1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

ব্যাঙ দিয়ে যায় চেনা

জায়েন্ট স্কুইকার ফ্রগ ঘানার একটি বিরল প্রজাতির ব্যাঙ৷ কিন্তু সেই ব্যাঙকে বাঁচানোর প্রচেষ্টাই ঘানার একটি গ্রামের অধিবাসীদের চোখ খুলে দিয়েছে: ব্যাঙ বাঁচানোর জন্য প্রয়োজন জঙ্গলকে বাঁচানো, যার অর্থ পরিবেশকে বাঁচানো৷

ভিডিও দেখুন 06:00

ঘানায় ব্যাঙ বাঁচানোর চেষ্টা

ঘানার সুই রিভার রিজার্ভ ফরেস্টে ট্রেক করা খুব সহজ নয়৷ কিন্তু এই পরিবেশ সংরক্ষণকারীরা এসেছেন একটা বিশেষ কাজে৷ গবেষক গিলবার্ট আডুম তাঁর কিছু মার্কিনি সতীর্থদের নিয়ে একটি বিশেষ ধরনের ব্যাঙের খোঁজ করছেন৷ আডুম মাত্র কয়েক বছর আগে এই প্রজাতিটি আবিষ্কার করেন৷

মাইকেল জানালো, সে একটি ব্যাঙ খুঁজে পেয়েছে৷ আর মাত্র ৩০টি এ ধরনের ব্যাঙ বেঁচে আছে বলে মনে করা হয়৷ সাবধানে হাতে নিতে হয়৷ এ ধরনের ব্যাঙ আজ প্রথম দেখা গেছে৷ তবে এটি অন্য প্রজাতির৷

পরিবেশ সংরক্ষণকারী গিলবার্ট আডুম জানালেন,‘‘আমরা প্রতি মাসে এক বা দুই সপ্তাহ এখানে কাটাই এই ব্যাঙের খোঁজে৷ যেমন এবার আমরা জুন মাসে শুরু করেছি....কিন্তু একটা ব্যাঙ খুঁজে পেতে চার মাস সময় লেগে গেছে৷ এই দেখুন!’’

গিলবার্ট আডুমের কাজ জায়েন্ট স্কুইকার ফ্রগদের নিয়ে৷ এই ব্যাঙদের নিয়ে তাঁর গবেষণার জন্য দূর দূর দেশ থেকে তাঁর ডাক এসেছে৷ আডুম বললেন, ‘‘আমি ব্যাঙ ভালোবাসি আর সেই ভালোবাসার কারণেই আমি জার্মানিতে এসেছি, বার্লিনে এসেছি৷’’

বার্লিনে

আডুম এসেছেন বার্লিনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামে দেড় বছরের জন্য, গবেষণার কাজে৷ মিউজিয়ামটির সংগ্রহে পশ্চিম আফ্রিকার নানা উভচর জীব আছে, ব্যাঙেরা যাদের মধ্যে পড়ে৷ ঘানার জীববিজ্ঞানী আডুম ম্যাপ তৈরির জন্য জিআইএস পদ্ধতি ব্যবহার করতেও শিখে গেছেন৷

ঘানার জায়েন্ট স্কুইকার ফ্রগ আর অন্যান্য সব প্রজাতির ব্যাঙ জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কা সামলে উঠতে পারছে তো? আডুম তা নিয়ে গবেষণার জন্য হুমবল্ট ফাউন্ডেশনের একটি ফেলোশিপ গ্র্যান্ট পেয়েছেন৷ আডুম বলেন, ‘‘আমার জ্ঞান দারুণভাবে বেড়েছে৷ ঘানায় প্রায় ৮০ রকমের ব্যাঙ পাওয়া যায়৷ এখানে তাদের প্রায় সবার নমুনা আছে৷ আমি তাদের সব ক'টিকে পরীক্ষা করেছি৷ আর এই নতুন ম্যাপগুলোর ফলে আমি জানি ঠিক কোথায় কোন ব্যাঙ পাওয়া যায়৷ কাজেই আমার অনেক লাভ হয়েছে৷ এই ফেলোশিপের মতো আর কিছু থেকে আমি এতটা পাইনি৷’’

ঘানায়

আডুম এখন ঘানায় ফিরে সুই নদীর তীরে সংরক্ষিত অরণ্যে তাঁর গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন৷ ব্যাঙেদের প্রকৃতিদত্ত বাসস্থান এখন গাছ কাটার ফলে বিপন্ন হচ্ছে৷ ‘সেভ দ্য ফ্রগস’ নামের মার্কিন এনজিও-র সতীর্থদের গিলবার্ট দেখাচ্ছেন, কাঠ শিল্পের বেপরোয়া গাছ কাটার ফলে কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে৷ অনুমোদিত সংখ্যার তুলনায় অনেক বেশি গাছ কাটা হয়েছে৷ মাটিতে গভীর দাগ বসে গেছে৷ জমিটাই নষ্ট৷ আডুম বললেন, ‘‘এটা আমাদের পক্ষে যুদ্ধের সামিল৷ আমরা ওদের সাথে লড়তে পারি না৷ আমরা স্থানীয় লোকেদের বোঝানোর চেষ্টা করছি যে, এই বনজঙ্গল কাঠ কোম্পানির সম্পত্তি নয়, সরকারেরও নয়, এটা তাদের, স্থানীয় লোকেদের সম্পত্তি৷’’

জঙ্গলের ধারেই ইয়ক্রোম গ্রাম৷ শুধু গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে একত্রে সুই অরণ্য ও সেই সঙ্গে ব্যাঙেদের বাঁচানো সম্ভব৷ গ্রামবাসীরা কোকো চাষ থেকে সংসার চালান৷ নয়তো মধু সংগ্রহ করে৷ এখন তারা শিখছেন, কী করে মৌমাছির চাক বসাতে হয়৷ ব্যাঙ বাঁচানোর প্রচেষ্টা থেকেই এই প্রকল্পের জন্ম৷ মৌমাছিদের ঠান্ডা করার জন্য কী করতে হয়, মৌমাছির চাক কীভাবে পালতে হয়, এই সব শিখছেন তারা৷ আগে তারা জঙ্গল থেকে মধু সংগ্রহের সময় আগুন দিয়ে মৌমাছি তাড়াতেন, যার ফলে গাছ পুড়ে যেতো৷ এখন তারা জঙ্গলের বাইরে মৌমাছি পালতে শিখছেন৷

ইয়ক্রোমে আশার ছোঁয়া লেগেছে৷ আরেকটি প্রকল্পে চেষ্টা চলেছে, গাছ কাটার ফলে যে সব জমি ফাঁকা হয়ে পড়েছে, সেখানে চাষের ব্যবস্থা করার৷ গিলবার্ট আডুম ও তাঁর সংগঠন মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে ইয়ক্রোমের বাসিন্দাদের অরণ্য সংরক্ষণের কাজে লাগাতে পেরেছেন৷ ৩৫ বছর বয়সি গবেষককে আগে শুনতে হতো: ব্যাঙ বাঁচিয়ে কী হবে? কিন্তু ইয়াক্রোমেতে আজ উৎসবের মেজাজ৷ একটি মেয়ে বললো, সে একটি কবিতা আবৃত্তি করবে৷ কবিতার নাম হলো: কত ধরনের ব্যাঙ আছে৷ অনেক ধরনের ব্যাঙ আছে...৷’

গোটা উৎসবটাই ব্যাঙ আর তাদের রক্ষাকর্তাদের ঘিরে৷

জায়েন্ট স্কুইকার ফ্রগ আজ ইয়ক্রোমের মানুষদের কাছে পরিবেশ সংরক্ষণের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে৷

প্রতিবেদন: মাবেল গুন্ডলাখ/এসি

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়