1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

ব্রিটেনের দুই নতুন নেতা

একজন নাকি রাজা চতুর্থ উইলিয়ামের বংশধর৷ অন্যজনের মা ওলন্দাজ, বাবা আধা রুশী৷ দুজনেই অভিজাত মহলের এবং দুজনেই আধুনিক৷ ডেভিড ক্যামেরন আর নিক ক্লেগ৷

default

ডেভিড ক্যামেরন নিজেই নিজের আখ্যা দিয়েছিলেন ‘‘ব্লেয়ারের উত্তরসুরী'', কেননা কনজারভেটিভ দলের আধুনিকীকরণের কৃতিত্ব তাঁরই৷ টোনি ব্লেয়ারের মতোই তিনি মিডিয়াকে খেলাতে জানেন৷ মার্গারেট থ্যাচারের আমলেই তিনি দলের উঠতি তারকা বলে পরিচিত ছিলেন৷ এযাবৎ কখনো মন্ত্রী হিসেবে কাজ করেননি৷ অথচ ৪৩ বছর বয়সে হলেন প্রধানমন্ত্রী: বিগত দু'শতাব্দীতে এ্যাতো কম বয়সে আর কেউ ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হননি৷

ক্যামেরনের পড়াশোনা ইটন কলেজে, যেখানে প্রিন্স হ্যারি এবং প্রিন্স উইলিয়াম'ও পড়েছেন৷ তারপর যথারীতি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে৷ ডিগ্রী হাতে নিয়েই কনজারভেটিভ দলে যোগদান৷

Großbritannien / Wahl / Cameron

স্ত্রী সামান্থা'র সঙ্গে ক্যামেরন

এবং থ্যাচার সরকারের আমলে অর্থমন্ত্রী নর্মান লামন্ট'এর উপদেষ্টা পদ অবধি ওঠেন৷ তারপর সাত বছর রাজনীতি ছেড়ে একটি মিডিয়া কোম্পানির যোগাযোগ কর্মকর্তা থাকেন৷ ২০০৫-এর ডিসেম্বরে টোরিদের তৃতীয় নির্বাচনী পরাজয়ের পর দলনেতা নির্বাচিত হন তরুণ ক্যামেরন৷

সুন্দরী স্ত্রী সামান্থা'কে নিয়ে নির্বাচনী প্রচারে নেমেছেন৷ প্রায়ই তাঁর প্রতিবন্ধী পুত্র আইভান'এর কথা বলেন, যে মাত্র ছ'বছর বয়সে গত বছর মারা যায়৷ ক্যামেরনদের আরো দু'টি সন্তান আছে এবং সামান্থা আগামী সেপ্টেম্বরে আরো একটি সন্তানের জন্ম দিতে চলেছেন৷

নিক ক্লেগ

লিবারাল ডেমোক্র্যাট দলের নেতা নিক ক্লেগ হবেন ক্যামেরনের উপ-প্রধানমন্ত্রী৷ লয়েড জর্জের আমল যাবৎ, অর্থাৎ প্রায় ৯০ বছর বাদে এই প্রথম আবার লিবারাল'রা সরকারে যোগ দিচ্ছে৷ এবং তার একটা কারণ নিঃসন্দেহে ব্রিটেনের প্রথম টিভি বিতর্কগুলিতে ক্লেগের আশ্চর্য পারফরমেন্স৷ এই ক্লেগ ব্রিটিশ সংসদে আফগানিস্তান যুদ্ধের খোলাখুলি সমালোচনা করেছেন৷

Großbritannien / Wahl / Clegg

স্ত্রী মিরিয়াম' এর সঙ্গে ক্লেগ

অথচ সামাজিক বিচারে তিনি ক্যামেরনের মতো বিত্তশালী মহলের মানুষ৷ মজার কথা, তাঁর বয়সও ৪৩৷ কিন্তু পারিবারিক বিচারে ক্লেগ'কে ব্রিটিশ রাজনীতিকদের মধ্যে কোনো ফর্মুলাতেই ফেলা যায় না৷ মা ওলন্দাজ, যিনি জন্মান ইন্দোনেশিয়ায়, এবং পরে জাপানী বন্দীশিবিরেও ছিলেন৷ এই মা ব্রিটেনে আসেন ১২ বছর বয়সে৷ ক্লেগের বাবা একজন সম্ভ্রান্ত ব্যাংকার এবং জাতিতে আধা রুশী৷

সেখানেই শেষ নয়৷ ক্লেগ লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টার স্কুল শেষ করে কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি'তে সামাজিক নৃতত্ত্ব পড়েন৷ পরে যান মিনেসোটা ইউনিভার্সিটিতে এবং ব্রুগেস'এর কলেজ অফ ইউরোপে৷ সেখানে আলাপ হয় স্ত্রী মিরিয়াম'এর সঙ্গে, যিনি আবার জাতিতে স্পেনীয়৷ কাজেই ক্লেগ দম্পতির তিন পুত্রের নাম আন্তোনিও, আলবের্তো এবং মিগুয়েল৷ তারা সবাই দ্বিভাষী৷ ক্লেগ স্বয়ং ওলন্দাজ, ফরাসি, জার্মান এবং স্প্যানিশ বলতে পারেন৷

ও হ্যাঁ, ক্লেগ সাংবাদিক এবং রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে স্বল্প সময় কাজ করার পর ইউরোপীয় কমিশনে পাঁচ বছর কাজ করেন৷ ১৯৯৯ সাল থেকে ২০০৪ সাল অবধি তিনি ছিলেন ইউরোপীয় সংসদের একজন লিবারাল ডেমোক্র্যাট সদস্য৷ পরিবারের অসুবিধা হচ্ছে দেখে ইংল্যান্ডে ফিরে শিক্ষক এবং লবিইস্ট হিসেবে কাজ যোগাড় করেন, কিন্তু ২০০৫ সালেই তাঁকে দেখা যায় ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য হিসেবে৷

প্রতিবেদক: অরুণ শঙ্কর চৌধুরী

সম্পাদনা: আরাফাতুল ইসলাম

সংশ্লিষ্ট বিষয়