1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি

বেসরকারি অনুদান যেভাবে নির্বাচনকে প্রভাবিত করে

জার্মান শিল্পসংস্থাগুলির প্রদত্ত অনুদানের প্রায় সবটাই পেয়ে থাকে আঙ্গেলা ম্যার্কেলের সিডিইউ দল ও খোলাবাজারের অর্থনীতির সমর্থক এফডিপি দল, বলে জার্মান সংসদের সর্বাধুনিক পরিসংখ্যানে প্রকাশ৷

খ্রিষ্টীয় গণতন্ত্রী দল (সিডিইউ) ও মুক্ত গণতন্ত্রী দল (এফডিপি) আজও জার্মানির বিগ বিজনেস ও বিত্তশালী দাতাদের পছন্দের রাজনৈতিক দল – ও সম্ভবত পছন্দের সরকারি জোট, জার্মান সংসদের প্রকাশিত তালিকা থেকে যা দেখা যাচ্ছে৷

এ বছর প্রায় সব মোটা অঙ্কের অনুদান গেছে হয় আঙ্গেলা ম্যার্কেলের দল, অথবা খোলাবাজারের পক্ষপাতী ও সরকারি নিয়ন্ত্রণের বিরোধী এফডিপি দলের কাছে৷ মুক্ত গণতন্ত্রী, অর্থাৎ উদারপন্থিদের ২০১৩ সাল যাবৎ সংসদে কোনো আসন নেই, যদিও এবার তারা ৯ শতাংশ ভোট পাবার আশা করতে পারে, বলে জরিপে দেখা যাচ্ছে৷ ‘‘দৃশ্যত বিত্তশালী দাতা ও শিল্পবাণিজ্যের কর্ণধাররা এফডিপি দলের সংসদ ও সরকারে প্রত্যাবর্তন কামনা করেন'', বলে জার্মানির ‘লবি-কন্ট্রোল' ওয়াচডগ সংস্থার সেবাস্টিয়ান মায়ার-এর অভিমত৷

সংসদীয় নির্বাচনের আর মাত্র আট সপ্তাহ বাকি৷ পয়লা আগস্টের পরিসংখ্যান বলছে, এ বছর সিডিইউ দল বড় স্পন্সরদের কাছ থেকে দান হিসেবে পেয়েছে ১৯ লাখ ইউরো; এফডিপি দল পেয়েছে ১৫ লাখ ইউরো৷ জার্মান আইন অনুযায়ী কোনো রাজনৈতিক দল ৫০,০০০ ইউরোর বেশি কোনো দান পেলে, তা সংসদকে জানাতে বাধ্য৷ অতঃপর সংসদের ওয়েবসাইটে সেই তথ্য প্রকাশ করা হয়ে থাকে৷

অর্থানুকুল্য

এবারকার তালিকায় বেশ কয়েকটি বড় জার্মান কোম্পানির নাম দেখা যাচ্ছে, এবং তাদের অনেকেই একাধিক দলকে অনুদান দিয়ে থাকে৷ সিক্স্ট কার রেন্টাল সার্ভিস এফডিপি দলকে ৫৫,০০০ ইউরো দিয়েছে৷ নর্থরাইন ওয়েস্টফেলিয়া রাজ্যের শিল্প ও ইলেকট্রিক্যাল কোম্পানিগুলির সমিতি মেটাল এনআরডাব্লিউ এফডিপি দলকে দিয়েছে ৯০,০০০ ইউরো ও সিডিইউ দলকে দিয়েছে ১,১০,০০০ ইউরো৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

গাড়ির কোম্পানিগুলি যে রাজনৈতিক দলগুলির প্রতি অনুদানের ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকবে না, তাতে আশ্চর্য হবার কিছু নেই৷ মার্সিডিজ গাড়ি নির্মাতা ডাইমলার কোম্পানি সিডিইউ ও সামাজিক গণতন্ত্রী এসপিডি দল, উভয়কেই ১,০০,০০০ ইউরো করে দিয়েছে – যা কিনা এসপিডি দলের খাতায় একমাত্র বড় ডোনেশান৷ বিএমডাব্লিউ গাড়ি কোম্পানির পরিচালকমণ্ডলীর স্টেফান কোয়ান্ড, যিনি ব্যক্তিগতভাবে বিলিনেয়ার পর্যায়ে গণ্য, তিনি সিডিইউ ও এফডিপি দলের প্রত্যেককে দিয়েছেন ৫০,০০১ ইউরো করে৷

