1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

বেশিদিন বাঁচতে হলে, কী খাচ্ছেন, সেদিকে নজর দিন

এজিং, মানে বয়োবৃদ্ধি পশ্চিমা জগতে একটা জনসংখ্যাগত সমস্যা হয়ে উঠতে চলেছে৷ তাই গবেষণা চলেছে, মানুষের আয়ু কী করে বাড়ানো যায়৷ ‘ইনসুলিন সিগনালিং পাথওয়ে’ তার একটা উত্তর হতে পারে৷

আলৎসহাইমার: চিকিৎসাবিদ্যায় আজও এ রোগের কোনো নিরাময় নেই৷ ক্যানসার কিংবা হৃদরোগের মতো আলৎসহাইমার-ও সাধারণত দেখা দেয় বার্ধক্যের সীমানায় এসে৷ এটি একটি নিউরো-ডিজেনারেটিভ অসুখ, অর্থাৎ স্নায়ু প্রণালীর অবনতি থেকেই এই অসুখের উৎপত্তি৷

মাক্স প্লাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর দ্য বায়োলজি অফ এজিং, অর্থাৎ বয়োবৃদ্ধির জীববিজ্ঞান সংক্রান্ত মাক্স প্লাঙ্ক ইনস্টিটিউটের গবেষকরা বয়স বাড়ার জটিল প্রক্রিয়াটি বোঝার চেষ্টা করছেন৷ আঁচল শ্রীবাস্তব সেই গবেষকদের একজন৷ বয়োবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শরীরে কী ঘটে, তা বোঝালেন তিনি৷ তাঁর মতে, ‘‘বয়সের সঙ্গে সঙ্গে আমদের শরীরের কোষগুলো খারাপ হতে থাকে৷ আমাদের বিপাক প্রক্রিয়া আর ততটা কার্যকরী থাকে না এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতাও কমতে থাকে৷ শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলির অভ্যন্তরীণ আন্তঃ-কোষ যোগাযোগ ব্যবস্থাও তার কার্যকারিতা হারাতে থাকে৷ এ সব আমাদের শরীরকে দুর্বল করে দেয় এবং শেষমেষ মৃত্যু ঘটে৷ এই গোটা প্রক্রিয়াটাই হলো এজিং বা বায়োবৃদ্ধি৷''

মাছিদের বার্ধক্য-গত সমস্যা

আঁচল শ্রীবাস্তবের সহকর্মী চিরাগ জৈন ইঁদুর আর ড্রসোফিলা, অর্থাৎ ফ্রুট ফ্লাই বা ফলের মাছি নিয়ে গবেষণা করছেন৷ এই ফলের মাছিদের আয়ু হলো ৬০ থেকে ৮০ দিন৷ মাছিগুলোর ওপর দিকে ওঠার একটা স্বাভাবিক প্রবণতা আছে: তারা ওপর দিকে ওঠা বন্ধ করার অর্থ, বয়োবৃদ্ধির ফলে তারা মন্থর হয়ে পড়ছে৷ চিরাগ বোঝালেন, ‘‘এর অর্থ এই হতে পারে যে, মাছিদের বার্ধক্যগত সমস্যা হচ্ছে৷ ওপরে ওঠার জন্য পেশির শক্তি দরকার; কাজেই মাছিরা যদি তা না করতে পারে, তাহলে তাদের পেশিগুলো ইতিমধ্যেই দুর্বল হতে শুরু করেছে, বলে ধরে নিতে হবে৷''

ইনসুলিন সিগনালিং পাথওয়ে

তবে এটা বন্ধ করা সম্ভব৷ বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন যে, তথাকথিত ইনসুলিন সিগনালিং কেঁচো ও মশামাছি ছাড়া স্তন্যপায়ী জীবদেরও আয়ু বৃদ্ধি করতে পারে৷ মাক্স প্লাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর দ্য বায়োলজি অফ এজিং-এর আরেক গবেষক বর্ণেশ টিক্কু বলেন, ‘‘আমরা নানা ধরনের অরগ্যানিজম নিয়ে পরীক্ষা করে প্রায় সব প্রজাতিতেই কিছু জিন এবং কিছু ইনসুলিন পাথওয়ে পেয়েছি৷

ইনসুলিন সিগনালিং পাথওয়ে হলো তার একটি আদর্শ দৃষ্টান্ত৷ কেঁচো এবং স্তন্যপায়ী জীবদের মধ্যে এই পাথওয়ে থাকে৷ আমরা প্রতিটি প্রণালী পর্যবেক্ষণ করে একই প্রমাণ পেয়েছি: এটা সত্যিই আয়ু নির্ধারণ করে থাকে৷''

স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন

কিন্তু মানুষের বয়োবৃদ্ধি? সেক্ষেত্রে এই মুহূর্তে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না, তবে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করতে হবে – এটুকু বলা যায়৷ মাক্স প্লাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর দ্য বায়োলজি অফ এজিং-এর সিনিয়ার রিসার্চার ড. সেবাস্টিয়ান গ্র্যোনকে বলেন, ‘‘শরীরচর্চার ভূমিকা নিয়ে কিছু কিছু গবেষণা হয়েছে, কিন্তু সেগুলো আয়ু বৃদ্ধি কিংবা হ্রাসের সঙ্গে বিশেষ যুক্ত নয়৷ অবশ্যই শরীরচর্চার ফলে আমাদের স্বাস্থ্য উপকৃত হয়, কিন্তু ল্যাবোরেটরির পরিবেশে জীবের আয়ু বাড়াতে গেলে পুষ্টিগত সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার করে অনেক ভালো ফল পাওয়া যায়৷ কাজেই আমি বলব: খাবারদাবারের প্রভাব সম্ভবত শরীরচর্চার চেয়ে বেশি৷ তবে স্বভাবতই শ্রেষ্ঠ সমাধান হলো ভালো খাদ্য ও শরীরচর্চার মধ্যে একটা ভারসাম্য রাখা৷''

পুষ্টিকর খাদ্যের সঙ্গে কিছুক্ষণ ব্যায়াম কিংবা দৌড়ঝাঁপ করলে শরীর সুস্থ ও সজীব থাকে, সেটা কিন্তু গবেষণা না করেই বলা যায়৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক