1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

খেলাধুলা

ব্রাজিলকে কাঁদানোর স্মৃতিচারণ করলেন ‘মারাকানার ভূত’

৬৪ বছর আগের একটা গোল৷ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সবচেয়ে দুঃসহ স্মৃতি৷ আয়োজক হিসেবে আরেকটি আসর শুরু করার আগে ব্রাজিলকে সেদিনের কথা মনে করিয়ে দিলেন আলসিডেস গিজ্জা৷

default

উরুগুয়ের রাজধানী মন্টিভিডিওতে নিজের পায়ের ছাপ সম্বলিত ফলকের পাশে ব্রাজিলকে কাঁদানো আলসিডেস গিজ্জা

এ পর্যন্ত পাঁচবার বিশ্বকাপ জিতেছে ব্রাজিল৷ ১৯৫৮ সালে পেয়েছিল প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বাদ৷ কিন্তু এ আনন্দ আট বছর আগেই পাওয়ার কথা ছিল৷ ১৯৫০-এর আসরে ব্রাজিল ছিল আয়োজক, ফাইনালে তারাই ছিল ফেবারিট৷ ড্র করলেই চ্যাম্পিয়ন – এমন সহজ হিসেব ভণ্ডুল করে দিয়েছিল একটি গোল৷ ম্যাচ শেষ হতে তখন দশ মিনিটও বাকি নেই৷ ডান প্রান্তে বল পেলেন ২৩ বছর বয়সি টগবগে তরুণ আলসিডেস গিজ্জা

মার্কারকে কাটিয়েই নিলেন দারুণ এক শট৷ গোল রক্ষক ‘ডাইভ' দেয়ার আগেই বল জড়ালো জালে – গোল! ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে উরুগুয়ে চ্যাম্পিয়ন৷

সেই গিজ্জার বয়স এখন ৮৭৷ তাঁর দেশ উরুগুয়ে আর একবারও বিশ্বকাপ জিততে পারেনি৷ অন্যদিকে ব্রাজিল পাঁচবার জিতে হয়ে গেছে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সফলতম দল৷ তারপরও ওই একটি গোল নিয়ে আলোচনার শেষ নেই৷ ১৯৫০ বিশ্বকাপের ৬৪ বছর পরও তাই গিজ্জার কাছে জানতে চাও হয় একটি কথা, ‘‘ব্রাজিলের বিপক্ষে সেই গোল করার পর আপনার কেমন লেগেছিল?''

দল জিতেছে, জিতে বিশ্বকাপের মতো আসরে সেরা হয়েছে, ভালো তো লাগবেই৷ আনন্দে মন তো নেচে উঠবেই৷ কিন্তু বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে গিজ্জা জানিয়েছেন, সেদিন বয়স কম ছিল বলে গোলের মাহাত্ম্যটা নাকি খুব ভালো বুঝতে পারেননি তিনি৷

বিশ্বকাপ শেষে যেখানেই গিয়েছেন, সেখানেই তাঁকে ঘিরে ধরেছে উরুগুয়ের ফুটবলপাগল মানুষ৷ সবার একটাই কথা, ‘‘তুমি আমাদের নায়ক৷ তুমি আমাদের বিশ্বকাপ এনে দিয়েছো৷'' ৬৪ বছর পরও তাঁকে শুধু ওই একটি কারণেই খুব বেশি সম্মানের চোখে দেখে সবাই৷

‘মারাকানাজো' শব্দটি ১৯৫০ বিশ্বকাপ ফাইনালের পরই ঢুকে পড়ে ব্রাজিলিয়ানদের অভিধানে৷ এর মানে ‘মারাকানার ভূত'৷ মারাকানার সেই ফাইনালের কথা উঠলেই ব্রাজিলিয়ানদের মনে জাগে অশুভ আশঙ্কা৷ যে স্মৃতি এখনো সে দেশের প্রতিটি ফুটবলভক্তকে দুঃস্বপ্নের মতো তাড়া করে, তার জন্য দায়ী তো গিজ্জা৷ ব্রাজিলিয়ানদের চোখে তাই গিজ্জাও ভূতের মতো খানিকটা ভয় জাগানো নাম৷

‘‘সেদিনের স্মৃতি এখনো আমার মনে টাটকা৷ আনন্দের সেই মুহূর্তটিতে আমার নিজের পরিবার আর বন্ধুদের কথা মনে পড়ছিল৷ তবে পুরো স্টেডিয়াম যেন স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল'' – সাক্ষাৎকারে এভাবেই ব্রাজিলকে আয়োজক হিসেবে বিশ্বকাপ জেতার সুযোগ বঞ্চিত করা গোলটির কথা স্মরণ করেছেন গিজ্জা৷

১৯৫০ বিশ্বকাপ ফাইনালে ব্রাজিল আর উরুগুয়ের হয়ে খেলা খেলোয়াড়দের মধ্যে শুধু গিজ্জাই বেঁচে আছেন৷ বেঁচে আছেন দেশকে বিশ্বকাপ জেতানোর অহঙ্কার নিয়ে৷ তাঁর শট আটকাতে ব্যর্থ মোয়াসির বারবোসা বড় একটা দুঃখ নিয়ে মারা গেছেন ২০০০ সালে৷ ওই একটি গোলের জন্য ব্রাজিলিয়ানরা তাঁর সঙ্গে সারা জীবন নাকি অপরাধীর মতো আচরণ করেছে!

এসিবি/ডিজি (এএফপি, এপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন