1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

ব্যাক্টিরিয়ার মধ্যেই অ্যান্টিবায়োটিকের খোঁজ

মুড়ি-মুড়কির মতো অ্যান্টিবায়োটিক খেলে প্রয়োজনের সময় তা কাজে লাগে না৷ আবার অনেক জীবাণু অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধ করতে শিখে যায়৷ জার্মান বিজ্ঞানীরা ‘বিষে বিষক্ষয়' করতে জীবাণুর মধ্যেই জীবাণুনাশক ব্যবহার করার উদ্যোগ নিচ্ছেন৷

হাসপাতালের জীবাণু মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারে৷ প্রচলিত ওষুধ সাধারণত এ সব ক্ষেত্রে কাজ করে না৷ বিপজ্জনক ব্যাক্টিরিয়া সাধারণ অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ করে বলে প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটে৷ বন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তানিয়া শ্নাইডার বলেন, ‘‘গোটা বিশ্বেই অ্যান্টিবায়োটিক-রেজিস্টেন্ট জীবাণুর দাপট বেড়ে চলেছে৷ এর ফলে শুধু সংক্রামক রোগ নয়, গোটা চিকিৎসাশাস্ত্রের উপরই প্রভাব পড়ছে৷ ভেবে দেখুন, কেমোথেরাপি, অঙ্গ প্রতিস্থাপন, ইমপ্লান্ট – অ্যান্টিবায়োটিক ছাড়া এ সব সম্ভবই নয়৷''

অর্থাৎ দ্রুত নতুন এজেন্টের প্রয়োজন রয়েছে৷ এর জন্য মাটির ব্যাক্টিরিয়ার দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে৷ কারণ তারা অন্যান্য ব্যাক্টিরিয়া থেকে আত্মরক্ষা বা তাদের মোকাবিলা করতে স্বাভাবিক অ্যান্টিবায়োটিক এজেন্ট উৎপাদন করে৷ কিন্তু এখনো পর্যন্ত ৯৯ শতাংশ মাটির ব্যাক্টিরিয়া মানুষের কাছে অজানা রয়ে গেছে৷ ল্যাবের পরিবেশে তাদের বংশবৃদ্ধি ঘটে না৷ বন বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. টিল শেবারলে বলেন, ‘‘গবেষণাগারে আমরা হয়তো ব্যাক্টিরিয়া প্রজননের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারি না৷ তারা প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও মাটির মতো অবস্থা পায় না৷ তাই সেই পরিবেশের অভাবে ল্যাবে তাদের বংশবৃদ্ধি ঘটাতে পারি না৷''

মার্কিন গবেষকরা প্রথম বার প্রাকৃতিক পরিবেশে এমন অপরিচিত মাটির ব্যাক্টিরিয়ার বংশবৃদ্ধি ঘটাতে পেরেছেন৷ তাঁরা অনেকগুলি খোপ সহ একটি চিপ তৈরি করেছেন, যার মধ্যে মাটির ব্যাক্টিরিয়া বিচ্ছিন্নভাবে বংশবৃদ্ধি করতে পারে – অবশ্যই তাদের চেনা পরিবেশে৷ সেই কলোনি-গুলিকে পরে ল্যাবে নিয়ে গিয়ে ব্রিডিং চালিয়ে যাওয়া এবং তাদের অ্যান্টিবায়োটিক প্রভাব পরীক্ষা করা সম্ভব৷

১০,০০০ ব্যাক্টিরিয়ার উপর পরীক্ষা চালিয়ে গবেষকরা এমনটি একটি প্রজাতি খুঁজে পেয়েছেন, যেটি ‘টেইক্সোব্যাকটিন' নামের অত্যন্ত কার্যকর অ্যান্টিবায়োটিক পদার্থ সৃষ্টি করে৷ বন বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের বিজ্ঞানীরা এখন এই পদার্থের কার্যপ্রক্রিয়া বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করছেন৷ অধ্যাপক তানিয়া শ্নাইডার বলেন, ‘‘টেইক্সোব্যাকটিন একইসঙ্গে একাধিক জায়গায় ব্যাক্টিরিয়ার কোষের খোলস উৎপাদন প্রক্রিয়ার উপর হামলা চালায়৷ সেই খোলসের উপকরণের উপর সুনির্দিষ্ট হামলা চালায়৷ ফলে তার বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায়৷ ফলে সেটি দুর্বল হয়ে পড়লে ব্যাক্টিরিয়া মরে যায়৷''

ব্যাক্টিরিয়া কোষ বা রোগের প্যাথোজেন সাধারণত প্রতি ২০ মিনিটে বিভক্ত হয়ে যায়৷ শরীরে রোগের জীবাণু ভরে যায়৷ প্রত্যেকবার বিভাজনের আগে প্যাথোজেন-কে কোষের নতুন প্রাচীর তৈরি করতে হয়৷ ব্যাক্টিরিয়ায় টেইক্সোব্যাকটিন দিলে কোষের প্রাচীর তৈরি বন্ধ হয়ে যায়৷ তখন কোষগুলি ফেটে গিয়ে মরে যায়৷ রোগ আর ছড়িয়ে পড়তে পারে না৷

গবেষণাগারে এই অ্যান্টিবায়োটিক প্রভাব মাইক্রোস্কোপের নীচে ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করা যায়৷ ব্যাক্টিরিয়ার যে কোষ বেপরোয়াভাবে বিভাজন করে চলে, তাদের মাঝের অংশে একটা দাগ থাকে৷ সেখানেই পরে কোষের প্রাচীর তৈরি হয়৷ বন বিশ্ববিদ্যালয়ের আনা ম্যুলার বলেন, ‘‘টেইক্সোব্যাকটিন প্রয়োগ করলে কোষের বিভাজন বন্ধ হয়ে যায়৷ বিভাজনের একটা গোটা স্তর থাকে না বলে কোষের প্রাচীর তৈরি হতে পারে না৷''

গবেষণাগারের আধারে ও ইঁদুরের ক্ষেত্রে টেইক্সোব্যাকটিন এমনকি হাসপাতালের ভয়ংকর জীবাণু ও যক্ষ্মার প্যাথোজেনেরও মোকাবিলা করে৷ অ্যানথ্র্যাক্স বা বিভিন্ন আন্ত্রিক রোগের ক্ষেত্রেও এটি কাজ করে৷ টেইক্সোব্যাকটিন যেহেতু কোষের প্রাচীরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ প্রতিরোধ করে, সেহেতু ব্যাক্টিরিয়ার পক্ষে পালটা কৌশল গ্রহণ করা, অর্থাৎ রেজিস্টেন্ট হয়ে ওঠা কার্যত অসম্ভব৷ অধ্যাপক তানিয়া শ্নাইডার বলেন, ‘‘রেজিস্টেন্ট হতে হলে ব্যাক্টিরিয়ার প্রত্যেকটি উপকরণ একই সঙ্গে পরিবর্তন করতে হবে৷ সেটা প্রায় অসম্ভব বলা চলে৷''

টেইক্সোব্যাকটিন-এর নতুন কার্যপ্রক্রিয়া অ্যান্টিবায়োটিক সংক্রান্ত গবেষণার ক্ষেত্রে বিশাল এক সাফল্য৷ তবে মানুষের ক্ষেত্রে তার প্রভাব ও প্রতিক্রিয়ার প্রমাণ পাওয়ার জন্য আরও অপেক্ষা করতে হবে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক