বেবুনদের জানতে নিরলস গবেষণা | অন্বেষণ | DW | 14.06.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

বেবুনদের জানতে নিরলস গবেষণা

কেনিয়ার জঙ্গলে বেবুনরা থাকে দল বেঁধে, কেননা, তারা সামাজিক জীব৷ কিন্তু তাদের পরস্পরের প্রতি আচরণ কেমন তা জানার জন্য গবেষকরা বুনো বেবুনদের গলায় জিপিএস-বসানো ট্রান্সমিটার বেঁধেছেন৷

আফ্রিকা৷ কেনিয়ার জঙ্গল৷ মাক্স-প্লাংক ইনস্টিটিউটের একটি আন্তর্জাতিক গবেষক দল এখানে একটি বড় প্রকল্প নিয়ে কাজ করছেন৷ তারা মুক্ত প্রকৃতিতে বসবাসকারী বেবুনদের দিন-রাত পর্যবেক্ষণ করতে চান, যা তাদের আগে অন্য কোনো গবেষক করেননি৷ এজন্য তারা সর্বাধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগ করতে চান৷ বেবুনরা তাদের জটিল সামাজিক সম্পর্ক কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করে, তা জীববিজ্ঞানীদের কাছে এখনও অনেকটাই অজানা৷

প্রাইমেট গবেষক মেগ ক্রোফুট বলেন, ‘‘ একদল প্রাণী কীভাবে একটা আপোশে পৌঁছায়, সিদ্ধান্তে পৌঁছায়, সেটা বোঝা একটা সামাজিক গোষ্ঠীতে বেঁচে থাকার মুখ্য চ্যালেঞ্জ৷''

প্রাইমেট, অর্থাৎ সর্বোচ্চ শ্রেণির স্তন্যপায়ী জীবদের নিয়ে যারা গবেষণা করেন, তাদের অন্যতম মেগ ক্রোফুট৷ তিনি এই বেবুনদের গলায় উচ্চমানের জিপিএস ট্রান্সমিটার বেঁধে দিতে চান, যেটা খুব সহজ কাজ নয়৷ প্রথমে বেবুনগুলোকে মানুষের উপস্থিতি সইয়ে নিতে হবে৷ তারপর তাদের খাবারের লোভ দেখিয়ে কাছে আনতে হবে৷ পরিকল্পনাটা কাজ করবে কিনা, তা ঈশ্বরই জানেন৷ 

মেগ ক্রোফুট বলেন, ‘‘এই প্রথমবার একটি গোটা প্রাইমেট গোষ্ঠীকে ট্র্যাক করা হচ্ছে৷ কিন্তু বেবুনদের গলায় এরকম কলার পরানোর জন্য তো আর তাদের মিষ্টি গলায় জিজ্ঞাসা করা যায় না, তারা কলার পরবে কিনা৷ ওভাবে কাজ হয় না৷ কাজেই আমাদের তাদের ধরতে হবে কিংবা অজ্ঞান করতে হবে৷''

অভিযাত্রী

ভোরবেলায় দলটি বেরোয় জঙ্গল অভিমুখে৷ বেবুনরা এখনও ঘুমোচ্ছে৷ কাজেই বেবুনদের খাবার ঠিক ঠিক জায়গায় রাখার জন্য গবেষকদের হাতে আর বিশেষ সময় নেই৷ বেবুনরা গবেষকদের দেখে ফেললে চলবে না, কেননা, তাহলে ওরা মানুষ দেখলেই ভাববে, এর কাছে খাবার পাওয়া যাবে৷ ফলে বেবুনরা খাবারের খোঁজে গ্রামেও ঢুকতে পারে৷

অনেকটা জায়গা জুড়ে টোপ রাখা হয়েছে৷ বেবুনদের যতটা পরস্পরের থেকে আলাদা রাখা যায়, ততই ভালো৷ সত্যিই বেবুনরা শান্তিতে খেতে শুরু করল৷ কিন্তু তারা কি খাঁচার মধ্যে পা দেবে? মেগ ক্রোফুটের সেটাই চিন্তা৷

