1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

খেলাধুলা

ব্রাজিলে ফুটবল এখনো ‘আফিম’!

ফুটবল উন্মাদনার দেশ ব্রাজিল৷ ব্রাজিলিয়ানদের ফুটবল প্রেমের অনেক গল্পই অনেকের জানা৷ জানেন কি, ফুটবল যে সেখানে এক ধরণের ‘আফিম’? জনতাকে ফুটবল নেশায় বুঁদ রেখে নিরাপদে থাকে শাসক?

default

বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে উদ্বোধন হওয়া এই নতুন স্টেডিয়ামকে ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের আনন্দ

ব্রাজিল ফুটবলের স্বর্ণযুগ থেকেই ফুটবল সেখানে আফিমের মতো৷ সাম্বা ফুটবলের দেশ প্রথম বিশ্বকাপ জেতে ১৯৫৮ সালে৷ পরেরবার, অর্থাৎ ১৯৬২ সালেও শিরোপা ধরে রাখে তারা৷ এরপর ১৯৭০-এ আবার চ্যাম্পিয়ন হয়ে ‘জুলে রিমে কাপ' চিরতরে ঘরে তোলে দক্ষিণ অ্যামেরিকার এই দেশ৷

এসব অজানা নয় কারো৷ বিশ্বকাপ ইতিহাসের সফলতম দল ব্রাজিল- এটাও অজানা নেই কারো৷ অনেকের এটা হয়তো জানা নেই যে, ফুটবলের এই জনপ্রিয়তাকে সরকার সবসময় নিজের স্বার্থে ব্যবহার করেছে৷

বিশেষ করে সামরিক শাসন শুরুর পর থেকে ফুটবলকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা শুরু হয়৷ বামঘেঁষা সরকারকে হঠিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন হোসে সার্নে৷ তারপর থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত ব্রাজিলে চলেছে সামরিক শাসন৷ এ সময়ে ফুটবলের জীবন্ত কিংবদন্তি পেলে-র পেছনেও নাকি গোয়েন্দা লাগানো হয়েছিল৷ পেলে বামপন্থি হলে গোয়েন্দার মাধ্যমে তা জেনে তাঁর ক্যারিয়ার হয়ত আগেভাগেই শেষ করে দিতো সামরিক জান্তা৷

পেলে বা ১৯৫৮ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত ব্রাজিলকে তিনবার বিশ্বকাপ জেতানো অন্য খেলোয়াড়রা তবু সুযোগ পেয়েছেন দেশের হয়ে খেলার৷ কিন্তু ব্রাজিলে এমন ফুটবলার কম নয়, যাঁরা শুধু রাজনৈতিক দর্শনের কারণে কোনোদিন জাতীয় দলে সুযোগ পাননি৷

আফনসো সেদসো গার্সিয়া রেইস তাঁদেরই একজন৷ পেলেদের সময় বোটাফোগোর হয়ে দাপটেই খেলেছেন ঘরোয়া লিগ৷ কিন্তু জাতীয় দলে খেলার সুযোগ হয়নি কোনোদিন৷ এর কারণ জানাতে গিয়ে ৬৬ বছর বয়সি সাবেক মিডফিল্ডার বললেন, ‘‘আমার নীতি ছিল, তারই চড়া মূল্য দিয়েছি৷ ''

সামরিক শাসনের সময় বামপন্থি চেতনার খেলোয়াড়দের সুযোগ দেয়া হত না৷ দলে সুযোগ পাওয়া কাউকে কমিউনিস্ট মনে হলে সঙ্গে সঙ্গে পেছনে লাগানো হতো গোয়েন্দা৷ ১৯৭০ বিশ্বকাপের আগে ব্রাজিলকে বাছাই পর্বের বৈতরণী পার করিয়েছিলেন কোচ হোয়াও সালদানহা৷ কিন্তু ক্ষমতাসীনদের সন্দেহ হওয়ায় মূল পর্বে তাঁকে রাখা হয়নি৷ মূল পর্বে কোচ ছিলেন মারিও জাগালো৷ জাগালো অবশ্য দলকে চ্যাম্পিয়ন করেই দেশে ফিরেছিলেন৷

জাগালোর সাফল্যে ঢাকা পড়েছিল হোয়াও সালদানহার হতাশা৷ বিজয়ানন্দে চাপা পড়েছিল সামরিক শাসন আর শোষণ বিরোধী পুঞ্জীভূত ক্ষোভ৷ ব্রাজিলের মানুষ ফুটবলের আনন্দ পেলে সব ভুলে যায়৷ ২০১৪ বিশ্বকাপকে ঘিরেও বিক্ষোভ কম হয়নি ব্রাজিলে৷ দরিদ্র দেশে এত ব্যয়ে বিশ্বকাপ আয়োজনের বিরুদ্ধে অনেকেই৷

ব্রাজিলে আর সামরিক শাসন নেই৷ কিন্তু ১৯৭০ বিশ্বকাপ জয়ী ব্রাজিল দলের খেলোয়াড় টোস্টাও মনে করেন এখনকার গণতান্ত্রিক সরকারও আফিমের মতো ব্যবহার করতে চান ফুটবলকে৷ এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘‘সর্বকালের অন্যতম সেরা একটি দলের হয়ে বিশ্বকাপ জেতায় আমি গর্বিত৷ কিন্তু ১৯৭০-এর দলকে যখন জনগণের আফিম হিসেবে বর্ণনা করা হয়, তখন খুব খারাপ লাগে৷ তবে শুধু স্বৈর শাসকের সময়ে নয়, গণতান্ত্রিক শাসকের সময়ও এমন হয়েছে৷ সারা বিশ্বেই হয়েছে৷ এখনো এমনই হচ্ছে৷''

এসিবি/জেডএইচ (এএফপি, রয়টার্স)

নির্বাচিত প্রতিবেদন