1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

‘বৈরুতের ঘটনায় কতজন প্রোফাইল পরিবর্তন করতেন?'

প্যারিসে হামলা নিয়ে ফেসবুক আর টুইটারে অনেকে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন৷ বাংলাদেশের ফেসবুক ব্যবহারকারীরা তাঁদের প্রোফাইল ছবি হিসেবে ফ্রান্সের পতাকা ব্যবহার করে প্যারিসবাসীর প্রতি সমবেদনাও জানাচ্ছেন৷

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম টুইট করে হামলায় নিহত ও তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন৷

আনিকা লিখেছেন, তিনি মনে করতেন বাংলাদেশ নিরাপদ নয়৷ কিন্তু এখন দেখছেন বিশ্বের কোথাও শান্তি নেই৷

বাংলাদেশও কি প্যারিসের মতো জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট বা আইএস-এর হামলার শিকার হতে পারে কিনা, সে বিষয়ে টুইটারে চলছে একটি জরিপ৷

এদিকে, প্রতিক্রিয়া দেখানোর ক্ষেত্রে বিভেদ নিয়েও চলছে আলোচনা৷ যেমন প্যারিসের ঘটনায় ফেসবুক ‘সেফটি চেক' অপশন চালু করলেও বৈরুতে একই রকম হামলা হলেও এই সেবা চালু না করায় ফেসবুকের সমালোচনা করেন অনেকে৷ পরবর্তীতে অবশ্য এর উত্তর দিয়েছেন ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক সাকারবার্গ৷ তিনি বলেন, যাঁরা এ ব্যাপারে প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন তাঁরা ঠিকই করেছেন৷ এখন থেকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ (যেটা এতদিন করা হত বলে জানান সাকারবার্গ) ছাড়াও মানবসৃষ্ট দুর্যোগের ক্ষেত্রেও এই অপশন চালু করা হবে জানান তিনি৷

সেফটি চেক ছাড়াও প্রোফাইল ছবিতে ফ্রান্সের পতাকা জুড়ে দেয়ার অপশন দিয়েছে ফেসবুক৷ এ বিষয়েও সমালোচনা চলছে৷ তবে বৈরুতের ক্ষেত্রে ফেসবুক এই অপশন চালু করলেও বাংলাদেশের কতজন মানুষ সেটা করতেন তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নাজমুল ইসলাম৷ কয়েকটি উদাহরণ ও পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘‘সভ্যতার মাপকাঠিতে প্যারিস বৈরুতের হাঁটুর সমান বয়সি হলেও আমাদের চোখে প্যারিস অনন্যা, প্যারিস রমনীয়, প্যারিস রোমান্টিক, শিল্প সাহিত্যের অধিষ্ঠাত্রী দেবী৷ সেই তুলনায় বৈরুত বা সিরিয়ার চাকচিক্য কোথায়?''

তবে শুধু প্রোফাইল ছবি পরিবর্তন করে যে কেউ মানবতবাদী হতে পারে, সেটা তিনি মনে করেন না৷

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ‘মতামত-বিশ্লেষণ' বিভাগে কলামিস্ট চিররঞ্জন সরকারের একটি লেখা প্রকাশিত হয়েছে৷ তিনি লিখেছেন, ‘‘মৌলবাদ নিয়ে অনেকেই খেলতে পছন্দ করেন৷ কিন্তু কাল সাপ কারও পোষ মানে না৷ তালেবানদের এক সময় সিআইএ ও পেন্টাগন সাহায্য-সহযোগিতা ও অস্ত্র-প্রশিক্ষণ দিয়ে গড়ে তুলেছিল৷ সেই তালেবানরা একসময় ঠিকই আমেরিকার ওপর মরণ-কামড় বসিয়েছে৷ একইভাবে আইএস জঙ্গিদেরও অ্যামেরিকাসহ কোনো কোনো পশ্চিমি দেশ মদদ ও সমর্থন দিয়ে বর্তমান পর্যায়ে নিয়ে এসেছে৷ কিন্তু এরা যে গোটা বিশ্বের জন্যই হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে, সংশ্লিষ্টরা তা ভেবে দেখছেন বলে মনে হয় না৷ কাজেই মৌলবাদীদের ব্যাপারে ‘জিরো টলারেন্স' নীতি ঘোষণা ও কার্যকর করতে হবে অস্তিত্বের স্বার্থেই, তা না হলে সবাইকেই মূল্য দিতে হবে৷''

কাইমুল হক ফেসবুকে লিখেছেন, ‘‘...মানসিক অসুখে আক্রান্ত একুশ শতকের বুদ্ধিবৃত্তিক মানুষ৷ এই পরিস্থিতিতে বিশ্বনেতাদের সুস্থ উপলব্ধি এবং বিশ্ব রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন ছাড়া আর পথ নেই৷''

প্যারিসে হামলার ঘটনায় ডয়চে ভেলে বাংলার ফেসবুক বন্ধুরাও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন৷ সেলিম জামান এই ঘটনায় তীব্র শোক প্রকাশ করেছেন৷ রোকন উজ্জামানও দুঃখ প্রকাশ করেছেন৷ অপ্রিয় সত্য দা লিখেছেন, তিনি সন্ত্রাসবাদ ঘৃণা করেন৷ সৈয়দ শাখাওয়াত হোসেই মিশু লিখেছেন, ‘‘আমি চাই এমন ঘটনা বিশ্বে আর দ্বিতীয়বার না হোক৷''

তবে মিনহাজ উদ্দিনের কাছে হামলার ঘটনাটি সাজানো নাটক বলে মনে হয়েছে৷ এইচএম বেলাল উদ্দীন লিখেছেন, ‘‘অতীত বিবেচনা করে দেখেন এই সন্ত্রাসী তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্র৷ প্রথমে ওদের বিচার করে বিভিন্ন দেশের আক্রমণ বন্ধ করলে এর একটা সমাধান হবে, বিশ্বে এমনিতেই শান্তি ফিরে আসবে৷'' শিশির হোসেন মনে করছেন, সব অ্যামেরিকার চাল৷

সংকলন: জাহিদুল হক

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়