1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

খেলাধুলা

ব্রাজিল-উরুগুয়ে: বিষাক্ত, অপরূপ খেলা

যেন পাড়ায় পাড়ায় মারামারি৷ যে যাকে পারো ল্যাং মারো, রেফারি দেখতে না পেলেই হলো৷ রেফারি দেখছে দেখলে ‘ডাইভ’ মারো, অ্যাক্টিং করো৷ অথচ এ সবই ঘটছে রাস্তার ফুটবল, গলির ফুটবল, আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে৷

ফুটবলের বেসিক স্কিলস বা বুনিয়াদি কৌশল যাকে বলে, তার সবই এই দু'টি দলের আরপ্ত৷ কাজেই বাকি থাকে শুধু তুম ভি মাস্তান, হাম ভি মাস্তান৷ জেন্টলম্যানের মতো পায়ে দু 'দণ্ড বল রেখে কায়দা-কসরৎ দেখানোর কোনো উপায় নেই৷ এ পাশ থেকে, ও পাশ থেকে, এমনকি পেছন থেকে ছোঁ মারার জন্য বিপক্ষের পাঁচ থেকে পাঁচশো'টি প্লেয়ার৷ খেলার দুর্ধর্ষ গতি, অথচ খেলা কোনোদিকে এগোচ্ছে না, এগোতে পারছে না৷

তার ওপর আবার ব্রাজিল আর উরুগুয়ে, এই দুই ‘পাড়ার' মধ্যে ফুটবল নিয়ে বহুদিনের শত্রুতা – একেবারে ১৯৫০ সাল থেকে বলা চলে, যে বছর উরুগুয়ের কাছে ব্রাজিলের ঐতিহাসিক হার কোনো পক্ষই ভোলেনি৷ শত্রুতা এতটাই যে, ব্রাজিলের সুপারস্টার নেইমার সম্পর্কে উরুগুয়ের ক্যাপ্টেন দিয়েগো লুগানো মন্তব্য না করে থাকতে পারেননি যে, নেইমার হলেন একজন ‘ডাইভার' – অর্থাৎ টোকা দিলেই, এমনকি টোকা না দিলেও উল্টে পড়ে গিয়ে ফাউল পাবার চেষ্টা করে থাকেন৷

বিশ্বের দুটো সেরা টিমের খেলা

লুগানো মন্তব্যটা করেন কনফেড কাপের সেমিফাইনালের আগেই এবং খোঁচাটা ব্রাজিলের এতটাই লাগে যে, ব্রাজিলের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন স্বমূর্তিতে ও স্বমহিমায় তার তীব্র প্রতিবাদ জানায়৷ বুধবারের ম্যাচেও দু'পক্ষ নন-স্টপ মারামারি, খেয়োখেয়ি করে গেছে: দেখলে কে বলবে, বিশ্বের দুটো সেরা টিমের খেলা দেখছি! তবে উরুগুয়ের দুর্দান্ত আক্রমণাত্মক খেলা, কিংবা ব্রাজিলের নেইমার সম্বল করে কিংবা না করে, বারংবার ঝলসে ওঠা, এ সবও ঘটে চলেছে ঐ পাড়ায় পাড়ায় মারামারির পাশাপাশি৷ যেন দুজন নামজাদা পেশাদারি বক্সার হঠাৎ রাস্তায় ঘুষোঘুষি শুরু করেছে৷ সেই ঘুষোঘুষি দেখে অন্তত এটুকু বোজাচোখেও বোঝা যায় যে, এদের বক্সিংটা জানা আছে৷

তাল পাকে গরমে

হচ্ছিল ফুটবলের কথা, এসে গেল বক্সিং! আসলে উরুগুয়ের বিরুদ্ধে ব্রাজিলের আগের তিনটে ম্যাচের ফ্লোয়িং ফর্ম-এর কিছুই দেখা যায়নি৷ কিন্তু তারা যে লড়তে জানে, উরুগুয়ের মতো একটি অভিজ্ঞ দলের বিরুদ্ধে জিতে পারে, এই অভিজ্ঞতাটাই তাদের দল হিসেবে আরো পরিপক্ক করে তুলবে – এ কথা বলেছেন কোচ লুইজ ফেলিপে স্কোলারি থেকে শুরু করে গোলরক্ষক হুলিও সেজার অবধি সকলেই৷

অপরদিকে উরুগুয়ের দলে এডিনসন কাভানি – যিনি উরুগুয়ের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন – দিয়েগো লুগানো, দিয়েগো ফরলান ও লুইজ সুয়ারেজ-এর মতো পোড়-খাওয়া প্লেয়ার আছে৷ সাম্প্রতিক কয়েক বছরে উরুগুয়েকে নিঃসন্দেহে দক্ষিণ অ্যামেরিকার সেরা টিমগুলির মধ্যে ফেলা চলে৷ দক্ষিণ আফ্রিকায় ২০১০ সালের বিশ্বকাপেও তারা চতুর্থ হয়েছিল৷ ২০১৪ সালের বিশ্বকাপের জন্য কোয়ালিফাই করতে তাদের কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে বটে, কিন্তু সেটাও সাময়িক বলেই ধরে নেওয়া যায়, বিশেষ করে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে তাদের ফর্ম দেখার পরে৷

বুধবারের খেলা সম্পর্কে উরুগুয়ের ক্যাপ্টেন লুগানোই শেষ কথাটা বলে ফেলেছেন: ‘‘ব্রাজিল দারুণ টিম৷ ওদের জেতা উচিত না হলেও ওরা জেতে৷ সেটাই এই দলটার বিশেষত্ব৷''

এসি/ডিজি (এপি, এএফপি, ডিপিএ)  

নির্বাচিত প্রতিবেদন