1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

বেপরোয়া পুলিশ, ঘুসের জন্য হত্যা ও নির্যাতন

সরকারের শেষ সময়ে পুলিশ বেপরোয়া হয়ে উঠেছে৷ সাভারে ঘুসের জন্য পুলিশ এক ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ৷ এদিকে, হত্যাকাণ্ডটিতে জড়িত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যেই চার পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গেছে৷

ঢাকার অদূরে সাভারের হেমায়েতপুর এলাকার ব্যবসায়ী শামিম সরকারকে (৩৫) সাভার থানা পুলিশ আটক করে বুধবার রাতে৷ এরপর তাঁর পরিবারের সদস্যদের কাছে রাতের মধ্যেই পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়৷ কিন্তু তাঁরা রাতে টাকাটা দিতে পারেননি৷ বৃহস্পতিবার সকালে ব্যাংক খুললে টাকা তুলে পুলিশকে দেয়ার জন্য পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে গেলে, শামিমের আত্মীয়স্বজন জানতে পারেন যে নির্যাতনে শামিমের মৃত্যু হয়েছে৷ আর তাঁর লাশ ঢাকার মিটিফোর্ড হাসপাতাল মর্গে রেখে এসেছে পুলিশ৷

শামীমের ভাই আমিন সরকার ডয়চে ভেলের কাছে অভিযোগ করেন যে, বুধবার রাতে সাভার থানা থেকে শামিমকে হেমায়েতপুর পুলিশ ফাঁড়িতে নেয়া হয়৷ সেখানে একটি টিনশেড ঘরে পুলিশ সদস্যরা তাঁর ওপর রাতভর নির্যাতন চালায়৷ নির্যাতনে তাঁর মৃত্যু হলে লাশটা মিডফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে গুমেরও চেষ্টা করে৷ কিন্তু মর্গের ডাক্তারদের জন্য তাঁরা সে কাজে ব্যর্থ হয়৷

এই ঘটনায় হত্যা মামলা হলে শুক্রবার সাভার থানার সাব-ইন্সপেক্টর ইমদাদুল হক এবং কনস্টেবল ইউনুস আলি, মো. রমজান ও মোজাম্মেলকে গ্রেপ্তার করা হয়৷ তবে নির্যাতন এবং হত্যার মূল আসামি সহকারী সাব-ইন্সপেক্টর আকিদুল ইসলাম এখনো পলাতক৷ ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন ডয়চে ভেলেক জানান, তারা প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হয়েছেন যে ব্যবসায়ী শামিম সরকারকে ঘুসের জন্য নির্যাতন চালিয়ে পাঁচজন পুলিশ সদস্য হত্যা করেছে৷ তারা পলাতক আকিদুল ইসলামকেও গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হবেন বলে জানান তিনি৷ এছাড়াও তিনি দাবি করেন যে, এই ঘটনার দায় পুলিশ বাহিনী নেবে না৷ যারা অপরাধ করেছে তাদের বিচার হবেই৷

অন্যদিকে, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোল্লা নজরুল ইসলাম এবং ইন্সপেক্টর আজহারুল ইসলাম ও সাব-ইন্সপেক্টর আবুল হাসনাতের বিরুদ্ধে এক ব্যবসায়ীকে নির্যাতন চালিয়ে এক কোটি টাকা ঘুস আদায়ের অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে৷ অভিযোগ, তারা ব্যবসায়ী আবিদুল ইসলামকে তাঁর গুলশানের বাসা থেকে ধরে নিয়ে এসে গোয়েন্দা অফিসে নির্যাতন চালায়৷ তবে তাঁর পরিবার এক কোটি টাকা ঘুস দেয়ার পর তাঁকে ছেড়েও দেয়া হয়৷ এ নিয়ে ব্যাংক থেকে টাকা তোলা এবং গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের টাকা হস্তান্তরের ভিডিও ফুটেজসহ তথ্য প্রমাণ দিয়ে অভিযোগ করার পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়৷ তদন্ত কমিটির প্রধান মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম শুক্রবার ডয়চে ভেলেকে জানান যে তদন্ত এখনো শেষ হয়নি৷ তদন্ত শেষ না হওয়ার আগে বিস্তারিত তিনি কিছু বলতেও রাজি হননি৷ তবে এরই মধ্যে উপ-পুলিশ কমিশনার মোল্লা নজরুল ইসলামকে বদলি এবং ইন্সপেক্টর আজহারুল ইসলাম ও সাব ইন্সপেক্টর আবুল হাসনাতকে গোয়েন্দা বিভাগ থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে৷

আইন ও শালিস কেন্দ্রের পরিচালক নূর খান ডয়চে ভেলেকে বলেন, দুটি ঘটনাই তাঁরা তদন্ত করছেন৷ তাঁদের কাছে মনে হয়েছে, সরকারের শেষ সময়ে পুলিশ বেপরোয়া হয়ে উঠেছে৷ তারা ঘুস আদায়ের জন্য আটক, নির্যাতন এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে৷ তিনি বলেন, সরকার যদি জড়িত পুলিশ সদস্যদের কঠোর শাস্তি এবং দুর্নীতিবাজ পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয় তাহলে পরস্থিতি আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে৷ নূর খান বলেন, সাভারের ঘটনায় সাধারণ মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে সড়ক অবরোধ করেছে, হামলা চালিয়েছে পুলিশ ফাঁড়িতে৷ তাই সাধারণ মানুষ পুলিশের মুখোমুখি অবস্থান নিতে পারে বলে আশঙ্কা৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন