1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

বোকো হারামের জঘন্যতম হত্যাকাণ্ড

পশ্চিমি বার্তাসংস্থাগুলি প্যারিসে শার্লি এব্দো-র কার্যালয়ে সন্ত্রাসী আক্রমণ নিয়ে এতোই ব্যস্ত ছিল যে, নাইজেরিয়ায় বোকো হারাম সন্ত্রাস গোষ্ঠীর হত্যালীলা প্রায় সকলের নজর এড়িয়ে গেছে বলে গ্রেহেম লুকাস-এর মনে হয়েছে৷

সংবাদ বাছাইয়ের একটি চিরন্তন নীতি হল, ঘটনা টাটকা হতে হবে৷ দ্বিতীয়ত, তা কাছে ঘটছে, না দূরে; এবং পাঠকদের কাছে তার গুরুত্ব কতোটা৷ একটি ব্যঙ্গ-পত্রিকার উপর এতো বড় সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি৷ ঘটনাটা ঘটে ইউরোপে, এবং তার গুরুত্ব ছিল এই কারণে যে, যা আক্রান্ত হয়, তা আমাদের কাছে অতীব মূল্যবান: মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা৷ সেই কারণে শার্লি এব্দো হত্যাকাণ্ডের কাহিনি সব অন্য খবরকে ছাড়িয়ে সংবাদ জুড়ে থেকেছে৷ কাজেই ইউরোপীয়রা শার্লি এব্দো আক্রমণের প্রায় একই সময়ে সুদূর নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বের দু'টি শহরে বোকো হারামের ব্যাপক হত্যাকাণ্ড ও ধ্বংসলীলার কথা শুনলেও, সেদিকে মনোযোগ দিতে পারেনি৷

Boko Haram Kämpfer

বোকো হারাম

অথচ বাগা এবং ডোরন বাগা, এই দু'টি শহর ও তার আশপাশের ১৬টি গ্রাম মিলিয়ে মোট দু'হাজার মানুষের নিহত হবার কথাও শোনা গেছে৷ অপরদিকে নাইজেরীয় সেনাবাহিনী বলছে শ'দেড়েক মানুষের নিহত হওয়ার কথা৷ অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল মানবাধিকার সংস্থা এবার যে স্যাটেলাইট থেকে তোলা ছবি প্রকাশ করেছে, তা থেকে দেখা যাচ্ছে, প্রায় চার হাজার ঘরবাড়ি মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে৷ প্রত্যক্ষদর্শীরা ‘যুদ্ধক্ষেত্রের' সর্বত্র লাশ পড়ে থাকার বিবরণ দিয়েছেন৷

পশ্চিমি সংবাদমাধ্যম নিয়মিতভাবে বোকো হারাম, উত্তর-পূর্ব নাইজেরিয়ায় তার একটি শরিয়া রাজ্য প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা এবং বিভিন্ন নৃশংসতার খবর দিয়ে আসছে৷ বোকো হারাম দু'শোর বেশি কিশোরীকে অপহরণ করার পর সারা বিশ্বে সোশ্যাল মিডিয়া এবং অপরাপর অনুষ্ঠানে ‘‘ব্রিং ব্যাক আওয়ার গার্লস'' অভিযান চলে, সেই সঙ্গে ছিল নাইজেরীয় কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তার সমালোচনা৷ কিন্তু পশ্চিমি সরকারবর্গ দৃশ্যত সংশ্লিষ্ট হতে চাননি৷ বাগা ও ডোরন বাগা-য় শত শত মানুষের নির্মম হত্যাকাণ্ড এবার বিশ্বকে সচেতন করে তুলবে, বলে আশা করা যায়৷ বোকো হারাম নিজে থেকেই অন্তর্হিত হবে, বলে নাইজেরীয় সরকার আর আশা করতে পারেন না – বিশেষ করে বোকো হারাম যখন পাশের কয়েকটি দেশেও সক্রিয়৷

Nigeria Frauen erzählen vor ihre Gefangenschaft bei Boko Haram

বোকো হারামের হাত থেকে ছাড়া পাওয়া কিশোরী

পশ্চিমে আমাদের মনে রাখতে হবে, আমরা ইরাক, আফগানিস্তান, লিবিয়া ইত্যাদি দেশে সক্রিয় হবার জন্য সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন মানবিকতা সংক্রান্ত যুক্তি দেখিয়েছি৷ প্যারিসের ঘটনার পর আমাদের মতো পশ্চিমি সাংবাদিকদের বোকো হারাম সংক্রান্ত খবরাখবরকে পুনরায় সংবাদসূচির শীর্ষে রাখা উচিত৷ যারা ইসলামের বিকারগ্রস্ত ব্যাখ্যা মেনে নিতে রাজি নয়, এই ইসলামি উগ্রপন্থিরা তাদের সকলকে হত্যা করতে প্রস্তুত৷ অপরদিকে আমাদের মনে রাখা উচিত যে, প্যারিসের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর বিশ্বব্যাপী মুসলিমদের এক সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ সহিংসতার নিন্দা করেছেন এবং যে কোনো পরিস্থিতিতে সহিংসতা বর্জন করেছেন৷ আমাদের আজ যা প্রয়োজন, তা হল মানবতার নামে আন্তর্জাতিক অভিযান৷

সংবাদভাষ্য: গ্রেহেম লুকাস/এসি
সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন

নির্বাচিত প্রতিবেদন