1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

ব্রাজিলের নির্যাতিত মেয়েদের জন্য আশার আলো

ব্রাজিলের কসমেটিক সার্জেন ও সাহায্য সংস্থা ‘দ্য ব্রিজ’ বা ‘সেতু’-র দ্য উদ্যোগে গঠিত একটি প্রকল্প পারিবারিক সহিংসতার শিকার মেয়েদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে৷ এই সব মেয়েদের ক্ষত ভালো করতে নিখরচায় অপারেশন করা হয় প্রকল্পের আওতায়৷

default

ব্রাজিল পারিবারিক সহিংসতার শিকার এক নারীর ক্ষত ঠিক করে দিয়েছেন ‘দ্য ব্রিজ’ এর চিকিৎসকরা

ব্রাজিলের জাতীয় সমানাধিকার দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী প্রতি দুইজনের একজন মেয়ে পারিবারিক সহিংসতার শিকার হন৷ এর মধ্যে আবার অর্ধেকের বেশি প্রতিদিনই অত্যাচারের কবলে পড়েন৷ ৭০ শতাংশ ক্ষেত্রেই স্বামী বা জীবনসঙ্গী এ জন্য দায়ী৷

কিছুটা স্বস্তি ফিরে পাওয়া

কসমেটিক সার্জেনদের প্রকল্পটি আহত মেয়েদের ক্ষত ও দাগ অপারেশন করে তাঁদের জীবনে কিছুটা স্বস্তি ও শান্তি ফিরিয়ে দিতে চান৷ এই সুযোগটা নিয়েছেন জ্যাকলিন সান্তোস অলিভিয়েরা ও রোসেনাইডে ফ্যার্নানডেস ডা সিল্ভা৷ ভয়াবহ অভিজ্ঞতার চিহ্ন আজো বহন করে চলেছেন তাঁরা৷

‘‘সব অপারেশন হয়ে গেলে আমি আবার নিজেকে পরিপূর্ণ বলে মনে করতে পারবো৷''

Brasilien Opfer häuslicher Gewalt

পারিবারিক সহিংসতার শিকার জ্যাকলিন সান্তোস অলিভিয়েরা

বলেন ২৬ বছর বয়সি জ্যাকলিনের প্রথম অপারেশনটি হয়ে গিয়েছে৷ সুপার মার্কেটে কাজ করেন তিনি৷ চার বছর আগে তাঁর প্রাক্তন প্রেমিক প্রকাশ্য দিবালোকে এক পেট্রল পাম্পের কাছে ছুরিকাঘাত করেন তাঁকে৷ ক্ষতটা ধীরে ধীরে শুকিয়ে এলেও দাগ থেকে যায়৷ কাজের জায়গায় কাপড় বদলোনোর সময় সংকোচ বোধ করেন৷ ‘‘চার বছর ধরে বিকিনি পরিনি৷ তবে আজ আমি ভালো বোধ করছি'', বলেন জ্যাকলিন৷

লজ্জা ও গ্লানি

রোসেনাইডেকে শুধু লজ্জা ও গ্লানি নিয়েই জীবন কাটাতে হচ্ছে না৷ ১৯ বছর ধরে শারীরিক যন্ত্রনাও ভোগ করছেন তিনি৷ তখন তাঁর বয়স ছিল ১৮ বছর৷ প্রাক্তন স্বামী দু'বার গুলি করে হত্যা করতে চেয়েছিল তাঁকে৷ হাত দিয়ে মুখ ঢেকে কোনো রকমে জীবন রক্ষা হয়৷ তবে তাঁর হাত ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায়৷

বছরের বছর পর কেটেছে তাঁর হাসপাতালে৷ ‘‘আমরা ত্বকে সংক্রমণ দেখা দেয়৷ প্রতিবারিই আমার বাহু থেকে মাংস কেটে ফেলা হয়৷ এক বিরাট গর্ত দেখা দেয় সেখানে৷ হাড়ের ওপর শুধু চামড়া লেগে থাকে৷ প্রতিবারই হাসপাতালে এলে মনে হতো, আবার বুঝি আহত হতে হবে৷'' বলেন রোসেনাইডে৷

