1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

ব্যক্তিগত সম্পর্কের নতুন ঠিকানা ‘পাথ’

বন্ধুত্বের সংজ্ঞা নিয়ে প্রায়ই আলোচনা শোনা যায়৷ একজন মানুষের কতজন বন্ধু থাকতে পারে তা নিয়েও রয়েছে বিতর্ক৷ কেননা, বন্ধুত্ব এমন এক সম্পর্কের বন্ধন যা মুহূর্তেই গড়া সম্ভব নয়৷

default

কিন্তু বর্তমান ইন্টারনেট প্রজন্ম কি তা মানছে? মোটেই না, বরং ফেসবুকে মানুষের বন্ধুর অভাব নেই৷ একেক জনের বন্ধু তালিকায় শত শত মানুষের উপস্থিতি৷ এদের কেউ সহকর্মী, কেউ বাল্যবন্ধু, কেউবা কোন রকম পরিচিত আবার অনেকে থাকেন যাদের সঙ্গে আদৌ কোন পরিচয় নেই৷ তারপরও বন্ধু!

ক্লান্তিকর বন্ধুর তালিকা

এত বন্ধুর ভিড় অনেকের কাছে ক্লান্তিকরও মনে হয়৷ বিশেষ করে যখন কেউ মনের কথা ফেসবুকে লেখেন, তখন চিন্তায় পড়তে হয়, বন্ধুর তালিকায় থাকা সহকর্মীটি এটা দেখে কিছু মনে করবেনাতো৷ কিংবা কোন ছবিটা কাকে দেখানো যাবে কিংবা কাকে দেখানো যাবেনা- তা নিয়েও থাকে চিন্তা, ভালো করে বললে দুশ্চিন্তা৷ অনেকেতো এতো সব চিন্তা বাদ দিতে ফেসবুকের থেকেই বিদায় নিয়ে নেন৷ এবং পরে বলেন, ফেসবুক-বন্ধু বিনা বেশ ভালো আছি৷

গবেষকদের কথা

চলুন বিষয়টা নিয়ে গবেষকদের কাছে যাওয়া যাক৷ অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিব্যক্তিমূলক মনোবিদ্যার প্রফেসর রবিন ডানবার৷ তাঁর মতে, একজন মানুষের মস্তিস্ক সর্বোচ্চ ১৫০ টি সামাজিক সম্পর্কের কথা মনে রাখতে পারে৷ তবে, মানুষভেদে এই হিসেব খানিকটা কম-বেশি হতে পারে, কিন্তু গড়ে ১৫০ টি সম্পর্কের বেশি মনে রাখা সম্ভব নয়৷

ব্যক্তিগত সম্পর্ক

এতো গেলো সামাজিক সম্পর্ক, কিন্তু ব্যক্তিগত সম্পর্ক! ডানবার এক্ষেত্রে আরো রক্ষণশীল৷ তাঁর মতে, একজন মানুষের একান্ত ব্যক্তিগত সম্পর্ক তিনটির মধ্যে সীমিত৷ ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সংখ্যা ৫, আর একজন মানুষ নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে পারে ২০ জনের সঙ্গে৷ সবমিলিয়ে একজনের প্রকৃত সামাজিক বন্ধনের সীমা তাই পঞ্চাশের মধ্যেই সীমিত৷

Flash-Galerie Facebook Twitter Anleitung

ফেসবুকে একজন সাধারণ ব্যবহারকারীর বন্ধুর সংখ্যা গড়ে ১৩০

ফেসবুক বন্ধু

এবার ভাবুন, ফেসবুকের কথা৷ সংস্থাটির একজন ব্যবহারকারীর গড়ে বন্ধুর সংখ্যা ১৩০৷ যারা বিশেষ ব্যবহারকারী, যাদের বলে পাওয়ার ইউজার, তাদের বন্ধুর সংখ্যা গড়ে ১০০০৷ বাস্তবে কি এত বন্ধু থাকা আদৌ সম্ভব? নিজেকে এই প্রশ্নটি করুন৷ এরপর বন্ধুদের নাম মনে করার চেষ্টা করুন৷ কতজনের নাম মনে পড়লো?

যাহোক, ফেসবুক তাও বন্ধুর সীমা বেঁধে দিয়েছে ৫০০০ এর মধ্যে৷ কিন্তু টুইটার? এরা দাবি করে, বন্ধুর সংখ্যা সীমাহীন হতে পারে৷ তাই সংস্থাটির প্রকৃত লক্ষ্য হচ্ছে, যতো পারো বন্ধু বানাও৷ এসব বন্ধুকে চেনা না চেনা এক গুরুত্বহীন আলোচনা!

নতুন ঠিকানা ‘পাথ'

ফেসুবক-টুইটারের এমন বন্ধুত্বে বিশ্বাসীও নন অনেকে৷ তাদের জন্য, এক নতুন ঠিকানা ‘পাথ'৷ নতুন এই সামাজিক যোগাযোগ সংস্থাটি চালু হয়েছে গত সপ্তাহে৷ অক্সফোর্ড প্রেফেসর রবিন ডানবারের গবেষণাই মূলমন্ত্র এই সংস্থার৷ তাই সেখানে সর্বোচ্চ বন্ধু করা যাবে ৫০জনকে৷ তার বেশি, কোনভাবেই নয়৷ সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডেভ মরিন এই প্রসঙ্গে বলেন, ডিজিটাল বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে পাথ এক নতুন সূচনা করতে পারে৷ কেননা, আপনি বিশ্বাস করতে পারেন, এমন পঞ্চাশজনই জায়গা পাবে পাথ এর বন্ধু তালিকায়৷

ছবি কথা বলে

পাথ এর কর্মপন্থাও অন্যদের মতো নয়৷ এই সাইটটি মূলত ব্যবহার করা যাবে ছবি শেয়ারের জন্য৷ অর্থাৎ চলতি পথে যেকোন একটি ছবি তুলুন, সেটার সঙ্গে দু'লাইন বিবরণ লিখে ইন্টারনেটে ছেড়ে দিন৷

এক ক্লিকেই কাজ খতম

বলে বসবেন না, ছবি তোলার কাজটাতো সহজ নয়৷ তাছাড়া ক্যামেরায় ছবি তুলবো, তারপর ইন্টারনেটে ছাড়বো - বহু ঝক্কির কাজ৷ বিষয়টি মোটেই সেরকম নয়৷ হালের স্মার্টফোন কিংবা আইফোনে কিন্তু ছবি তোলা কোন ঝক্কির কাজ নয়৷ এসব মুঠোফোনে পাথ ঢুকিয়ে নিলেই হলো৷ এরপর এক ক্লিকেই কাজ খতম৷

পেছনের কথা

পাথ-এর পেছনে রয়েছে সিলিকন ভ্যালির বেশ কয়েকজন বড় বিনিয়োগকারী৷ বর্তমানের ইন্টারনেট দুনিয়ার বিশেষজ্ঞরাও মনে করছেন ছবি নির্ভর সামাজিক নেটওয়ার্ক থেকে ব্যাপক মুনাফা অর্জন সম্ভব৷ তাই, আপনি যদি মনে করে থাকেন পাথ একেবারেই অবাণিজ্যিক চিন্তা ভাবনার ফসল, সেটা ঠিক নয়৷

শুরুতে পাথ ব্যবহার করতে গিয়ে খানিকটা বিপাকেও পড়ছেন অনেকে৷ এই যেমন, ১৪ই নভেম্বর মানে শুরুর দিনই এক ব্যবহারকারীর মন্তব্য, আমি এখানে কি করবো জানিনা৷ তার সেই মন্তব্যে সায় দিয়েছেন আরো ২০ জন৷ তবে, এই সপ্তাহে এসে পাথের ঘর বড় হতে শুরু করেছে৷ ব্যবহারকারী ছাড়িয়েছে হাজারের সংখ্যা৷ তাই আপনিও ঘুরে আসতে পারেন, নতুন এই দুনিয়া থেকে৷ ঠিকানা পাথ ডটকম৷

প্রতিবেদন: আরাফাতুল ইসলাম

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক

সংশ্লিষ্ট বিষয়