বৃহত্তম একক অনুদানটি গেছে সিডিইউ দলের কাছে: গত মে মাসে ব্যবসায়ী রাল্ফ ডমারমুট সিডিইউ দলকে পাঁচ লাখ ইউরো প্রদান করেন৷ ডমারমুট হলেন জার্মান বহুজাতিক ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা ইউনাইটেড ইন্টারনেটের সিইও৷

‘‘স্বভাবতই দাতারা কোনো গোপন অভিসন্ধি ছাড়া এই অর্থ দান করেন না, কিন্তু তারা কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দাবিদাওয়া রাখতে পারেন না – কেননা সেটা বেআইনি হবে'', বলেছেন মায়ার৷ তবে দাতারা রাজনীতিকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে ও পারলে নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করতে ভালোবাসেন৷ সেক্ষেত্রে তাদের পছন্দের ও অপছন্দের দল রয়েছে – বলেন মায়ার৷ দানের ক্ষেত্রে আবার চমকও থাকে, যদিও তা হয়তো শুধু আপাতদৃষ্টিতে, নয়ত ম্যার্কেলের সহযোগী দল সিএসইউ দল যে এই নির্বাচনের বছরে কেন ৫০,০০০ ইউরোর বেশি একটিও অনুদান পায়নি, তা ব্যাখ্যা করা শক্ত – অপরদিকে বামদলের ক্ষেত্রে তা ব্যাখ্যা করা অনুরূপভাবে সহজ৷ ব্যতিক্রমও ঘটে: যেমন সবুজ দল কোনো কোটিপতি ব্যবসায়ীর কাছ থেকে তাদের একমাত্র এক লাখ ইউরোর অনুদানটি পেয়েছে৷

Deutschland Christian Lindner und Armin Laschet

জার্মান সরকার রাজনৈতিক দলগুলির প্রচারকার্যের জন্য প্রতিবছর প্রায় ১৩ কোটি ৩০ লক্ষ ইউরো বরাদ্দ করে

ফাঁক ও ফাঁকি

সংসদ বড় বড় অনুদানের তালিকা প্রকাশ করছে বলেই যে পরিপূর্ণ স্বচ্ছতা বিরাজ করছে, লবি-কন্ট্রোল তা ভাবে না৷ ২০১৫ সালের একটি বেসরকারি জরিপ অনুযায়ী ৭৮ শতাংশ জার্মান একটি লবি রেজিস্টার দেখতে চান, যেখানে লেখা থাকবে, কে বা কোন লবিইস্টরা কিভাবে সরকারি সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন বা করেছেন৷ যেমন অনুদানের ক্ষেত্রে বড় অনুদানকে ছোট ছোট পরিমাণে ভাগ করে বেনামিতে প্রদান করার সুযোগ ও সম্ভাবনা থেকে যাচ্ছে৷ কাজেই মায়ার চান ৫০,০০০ ইউরোর বেশি অনুদানের তালিকা প্রকাশ না করে, অনুদানের পরিমাণ ৫০,০০০ ইউরোতে সীমিত করা হোক৷

বলে রাখা দরকার, জার্মানিতে রাজনৈতিক দলগুলির নির্বাচনি প্রচারণার জন্য কোনো আলাদা তহবিল নেই৷ দ্বিতীয়ত, জার্মান সরকার রাজনৈতিক দলগুলির প্রচারকার্যের জন্য প্রতিবছর প্রায় ১৩ কোটি ৩০ লক্ষ ইউরো বরাদ্দ করে রাখেন, দলগুলি তাদের প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে যে অর্থ পেয়ে থাকে৷ এছাড়া রয়েছে দলীয় সদস্যদের চাঁদা৷ কাজেই জার্মান রাজনৈতিক দলগুলি তাদের নির্বাচনি প্রচারের জন্য অনুদান নির্ভর নয় এবং সে নির্বাচনি প্রচারের খরচও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো আকাশছোঁয়া নয়৷

বেন নাইট/এসি

আসন্ন জার্মান নির্বাচন নিয়ে আপনার আগ্রহ কতটা? কোন বিষয়ে আপনি জানতে চান? লিখুন নীচে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়