Brasilien Opfer häuslicher Gewalt

রোসেনাইডে ফ্যার্নানডেস ডা সিল্ভা

এখন কিছুটা ভালো

তিনি এক সুপারমার্কেটে ক্যাশিয়ার হিসাবে কাজ করেন৷ এই আক্রমণের পর তাঁর বাহু বন্ধ করতে পারতেন না তিনি৷ কনুইও ভাজ করতে পারতেন না৷ অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক ছিল তা৷ চার সন্তানের জননী রোসেনাইডের বয়স আজ ৩৭৷ অপারেশনের পর যেন নতুন জীবন ফিরে পেয়েছেন তিনি৷ ‘‘আমার হাত আবার নাড়াতে পেরে অপারেশনের টেবিলেই কেঁদেছি আমি'', বলেন এই নারী৷

অপারেশনের দুই মাস পরেও ক্ষতচিহ্নটা এখনও দেখা যায়৷ কিন্তু রোসেনাইডে সব মিলিয়ে ভালো বোধ করছেন৷ তাঁর ভাষায়, ‘‘আমার আত্নবিশ্বাস বেড়েছে৷ ছোট হাতের জামাকাপড় পরতে কোনো অসুবিধা হয় না৷ আগের মতো হবে না কোনো দিন৷ কিন্তু আজ তবু অনেক ভালো৷''

ব্রাজিলের আইন অনুযায়ী জ্যাকলিন ও রোসেনাইডে কসমেটিকস অপারেশনসহ নিখরচায় চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার রাখেন৷

দ্রুত চিকিৎসা করা হয়

সাধারণত প্লাস্টিক সার্জারির জন্য অপেক্ষা করতে দুই বছরেরও বেশি সময় লেগে যায়৷ ছয়মাস আগে গঠিত সাও পাউলোর কসমেটিকস সার্জেনদের প্রকল্পটি এই চিকিৎসাকে ত্বরান্বিত করেছে৷ ১১ জন মেয়েকে ইতোমধ্যেই অপারেশন করা হয়ে গিয়েছে৷ আরো ১১ জনকে অপারেশন করার পরিকল্পনা করা হয়েছে৷

‘‘আমরা চেষ্টা করি দৃশ্যমান দাগগুলি নিরাময় করতে৷ এরফলে মানসিক দিক দিয়েও তারা ভালো অনুভব করেন৷'' বলেন ব্রাজিলের কসমেটিকস সার্জারি সমিতির প্রধান প্রাডো নেটো৷ অনেক মেয়ে সহিংসতার শিকার হওয়ার অনেক বছর পরও আত্মবিশ্বাসের অভাবে ভোগেন৷

জাতীয় সমানাধিকার দপ্তরের লরডেস মারিয়া বান্ডেরিয়াও এব্যাপারে একমত পোষণ করেন৷ পিতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় ব্রাজিলের সহিসংতার শিকার নারীরা নিজেদেরকেই অপরাধী মনে করেন৷

নির্যাতিতকেই দোষ দেওয়া হয়

জ্যাকলিনেরও এই অভিজ্ঞতা হয়েছে৷ তাঁর প্রথম নেতিবাচক অভিজ্ঞতা হয় পুলিশের থানায়৷ তাঁর ভাষায় ‘‘সেখানে সবাই বলেছেন, আমার নিজেরই দোষ, এই রকম লোকের পাল্লায় আমি কি করে পড়লাম? আমাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়েছে, এটা দেখেও তাঁরা হাসাহাসি করেছে৷''

থানাতেই তিনি শোনেন, তাঁর প্রাক্তন প্রেমিক নকল নাম ব্যবহার করছে এবং আরেক মেয়েকে হত্যা করার চেষ্টা করেছে৷ ‘‘আমি পুলিশদের বলি, এই লোকটিকে স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে দেওয়া ঠিক নয়'', বলেন জ্যাকলিন৷

রোসেনাইডে এই বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চান না৷ ‘‘মানুষ আমার ক্ষতটা দেখে প্রশ্ন করে৷ প্রথম প্রথম এটা লুকাতে চেষ্টা করেছি৷ আজ আমি বলি দুটো গুলি করা হয়েছিল৷ তবে বিশদভাবে কিছু বলি না৷ এ জন্য সংকোচ বোধ করি৷''

এই দুই ভুক্তভোগী নারীই এখন স্বাভাবিক জীবনে কিছুটা ফিরে এসেছেন৷ তবে অপারেশনের পর ভালো হতে আরো দীর্ঘ পথ পার হতে হবে৷ ‘‘এই প্রথম আমি বেঁচে আছি বলে অনুভব করছি৷ আমি আরো সংগ্রাম চালিয়ে যাব৷'' সজল চোখে জানান রোসেনাইডে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়