1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

বেলজিয়াম কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ইউরোপের দুশ্চিন্তার কারণ

বেলজিয়ামের কর্তৃপক্ষ কয়েক দিনের জন্য ব্রাসেলস শহর অচল করে দিয়েছিল৷ কিন্তু তাতে এখনো পর্যন্ত কোনো ফল পাওয়া নি৷ মাক্স হোফমান মনে করেন, সে দেশের কর্তৃপক্ষের যোগ্যতার অভাব সীমাহীন৷

default

অভিযান চলাকালীন ব্রাসেলস শহরের পথ প্রায় খালি ছিল

বেলজিয়ামের কর্তৃপক্ষের উপর ভরসা করাই বিস্ময়কর ঘটনা৷ ব্রাসেলস শহরের মোলেনবেক এলাকা উগ্র ইসলামপন্থিদের দুর্গ হিসেবে গোটা ইউরোপে পরিচিত হয়ে ওঠার আগেই বেলজিয়ামের পুলিশের যোগ্যতার অভাব ও খামখেয়ালি মনোভাবের কথা সবার জানা ছিল৷ সবাই মনে মনে এই অবস্থার পরিবর্তন চেয়েছিল৷ রাজধানীবাসীরা তাদের অসীম ধৈর্যের জন্য পরিচিত৷ মনে সন্দেহ দেখা দিলেও তাঁরা পুলিশের প্রতি অন্তত আংশিক আস্থা দেখান৷

রবিবার রাতে তাঁরা পুলিশের আহ্বানে নিরাপত্তা বাহিনীর বিশাল অভিযান সম্পর্কে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উচ্চবাচ্য করেননি৷ ইউরোপীয় রাজধানী হিসেবে পরিচিত এই শহরের বিভিন্ন অংশে যখন সাইরেন ও কাঁদানে গ্যাসের শব্দ শোনা যাচ্ছিল, তখন টুইটারে ‘ব্রাসেলসলকডাউন’ হ্যাশট্যাগের মাধ্যমেও বিশেষ কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি৷ শুধু কিছু বিড়ালের ছবি চালাচালি হয়েছে৷ এটাই সেখানকার মানুষের হাস্যরসের পরিচয়৷



এত বড় কর্মকাণ্ডের ফলাফল কী? এখনো পর্যন্ত এর কোনো সদুত্তর পাওয়া যা নি৷ গত কয়েক সপ্তাহের মতো অসংখ্য মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে৷ তাদের মধ্যে বেশিরভাগ মানুষকে সম্ভবত মুক্তি দেওয়া হয়েছে৷ যাকে আটক করতে পারলে এত বড় কর্মযজ্ঞ সার্থক হতে পারতো, প্যারিস হামলার সম্ভাব্য হোতা সেই সালাহ আবদেসালাম এখনো পলাতক৷

১৩ই নভেম্বরের পর তাকে নাকি মোলেনবেক এলাকায় দেখা গিয়েছিল৷ লিয়েজ শহর এবং জার্মানির দিকে এক হাইওয়েতেও তাকে দেখা গেছে বলে দাবি উঠেছে৷ এ সব কথা শুনলে মনে হবে, গোটা বেলজিয়াম তার হদিশ জানতো৷ শুধু কর্তৃপক্ষই তাকে ধরতে পারলো না৷ তাদের দায়িত্ববণ্টন নিয়ে এতো জটিলতার মধ্যে এমন কাজ করা কঠিন বটে৷

Hofmann Maximilian Kommentarbild App

মাক্স হোফমান



ব্রাসেলস শহরের ১৯টি এলাকার জন্য একটি বা দুটি নয়, মোট ৬টি ভিন্ন পুলিশ কর্তৃপক্ষ রয়েছে৷ তার উপর আছে ভাষা নিয়ে গোলমাল৷ একদল ফ্লেমিশ, অন্যদল ফরাসি বলে৷ একে অপরের ভাষা না বুঝলেই সমস্যা৷

গত কয়েক দশক ধরে মোলেনবেক এলাকায় যে তিলে তিলে উগ্র ইসলামপন্থিদের দৌরাত্ম্য বেড়ে চলেছে, ব্রাসেলস শহর কর্তৃপক্ষ অবশ্যই সে বিষয়ে অবগত ছিল৷ কিন্তু এই প্রবণতার মোকাবিলা করতে তারা বিশেষ পদক্ষেপ নেয়নি৷ মাঝে মধ্যে শুধু কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ ও তল্লাশি চালিয়েই কাজ সেরেছে পুলিশ৷ কয়েক দিন ধরে শহর অচল রেখেও যে তারা কোনো ফল পায়নি, তা শুধু ব্রাসেলস শহরের মানুষের দুশ্চিন্তার কারণ থাকতে পারে না৷ বেলজিয়ামের কর্তৃপক্ষের যোগ্যতার অভাব এর মধ্যে গোটা ইউরোপের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়