মেগ ক্রোফুট বললেন, ‘‘বেবুনরা খুবই সামাজিক৷ তার অর্থ, পুরো দলটা অধিকাংশ সময় খুব কাছাকাছি থাকে, অপেক্ষাকৃত ছোট একটি এলাকা জুড়ে৷ কাজেই একটা সমস্যা ছিল এই যে, একটি বেবুন ফাঁদে পড়লে দলের বাদবাকি বেবুনরা সেটা দেখবে ও শিগগিরই ফাঁদ এড়িয়ে যাওয়ার পন্থাটা শিখে যাবে বা ভয় পেয়ে দৌড় দেবে৷'' 

খাঁচাগুলো জঙ্গলের বিভিন্ন জায়গায় বসানো হয়েছে ও ভেতরে খাবারের টোপ রাখা হয়েছে৷ এখনো পর্যন্ত আর কেউ একসঙ্গে এতগুলো বেবুনকে ধরার চেষ্টা করেনি৷ সেটা কি সম্ভব হবে? অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই৷ বেবুনরা কি ফাঁদে পা দেবে? 

বেবুন ধরা

ধীরে ধীরে তৃণভূমি যেন জেগে উঠছে৷ প্রথম বেবুনরা কাছে আসছে৷ গবেষকরা ঘুমপাড়ানোর ওষুধ ভরা সিরিঞ্জ তৈরি করছেন৷ মেগ ক্রোফুট বললেন, ‘‘আমরা দেখতে পাচ্ছি, বেবুনরা যেসব গাছে ঘুমায়, সেখান থেকে তারা বেরিয়ে আসছে; শুনতে পাচ্ছি, কীভাবে ওরা কচমচ করে দানা খাচ্ছে৷ কাজেই আমরা জানছি যে, ওরা ফাঁদে পড়ার জায়গায় পৌঁছে গেছে৷ আমরা চার-পাঁচটা খাঁচার লোহার দরজা হড়কে নেমে আসার শব্দ শুনতে পেয়েছি৷ মজার কথা, বেবুনরা কোনো চেঁচামেচি করছে না৷ খাঁচার মধ্যে আটকা পড়েও শুধু খেয়েই চলেছে৷ সব কিছু বেশ ঠাণ্ডা, চুপচাপ৷''

অর্থাৎ প্ল্যানটা ঠিকই কাজ করেছে৷ পরের চ্যালেঞ্জ হলো, বেবুনগুলোকে সাবধানে তুলে নিয়ে গিয়ে গলায় জিপিএস ট্রান্সমিটার বসানো কলার পরাতে হবে৷ খানিকক্ষণের মধ্যেই সবগুলো বেবুনকে ছেড়ে দেওয়া হলো৷ এখন তাদের গলার ট্রান্সমিটার আগামী দু'সপ্তাহ ধরে অনবরত তথ্য পাঠাবে৷

সেই তথ্যের প্রাথমিক মূল্যায়নই গবেষকদের চমকে দিয়েছে৷ গোড়ায় মনে হতে পারে যে, দলের ভিতর প্রাধান্যের পরম্পরায় কোনো নড়চড় হতে পারে না, পালের গোদা যা বলে বা করে, বাকিদেরও তাই করতে হবে৷ কিন্তু গবেষকরা অবাক হয়ে দেখছেন যে্, গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলি শেষমেশ সকলে মিলেই নেওয়া হয়৷ সকলের জন্য যদি পর্যাপ্ত খাবার না থাকে আর শুধু কর্তৃত্বের বিচারে ওপর দিকের প্রাণীগুলিই পেট ভরে খেতে পায়, তাহলে সকলে দল বেঁধে অন্য কোথাও যায়৷

গবেষকরা খুশি যে, তাঁরা বেবুনদের আচার-আচরণ বোঝার পথে আরো এক ধাপ এগোতে পেরেছেন৷ তবুও এটা শুধু একটা সূচনা৷ পরের বছর তাঁরা আবার ফিরবেন ও গবেষণা চালিয়ে যাবেন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক