ব্যক্তিগত সম্পর্কের নতুন ঠিকানা ‘পাথ’ | বিজ্ঞান পরিবেশ | DW | 23.11.2010
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

ব্যক্তিগত সম্পর্কের নতুন ঠিকানা ‘পাথ’

বন্ধুত্বের সংজ্ঞা নিয়ে প্রায়ই আলোচনা শোনা যায়৷ একজন মানুষের কতজন বন্ধু থাকতে পারে তা নিয়েও রয়েছে বিতর্ক৷ কেননা, বন্ধুত্ব এমন এক সম্পর্কের বন্ধন যা মুহূর্তেই গড়া সম্ভব নয়৷

default

কিন্তু বর্তমান ইন্টারনেট প্রজন্ম কি তা মানছে? মোটেই না, বরং ফেসবুকে মানুষের বন্ধুর অভাব নেই৷ একেক জনের বন্ধু তালিকায় শত শত মানুষের উপস্থিতি৷ এদের কেউ সহকর্মী, কেউ বাল্যবন্ধু, কেউবা কোন রকম পরিচিত আবার অনেকে থাকেন যাদের সঙ্গে আদৌ কোন পরিচয় নেই৷ তারপরও বন্ধু!

ক্লান্তিকর বন্ধুর তালিকা

এত বন্ধুর ভিড় অনেকের কাছে ক্লান্তিকরও মনে হয়৷ বিশেষ করে যখন কেউ মনের কথা ফেসবুকে লেখেন, তখন চিন্তায় পড়তে হয়, বন্ধুর তালিকায় থাকা সহকর্মীটি এটা দেখে কিছু মনে করবেনাতো৷ কিংবা কোন ছবিটা কাকে দেখানো যাবে কিংবা কাকে দেখানো যাবেনা- তা নিয়েও থাকে চিন্তা, ভালো করে বললে দুশ্চিন্তা৷ অনেকেতো এতো সব চিন্তা বাদ দিতে ফেসবুকের থেকেই বিদায় নিয়ে নেন৷ এবং পরে বলেন, ফেসবুক-বন্ধু বিনা বেশ ভালো আছি৷

গবেষকদের কথা

চলুন বিষয়টা নিয়ে গবেষকদের কাছে যাওয়া যাক৷ অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিব্যক্তিমূলক মনোবিদ্যার প্রফেসর রবিন ডানবার৷ তাঁর মতে, একজন মানুষের মস্তিস্ক সর্বোচ্চ ১৫০ টি সামাজিক সম্পর্কের কথা মনে রাখতে পারে৷ তবে, মানুষভেদে এই হিসেব খানিকটা কম-বেশি হতে পারে, কিন্তু গড়ে ১৫০ টি সম্পর্কের বেশি মনে রাখা সম্ভব নয়৷

ব্যক্তিগত সম্পর্ক

এতো গেলো সামাজিক সম্পর্ক, কিন্তু ব্যক্তিগত সম্পর্ক! ডানবার এক্ষেত্রে আরো রক্ষণশীল৷ তাঁর মতে, একজন মানুষের একান্ত ব্যক্তিগত সম্পর্ক তিনটির মধ্যে সীমিত৷ ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সংখ্যা ৫, আর একজন মানুষ নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে পারে ২০ জনের সঙ্গে৷ সবমিলিয়ে একজনের প্রকৃত সামাজিক বন্ধনের সীমা তাই পঞ্চাশের মধ্যেই সীমিত৷

Flash-Galerie Facebook Twitter Anleitung

ফেসবুকে একজন সাধারণ ব্যবহারকারীর বন্ধুর সংখ্যা গড়ে ১৩০

ফেসবুক বন্ধু

এবার ভাবুন, ফেসবুকের কথা৷ সংস্থাটির একজন ব্যবহারকারীর গড়ে বন্ধুর সংখ্যা ১৩০৷ যারা বিশেষ ব্যবহারকারী, যাদের বলে পাওয়ার ইউজার, তাদের বন্ধুর সংখ্যা গড়ে ১০০০৷ বাস্তবে কি এত বন্ধু থাকা আদৌ সম্ভব? নিজেকে এই প্রশ্নটি করুন৷ এরপর বন্ধুদের নাম মনে করার চেষ্টা করুন৷ কতজনের নাম মনে পড়লো?

যাহোক, ফেসবুক তাও বন্ধুর সীমা বেঁধে দিয়েছে ৫০০০ এর মধ্যে৷ কিন্তু টুইটার? এরা দাবি করে, বন্ধুর সংখ্যা সীমাহীন হতে পারে৷ তাই সংস্থাটির প্রকৃত লক্ষ্য হচ্ছে, যতো পারো বন্ধু বানাও৷ এসব বন্ধুকে চেনা না চেনা এক গুরুত্বহীন আলোচনা!

নতুন ঠিকানা ‘পাথ'

ফেসুবক-টুইটারের এমন বন্ধুত্বে বিশ্বাসীও নন অনেকে৷ তাদের জন্য, এক নতুন ঠিকানা ‘পাথ'৷ নতুন এই সামাজিক যোগাযোগ সংস্থাটি চালু হয়েছে গত সপ্তাহে৷ অক্সফোর্ড প্রেফেসর রবিন ডানবারের গবেষণাই মূলমন্ত্র এই সংস্থার৷ তাই সেখানে সর্বোচ্চ বন্ধু করা যাবে ৫০জনকে৷ তার বেশি, কোনভাবেই নয়৷ সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডেভ মরিন এই প্রসঙ্গে বলেন, ডিজিটাল বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে পাথ এক নতুন সূচনা করতে পারে৷ কেননা, আপনি বিশ্বাস করতে পারেন, এমন পঞ্চাশজনই জায়গা পাবে পাথ এর বন্ধু তালিকায়৷

ছবি কথা বলে

পাথ এর কর্মপন্থাও অন্যদের মতো নয়৷ এই সাইটটি মূলত ব্যবহার করা যাবে ছবি শেয়ারের জন্য৷ অর্থাৎ চলতি পথে যেকোন একটি ছবি তুলুন, সেটার সঙ্গে দু'লাইন বিবরণ লিখে ইন্টারনেটে ছেড়ে দিন৷

এক ক্লিকেই কাজ খতম

বলে বসবেন না, ছবি তোলার কাজটাতো সহজ নয়৷ তাছাড়া ক্যামেরায় ছবি তুলবো, তারপর ইন্টারনেটে ছাড়বো - বহু ঝক্কির কাজ৷ বিষয়টি মোটেই সেরকম নয়৷ হালের স্মার্টফোন কিংবা আইফোনে কিন্তু ছবি তোলা কোন ঝক্কির কাজ নয়৷ এসব মুঠোফোনে পাথ ঢুকিয়ে নিলেই হলো৷ এরপর এক ক্লিকেই কাজ খতম৷

পেছনের কথা

পাথ-এর পেছনে রয়েছে সিলিকন ভ্যালির বেশ কয়েকজন বড় বিনিয়োগকারী৷ বর্তমানের ইন্টারনেট দুনিয়ার বিশেষজ্ঞরাও মনে করছেন ছবি নির্ভর সামাজিক নেটওয়ার্ক থেকে ব্যাপক মুনাফা অর্জন সম্ভব৷ তাই, আপনি যদি মনে করে থাকেন পাথ একেবারেই অবাণিজ্যিক চিন্তা ভাবনার ফসল, সেটা ঠিক নয়৷

শুরুতে পাথ ব্যবহার করতে গিয়ে খানিকটা বিপাকেও পড়ছেন অনেকে৷ এই যেমন, ১৪ই নভেম্বর মানে শুরুর দিনই এক ব্যবহারকারীর মন্তব্য, আমি এখানে কি করবো জানিনা৷ তার সেই মন্তব্যে সায় দিয়েছেন আরো ২০ জন৷ তবে, এই সপ্তাহে এসে পাথের ঘর বড় হতে শুরু করেছে৷ ব্যবহারকারী ছাড়িয়েছে হাজারের সংখ্যা৷ তাই আপনিও ঘুরে আসতে পারেন, নতুন এই দুনিয়া থেকে৷ ঠিকানা পাথ ডটকম৷

প্রতিবেদন: আরাফাতুল ইসলাম

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক