1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান প্রযুক্তি

ব্যাটারিতে কিভাবে আগুন লাগে?

লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি আকারে ছোট, হালকা, তবে অনেক শক্তি ধারণে সক্ষম৷ তাই ইলেক্ট্রনিক্স ইন্ডাস্ট্রিতে এসব বেশ জনপ্রিয়৷ কিন্তু স্যামসাং গ্যালাক্সি সেভেন ফোনে আগুন লাগায় প্রশ্ন উঠেছে: এসব ব্যাটারি কতটা নিরাপদ?

শুধু মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ আর ক্যামেরাই নয়, অনেক ইলেক্ট্রিক বাইক এবং গাড়িতেও এখন রিচার্জেবল লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি ব্যবহার করা হচ্ছে৷ এগুলো অত্যন্ত হালকা, তবে অনেক শক্তি জমা রাখতে পারে৷ একইসঙ্গে এগুলোতে লিড বা ক্যাডমিয়ামের মতো ক্ষতিকর পদার্থ নেই, যা অন্য অনেক ব্যাটারিতে থাকে৷

বর্তমানে কোটি কোটি লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি বিশ্বের আনাচে কানাচে ব্যবহৃত হচ্ছে৷ আর সেগুলো সচরাচর মাত্রাতিরিক্ত গরম হয় না কিংবা বিস্ফোরিতও হয়না৷ এমনকি স্যামসাং গ্যালাক্সি নোট সেভেন স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে প্রতি দশহাজার ফোনের মাত্র একটিতে আগুন লাগার শঙ্কা রয়েছে৷ স্যামসাং অবশ্য জানায়নি ঠিক কতটি ফোনের ব্যাটারিতে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে৷ তবে পঁচিশ লাখ ফোন বিক্রির কথা জানা গেছে৷

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ব্যাটারির সাইজ ছোট করার পাশাপাশি এটির ক্ষমতা মাত্রাতিরিক্ত বাড়ানোর কারণে এই বিপত্তি ঘটে থাকতে পারে৷ এক্ষেত্রে ডেভেলপাররা অনেক বেশি ঝুঁকি নিয়েছেন৷ তবে স্যামসাংই প্রথম কোম্পানি নয় যেটি ব্যাটারি নিয়ে এমন সমস্যায় পড়েছে৷ ২০১৩ সালে বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার লিথিয়াম ব্যাটারি বেশি গরম হয়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিয়েছিল৷ এমনকি একটির ব্যাটারিতে আগুন লাগার পর সেই সিরিজের সব বিমানের ওড়া সমস্যা সমাধানের আগ অবধি বন্ধ রাখা হয়েছিল৷ ২০১৫ সালে ‘সোলার ইমপালস - ২,' যেটি পুরোপুরি সৌরশক্তিতে চলে, সেটিকে নয় মাস হাওয়াইতে মেরামতের জন্য রাখা হয়েছিল ব্যাটারির সমস্যার কারণে৷

স্যামসাংয়ের ইঞ্জিনিয়াররা গ্যালাক্সি নোট সেভেনে ৩৫০০ মিলিয়াম পার আওয়ার ক্ষমতার ব্যাটারি যোগ করে৷ উদ্দেশ্য ছিল, প্রতিদ্বন্দ্বী ফোনগুলোর ব্যাটারি ক্ষমতার চেয়ে গ্যালাক্সি সেভেনের ক্ষমতা অনেক বাড়িয়ে দেয়ার৷ অ্যাপল আইফোন সেভেনের ব্যাটারির ক্ষমতা ১৯৬০ মিলিয়াম পার আওয়ার, আর আইফোন সেভেন প্লাসের ২৯০০ মিলিয়াম পার আওয়ার৷

ব্যাটারির ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ফোনকে আরো স্লিম করা এবং ব্যাটারি চার্জ করার সময় আরো কমানোর দিকে গুরুত্ব দেন স্যামসাংয়ের ইঞ্জিনিয়াররা৷ কিন্তু সেটা ব্যাটারি তৈরির ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করে৷ ব্যাটারির মধ্যে শর্ট সার্কিট রোধে দুটি উপাদানকে আলাদা করতে প্লাস্টিকের পাত ব্যবহার করা হয়েছে৷ কিন্তু এই পাত খুব সহজেই ভেঙ্গে যাওয়ার শঙ্কা থাকে৷ যেমন ফোনটি যদি হাত থেকে পড়ে যায় তাহলে প্লাস্টিকের পাতটির ক্ষতি হতে পারে৷ আর ব্যাটারি দ্রুত চার্জ করার সম্ভাবনা তৈরি করতে গিয়ে এর ফলে যে তাপ সৃষ্টি হয় সেটিকে গুরুত্ব দেয়া হয়নি৷ ফলে দেখা গেছে, ব্যাটারি চার্জ দেয়ার সময় ত্রিশ ডিগ্রি পর্যন্ত গরম হয়৷ তখন ফোনটি রোদের মধ্যে থাকলে বড় সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে৷

ফাবিয়ান স্মিড্ট / এআই

আশীষ চক্রবর্ত্তী

নির্বাচিত প্রতিবেদন