশ হিসাবে ব্রুনাইয়ে ইসলামি শরিয়া আইন চালু করেছেন সুলতান হাসানআল বোলখিয়া৷ দেশের ভেতরে এ নিয়ে কেউ মুখ না খুললেও মানবাধিকার কর্মীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন৷

default

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রথম দেশ হিসাবে ব্রুনাইয়ে ইসলামি শরিয়া আইন চালু হয়েছে

সুলতানের নির্দেশে মে মাসের পয়লা দিন থেকেই শরিয়া আইন চালুর প্রথম পর্যায় শুরু হয়েছে৷ বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী হাসান আল-বোলখিয়া কেবল তাঁর বিলাসবহুল জীবনযাপন, বিপুল সংখ্যক স্পোর্টস কার এবং ১৮০০ কক্ষের বিরাট প্রাসাদের জন্যই বিখ্যাত নন, ৪ লাখ ২০ হাজার মানুষের দেশ ব্রুনাইয়ে তিনিই সর্বেসর্বা৷

৬৭ বছর বয়সি সুলতান দেশ শাসন করে আসছেন সেই ১৯৬৭ সাল থেকে৷ তিনি একইসঙ্গে সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান, দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী৷ পাশাপাশি ইসলামিক রাষ্ট্র ব্রুনাইয়ের সর্বোচ্চ অভিভাবকও তিনি৷

তিন ধাপে শরিয়া

Brunai Moschee Sultanat führt Scharia ein

‘উপযুক্ত কারণ ছাড়া' রোজা না রাখলে বা জুমার নামাজে অংশ না নিলে জেল-জরিমানার মুখে পড়তে হবে

সুলতান হাসানআল বোলখিয়ার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্রুনাইয়ে শরিয়া আইন বাস্তবায়ন করা হবে তিন ধাপে৷ প্রথম ধাপে ফৌজদারি কার্যবিধি শরিয়া আইন অনুযায়ী সংশোধন করা হবে৷ ‘উপযুক্ত কারণ ছাড়া' রমজান মাসে রোজা না রাখলে বা জুমার নামাজে অংশ না নিলে জেল-জরিমানার মুখে পড়তে হবে৷

দ্বিতীয় ধাপের বাস্তবায়ন শুরু হবে এক বছর পর৷ মদ্যপানের জন্য বেত্রাঘাত এবং চুরির দায়ে হাত কেটে নেয়ার মতো শাস্তি কার্যকর করা হবে তখন৷ আর শেষ ধাপের আইন বাস্তবায়ন হলে ব্যাভিচার, সমকাম এবং ধর্ম অবমাননার অভিযোগে পাথর ছুড়ে হত্যার মতো শাস্তি পেতে হবে৷

অস্ট্রেলিয়ান ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক জশুয়া রোজ বলেন, ‘‘ব্রনাইয়ের সুলতান ইসলামিক আইনের পাশাপাশি ঔপনিবেশিক আমল থেকে সেখানে চলে আসা ফৌজদারি ও দেওয়ানি আইনগুলো রাখবেন কি না, তা স্পষ্ট নয়৷ তবে শেষ পর্যন্ত তিনি কতটা কঠোরভাবে শরিয়া আইন বাস্তবায়ন করতে চান, তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে৷''

উদ্বেগ

ব্রুনাইয়ের সুলতানের পদক্ষেপে উদ্বেগ প্রকাশ করে মানবাধিকার কর্মী ও আন্তর্জাতিক আইনের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শরিয়া আইন বাস্তবায়নের উদ্যোগ মানবাধিকারের জন্য একটি বড় আঘাত৷

Hassanal Bolkiah Sultan in Brunei

ব্রুনাইয়ের সুলতান হাসানআল বোলখিয়ার

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিভাগের উপ পরিচালক ফিল রবার্টসন বলেন, ‘‘এটি একটি স্বৈরাচারী সিদ্ধান্ত৷ মধ্যযুগের যেসব শাস্তির কোনো স্থান আজকের আধুনিক পৃথিবীতে নেই, সেগুলো আবার এই একুশ শতকে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে৷''

জাতিসংঘ মানবাধিকার কমশিনের মুখপাত্র রুপার্ট কলভিলে বলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী শাস্তি হিসাবে পাথর ছোড়া নির্যাতনেরই নামান্তর৷ অতীতে সাধারণত নারীরাই এ ধরনের ভয়ংকর শাস্তির শিকার হয়েছেন৷

সুলতান হাসানআল বোলখিয়াকে থামাতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর আঞ্চলিক জোট আসিয়ানকে উদ্যোগী হওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন ইন্টারন্যাশনাল কমিশন অফ জুরি'স-এর এমারলিন গিল৷

তিনি বলেন, ‘‘আসিয়ান-এর অঙ্গীকারে মানবাধিকার নিয়েও কথা ছিল, যা ব্রুনাইয়ের পদক্ষেপে লঙ্ঘিত হলো৷ ২০১৫ সালের পর আসিয়ানভুক্ত দেশগুলো ভিসামুক্ত চলাচল শুরু করলে তখন সদস্য দেশগুলোর নাগিরকেরা ব্রুনাইয়ে গিয়ে এই কঠোর আইনের শিকার হতে পারে৷ এ বিষয়টিও আসিয়ান নেতাদের মনে রাখতে হবে৷''

ব্রুনাইয়ের দু্ই তৃতীয়াংশ নাগরিক মালয়ী মুসলমান৷ বাকিরা জাতিগতভাবে মূলত চীনা ও ফিলিপিনো এবং বিভিন্ন বিশ্বাস ধারণ করেন৷ অমুসলিমদের ক্ষেত্রে দেশটি শরিয়া আইন কতটা কঠোরভাবে কার্যকর করবে – সে বিষয়টি এখন পর্যন্ত স্পষ্ট নয়৷

সমাজ বিজ্ঞানের অধ্যাপক জশুয়া রোজ বলেন, ব্রুনাইয়ের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানরা শরিয়া আইনের বিষয়টি একটি পর্যায় পর্যন্ত মেনে নিয়েছে বলে মনে হচ্ছে৷ কিন্তু এ দেশের মানুষ আসলে কখনোই প্রকাশ্যে মত প্রকাশের সুযোগ পায়নি৷ বহু বছর ধরেই ব্রুনাইয়ে স্বৈরতন্ত্র চলছে৷''

তেল খনি থেকে ব্রুনাই যে আয় করে তার ভাগ এর প্রতিটি নাগিরকও পান৷ তাঁদের প্রায় কোনো ধরনের কর দিতে হয় না, বরং বিনামূল্যে শিক্ষা ও চিকিৎসার মতো নাগরিক সুবিধা তাঁরা পান৷ এর মধ্যে দিয়ে সুলতান কার্যত প্রজাদের মতামতও ‘কিনে নিয়েছেন' বলে মনে করেন এমারলিন গিল৷

তিনি বলেন, ‘‘শাস্তির ভয়েই ব্রুনাইয়ের সাধারণ মানুষ শরিয়া আইন বাস্তবায় নিয়ে মুখ খুলতে পারছে না৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন